সর্বশেষ
শনিবার ৫ই কার্তিক ১৪২৫ | ২০ অক্টোবর ২০১৮

বিলুপ্তপ্রায় দেশীয় মাছ চাষে সফল জাকির হোসেন

রবিবার, জুলাই ২২, ২০১৮

Pic6.png
সাতক্ষীরা প্রতিনিধি :

বিলুপ্তপ্রায় চ্যাং (টাকি), শোল, কই, চিতল এবং রুই মাছের প্রজাতি টিকিয়ে রাখতে কাজ করে যাচ্ছে সাতক্ষীরার জাকির হোসেন। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে মাস্টার্স জাকির হোসেন কোন চাকরির পিছনে না ছুটে বাণিজ্যিকভাবে দেশী মাছ চাষে সাফল্য পেয়েছেন।

জানা গেছে, এক কাঠা এবং মাত্র পাঁচ কাঠা আয়তনের দুটি পুকুরে দেশি জাতের শোল মাছের চাষ করেছেন তিনি। কম খরচে এক বছরে পাঁচ কাঠা জমিতে শোল মাছ চাষ করে অনেক লাভবান হয়েছেন। দেশি জাতের মাছ যেখানে হারিয়ে যেতে বসেছে সেখানে  সাতক্ষীরার জাকির হোসেন শোল মাছ চাষ করে সবার নজর কেড়ে নিয়েছেন। তার শোল মাছ চাষে সাফল্য দেখে সাতক্ষীরা জেলার অনেক বেকার যুবক বিলুপ্ত প্রায় কই, শোল, চিতল, ফলুই মাছ চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছে।

সাতক্ষীরা জেলা মৎস্য বিভাগের বিভিন্ন তথ্য উপাত্তে দেখা যায়, সাতক্ষীরার চিংড়ি বিদেশে রপ্তানির বাজার দখল করেছে। এখানে উৎপাদিত হচ্ছে সব ধরনের সুস্বাদু সাদা মাছ। চিংড়ির পাশাপাশি কৈ, মাগুর, শিং, শোল, পাঙ্গাশ, মনোসেক্স তেলাপিয়া, কার্পজাতীয় মাছ ছাড়াও জেলা ব্যাপী কাঁকড়া ও কুচিয়ার চাষ ছড়িয়ে পড়েছে।

দেশীয় মাছ চাষ সম্পর্কে জাকির হোসেন বলেন, ‘কীটনাশক ও সার ব্যবহারের ফলে কৈ, মাগুর, শিং, পাবদা, টেংরা, পুঁটি, মলা, ঢেলা, চেলা, শাল চোপরা, শোল, বোয়াল, আইড়, বাইন, খলিসা, চিংড়ি, গজার, , চেং, টাকি, চিতলসহ দেশীয় অনেক মাছ বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। কৃষক পরিবারের জন্ম হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াকালীন সময় থেকে কৃষি আমাকে টানতো। লেখা-পড়া শেষ করে ধানের বীজের ব্যবসা শুরু করি। ব্যবসা ভালো চলছিল। ২০১৫ সালে এসে ধানের বীজের জন্য চাতাল বানাতে গিয়ে দুটি পুকুর তৈরি হয়ে যায়। সেখানে কি মাছ চাষ করবো সেই বিষয় নিয়ে বিভিন্ন বই পড়তে থাকি। অধিকাংশ বইতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে অচাষকৃত রাক্ষুসে মাছ নিধন করুন। সহজে না মরলে বিষ দিয়ে নিধন করুন। আর নিধন করার কথা বলা হয়েছে দেশী মাছগুলো। মাছে ভাতে বাঙালির প্রিয় মাছগুলো নিধন করে পাঙ্গাশ, তেলাপিয়া নাইলোটিকা চাষ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আমার মধ্যে জিদ হলো বিলুপ্ত মাছ চাষ করে সবাইতে দেখিয়ে দেব। সেই থেকে শুরু শোল মাছের চাষ শুরু করি।’

তিনি আরও বলেন, ‘এই দেশের মতো মাটি এবং পানি কোথাও নেই। তাহলে আমি কেন মাছ চাষ অন্য দেশের কাছ থেকে টেকনোলজি ধার নেব। দেশী চ্যাং, শোল এবং বোয়াল মাছ যদি রাক্ষস হয় তাহলে অন্যগুলো হাঙ্গর। শোল, চ্যাং, বোয়াল মাছগুলোকে আমি খুব ভালোবাসি। মমতা দিয়ে দেশী মাছ চাষ করে সাফল্য পেয়েছি। প্রথমে অনেকে আমাকে পাগল বলে আখ্যা দিয়েছিল। এখন অনেকে এই দেশী মাছ চাষে ঝুঁকে পড়ছে। দেশী মাছ চাষে খরচ কম লাভ বেশী। মানুষের কাছেও প্রিয় এই মাছগুলি।’

সাতক্ষীরা জেলা মৎস্য অফিসার মো. শহীদুল ইসলাম বলেন, ‘এখানকার মাটি ও আবহাওয়ার কারণে সব ধরনের মাছ উৎপাদন হয়ে থাকে। তবে গত কয়েক বছর ধরে চিংড়ি ঘেরের সাথেও সাদা মাছ চাষ করছেন চাষিরা। তাছাড়াও পৃথকভাবেও সাদা মাছ উৎপাদন হচ্ছে সাতক্ষীরাতে। চলতি মৌসুমে সাদা মাছের যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে উৎপাদন তার অনেক বেশি।

তিনি আরও বলেন, দেশীয় মাছ রক্ষার জন্য ইতোমধ্যে নানা ধরনের কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। সদরের জাকির হোসেন ব্যক্তি উদ্যোগে শোল মাছ চাষ করে সাফল্য পেয়েছেন। তার সাফল্য দেখে জেলার অনেক যুবক কৈ, চ্যাং, শোল, চিতলসহ বিভিন্ন বিলুপ্তপ্রায় মাছ চাষে উদ্বুদ্ধ হয়েছেন।’

জি এম কামরুজ্জামান
সাতক্ষীরা


ঢাকা, রবিবার, জুলাই ২২, ২০১৮ (বিডিলাইভ২৪) // উ জ এই লেখাটি ৯৪৫ বার পড়া হয়েছে


মোবাইল থেকে খবর পড়তে অ্যাপস ডাউনলোড করুন