সর্বশেষ
বুধবার ২৮শে অগ্রহায়ণ ১৪২৫ | ১২ ডিসেম্বর ২০১৮

জিতলে আমি জার্মান, যখন হেরে যাই তখন শরণার্থী: ওজিল

সোমবার, জুলাই ২৩, ২০১৮

image-73155-1532319579.jpg
বিডিলাইভ ডেস্ক :

জার্মানির বিশ্বকাপজয়ী দলের দুর্দান্ত পারফরমার হয়েও সমালোচনায় অতিষ্ঠ হয়ে মেসুত ওজিল শেষ পর্যন্ত জাতীয় দলকে ‘বিদায়’ বলে দিলেন। বিদায় ঘোষণায় ক্ষোভ-অভিমান ঝেড়েছেন এই তারকা।

রোববার (২২ জুলাই) টুইটারে প্রকাশিত এক সংযুক্ত বিবৃতিতে ওজিল বলেন, জার্মানির হয়ে খেলার আর কোনো ইচ্ছে নেই আমার। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে দোষারোপ আর বর্ণবাদী সমালোচনাকে হেতু বলেন ওজিল।

তার্কিশ বংশোদ্ভূত ওজিল বিশ্বকাপ শুরুর আগে মে মাসে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তৈয়্যব এরদোগানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার পর তাদের একটি ছবি ছড়িয়ে পড়ে অনলাইনে। সেটাকে ‘রাজনৈতিক সাক্ষাৎ’ আখ্যা দিয়ে তুমুল সমালোচনা শুরু হয় ওজিলের বিরুদ্ধে।

এসব সমালোচনার জন্য জার্মান ফুটবল ফেডারেশনকে (ডিএফবি) তুলোধুনো করে ওজিল বলেন, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোগানের সঙ্গে ছবি তোলা আমার জন্য রাজনৈতিক ও নির্বাচন সংশ্লিষ্ট বিষয় ছিল না, এটা আমার পরিবারের দেশের সর্বোচ্চ অফিসকে সম্মান করার মতো বিষয় ছিল।

‘আমার কাজ ফুটবল খেলা এবং আমি কোনো রাজনীতিবিদ নই। আমাদের সাক্ষাৎ মোটেই রাজনৈতিক প্রচারণার অংশ ছিল না। জার্মান ফুটবল ফেডারেশন ও আরও অনেকে আমার সঙ্গে যে আচরণ করেছে তাতে আমার আর জার্মানির জাতীয় দলের জার্সি গায়ে তোলার আগ্রহ শেষ করে দিয়েছে। আমি অবাঞ্চিত বোধ করছি এবং আমি মনে করি ২০০৯ সালে অভিষিক্ত হওয়ার পর যা অর্জন করেছি তা বিস্মৃত হয়ে গেছে’।

জার্মান ফুটবল ফেডারেশনের প্রেসিডেন্ট রেইনহার্ড গ্রিন্দেলকে সরাসরি উদ্দেশ্য করে ওজিল লিখেছেন, যাদের জাতিগত বৈষম্যমূলক অতীত রয়েছে তাদের হাতে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ফুটবল ফেডারেশন, তাদের কাছে দ্বৈত-পরিচয়ের ফুটবলারদের দেখভালের এতো বিশাল দায়িত্ব অর্পণ করা ঠিক নয়। তাদের আচরণ তারা যাদের প্রতিনিধিত্ব করে তাদের প্রতিফলন করে না। গ্রিন্দেল আর তার সমর্থকদের চোখে, আমি যখন জয়ী হই তখন জার্মান আর যখন হেরে যাই তখন আমি (তুরস্কের) শরণার্থী।

এরপরই ওজিল লিখেছেন, যখন আমি বৈষম্যবাদ আর অসম্মানিত বোধ করি তখনই ভারাক্রান্ত হৃদয়ে এবং সাম্প্রতিক ঘটনাবলী মাথায় রেখে জার্মানির হয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আমি আর না খেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমি জার্মানির জার্সি অনেক গর্ব আর উত্তেজনা নিয়ে গায়ে চড়িয়েছি। কিন্তু এখন আর চাই না।

রোববার (২২ জুলাই) তিন ভাগে বিভক্ত ওই বিবৃতিতে গ্রিন্দেলের আচরণ নিয়ে ওজিল লিখেছেন, আমি হতাশ, কিন্তু তার আচরণে আমি মোটেও অবাক হইনি। কিন্তু যখন জার্মান ফুটবল ফেডারেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা আমার তুর্কি শিকড়কে অসম্মান করে এবং স্বার্থপরের মতো আমাকে রাজনৈতিক প্রচারণার অংশ সাব্যস্ত করে, তাহলে সেটা যথেষ্ট সাব্যস্ত হয়।

২৯ বছর বয়সী এই মিডফিল্ডার অনলাইনে হেনস্তার শিকার হয়েছেন এবং সুইডেনের বিপক্ষে ম্যাচের পর সমর্থকদের হাতে বৈষম্যমূলক আচরণের শিকার হয়েছেন বলেও দাবি করেন।

নিজেকে অর্ধেক জার্মান, অর্ধেক তুর্কি বলে অভিহিত করে ওজিল লেখেন, আমার দু’টি হৃদয়, একটি জার্মান আর একটি তুর্কি। তারা (সমালোচক) আমার পারফরম্যান্সের সমালোচনা করে না, তারা দলের পারফরম্যান্স নিয়েও সমালোচনা করে না, তারা শুধু আমার তুর্কি পরিচয় নিয়ে সমালোচনা করে।

জার্মানির তরফ থেকে এমন বাজে আচরণের শিকার হলেও ইংলিশ ক্লাব আর্সেনাল ওজিলের পাশেই আছে। ক্লাবটির সঙ্গে তার চুক্তি নবায়ন হয়েছে। রোববার (২২ জুলাই) সিঙ্গাপুরে প্রাক-মৌসুম প্রস্তুতির জন্য পৌঁছেছে আর্সেনাল।


ঢাকা, সোমবার, জুলাই ২৩, ২০১৮ (বিডিলাইভ২৪) // পি ডি এই লেখাটি ৬৮১৭ বার পড়া হয়েছে


মোবাইল থেকে খবর পড়তে অ্যাপস ডাউনলোড করুন