সর্বশেষ
মঙ্গলবার ৪ঠা পৌষ ১৪২৫ | ১৮ ডিসেম্বর ২০১৮

শাহজাদপুরে জমে উঠেছে ডিঙ্গি নৌকার হাট

বুধবার, জুলাই ২৫, ২০১৮

17.jpg
শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি :

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার কৈজুরীতে জমে উঠেছে জমজমাট ডিঙি নৌকার হাট। আষাঢ়-শ্রাবণ এই দুই মাস বর্ষাকাল হলেও শাহজাদপুরের নদীপাড়ের মানুষের বর্ষার পরেও অনেক দিন নৌকায় চড়েই চলাফেরা করতে হয়।

যমুনা, করতোয়া, বড়াল, হুড়াসাগর আর গোহালা নদীর মতো বেশ ক'টি নদী শাহজাদপুর উপজেলার ওপর দিয়ে প্রবহমান থাকায় অনেক আগে থেকেই কৈজুরীতে নৌকার হাট বসে আসছে। কালের বিবর্তনে কোষা, বজরা, গয়না নৌকার সঙ্গে বড় বড় পণ্যবাহী নৌকার বিলুপ্ত ঘটলেও কৈজুরীতে ডিঙি নৌকার হাট এখনও টিকে আছে।

শাহজাদপুর উপজেলা সদর থেকে ১২ কিলোমিটার পূর্ব দিকে যমুনা নদীর তীরে কৈজুরীতে নৌকার পসরা সাজিয়ে হাট বসছে এখনও। কৈজুরীতে সপ্তাহের সোমবার ও শুক্রবার হাট বসলেও নৌকার হাট বসে শুক্রবার। এ হাট ঘুরে দেখা গেল সড়ক পথে ও নদীপথে হাটে বিক্রির জন্য শতাধিক ডিঙি নৌকা আনা হয়েছে।

পাবনা জেলার বেড়া ও গোবিন্দপুর এবং সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার কৈজুরী, চরকৈজুরী, পাঁচিল, দুগালী, বর্ণিয়া, জামিরতা, গুধিবাড়ি, বেনোটিয়া থেকে বহু মহাজন ডিঙি নৌকা বিক্রির জন্য নিয়ে এসেছেন।

বেশ কয়েকজন নৌকার কারিগর জানান, বর্ষা এলেই এ অঞ্চলে নৌকার চাহিদা বেড়ে যায়। সারা বছর অন্য কাজ করলেও এসময় তারা শুধু নৌকাই তৈরি করেন। বছরের তিন থেকে চার মাস তাদের এ ব্যস্ততা থাকে। এখন দিন-রাত নৌকা তৈরিতেই সময় কাটছে তাদের।

ডিঙ্গি ও কোষাসহ বিভিন্ন ধরনের নৌকা তৈরিতে তারা জামরুল, কড়ই, আম, কদম ও শিমুল  গাছের কাঠ ব্যবহার করেন। নয় ফুট থেকে শুরু করে ১৫ পর্যন্ত লম্বা নৌকা তৈরি করা হয়। কাঠ ও আকার ভেদে নৌকার দামও বিভিন্ন।

নৌকা বিক্রেতা মোঃ আলতাফ হোসেন জানান, নৌকা বিক্রির ব্যবসা বহুকাল আগে থেকেই করে আসছেন। বাড়িতেই তাদের কারখানা রয়েছে। দেশ স্বাধীন হওয়ার আগ থেকেই কিশোর বয়সে বাবার সঙ্গে নৌকা বিক্রি করতে তিনি কৈজুরী হাটে আসতেন। তখন ১২ হাত লম্বা একটি ডিঙি নৌকা ৬শ' থেকে সাড়ে ৬শ' টাকায় বিক্রি হতো। এখন সেটি বিক্রি হচ্ছে ৫ হাজার থেকে সাড়ে ৬ হাজার টাকায়।

নদীপথ বর্ষার পর কমে যাওয়ায় শুধু বর্ষা মৌসুমে নৌকা বিক্রি ভালো হলেও বছরের অন্য সময় ব্যবসা টিকে রাখা কঠিন হয়ে পরে বলে অনেক ব্যবসায়ীর অভিযোগ। তারা আরও বলেন, নৌকার ব্যবসা এখন অনেকটাই মৌসুমি ব্যবসা হয়েছে।

কৌজুরী হাটে নৌকা কিনতে আসা অনেকেই বলেন, গত বছরের তুলনায় এবার নৌকার দাম ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকা বাড়তি। অন্যদিকে নৌকা বিক্রেতারা বলেন, কাঠের দাম বৃদ্ধির কারণেই নৌকার দাম একটু বেড়েছে।

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর থেকে,
ফারুক হাসান কাহার


ঢাকা, বুধবার, জুলাই ২৫, ২০১৮ (বিডিলাইভ২৪) // এস আর এই লেখাটি ৮১৯ বার পড়া হয়েছে


মোবাইল থেকে খবর পড়তে অ্যাপস ডাউনলোড করুন