সর্বশেষ
বুধবার ৪ঠা আশ্বিন ১৪২৫ | ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮

টেনশনমুক্ত আওয়ামী লীগ, স্বস্তি ফিরেছে বিএনপিতে

শুক্রবার, জুলাই ২৭, ২০১৮

Barisal_City_Corporation.jpg
বিডিলাইভ ডেস্ক :

নির্বাচনী প্রচারণার একেবারে শেষ মুহূর্তে এসে বরিশালে টেনশনমুক্ত হয়েছে আওয়ামী লীগ। স্বস্তি ফিরে এসেছে বিএনপিতেও। ভোটের সমীকরণে তাই দুদলই আছে অনেকটা ফুরফুরে মেজাজে। নিজ দলের প্রার্থী বিজয়ী হবেন- এমন বিশ্বাসে বুক বাঁধছেন উভয় দলের নেতাকর্মীরা। এ নিয়ে অঙ্ক কষাও চলছে দল দুটির অভ্যন্তরে। নির্বাচনী মাঠ থেকে জাতীয় পার্টির মেয়রপ্রার্থীকে প্রত্যাহার করে দলটির নেতাকর্মীদের নৌকার প্রার্থীর পক্ষে কাজ করতে এরশাদের নির্দেশে টেনশনমুক্ত হয়েছে আওয়ামী লীগ। দলটির নেতাকর্মীদের বিশ্বাস, নৌকার সামনে আর কোনো বাধা থাকল না। কেটে গেছে টেনশন। মহাজোটের চেহারা আবারো দেখা মিলল বরিশালে।

এর সঙ্গে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী এখনো মাঠে থাকায় বিএনপির একটি বড় ভোট যাবে হাতপাখার বাক্সে। ফলে বিএনপির সঙ্গে আওয়ামী লীগের ভোটের যে ব্যবধান বরিশালে রয়েছে তা পুরোপুরি কেটে যাবে। জাতীয় পার্টির ভোট আওয়ামী লীগের বাক্সে জমা হওয়ার ক্ষেত্র তৈরি হওয়ায় আওয়ামী লীগ প্রার্থী সাদিক আবদুল্লার বিজয়ের পথে প্রধান বাধা কেটে গেল। যে সমীকরণে অনেকটাই টেনশনমুক্ত হয়েছে আওয়ামী লীগ।

এদিকে বরিশাল বিএনপির নেতা, কর্মী, সমর্থক ও নির্বাচনে প্রচারণাকারীদের হয়রানি ও গ্রেপ্তার না করতে গতকাল বৃহস্পতিবার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। উচ্চ আদালতের এ নির্দেশনার পর স্বস্তি ফিরে এসেছে বিএনপিতে।

এতদিন আত্মগোপনে থাকা দলটির নেতাকর্মীরা এবার জনসম্মুখে বের হতে শুরু করেছেন। রায়ের পরপরই নগরীর সদর রোডে জেলা ও মহানগর কার্যালয়ে নেতাকর্মীদের উপচেপড়া ভিড় দেখা গেছে। গত ১০ জুলাই প্রচারণা শুরু হওয়ার পর থেকে দলীয় কার্যালয়টিতে নেতাকর্মীদের তেমন আনাগোনা ছিল না। গ্রেপ্তার আতঙ্কেই এ কার্যালয়মুখী হতেন না নেতাকর্মীরা- এমনটিই জানিয়েছেন শাহীন নামের বিএনপির এক জেলা পর্যায়ের নেতা।

বিএনপির মেয়রপ্রার্থী মজিবর রহমান সরোয়ারের এক রিটের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি মো. আশরাফুল কামালের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ গতকাল বৃহস্পতিবার পুলিশের মহাপরিদর্শক, বরিশালের পুলিশ কমিশনারকে এ নির্দেশ দেন।তারপরও বিএনপি প্রার্থী মজিবর রহমান সরোয়ার পুলিশের বিরুদ্ধে নেতাকর্মীদের হয়রানির অভিযোগ করেন। ৩০নং ওয়ার্ড যুবদল সহসভাপতি জসিমকে আটক করে ভুয়া মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর পাশাপাশি নগরীর কাউনিয়ায় গণসংযোগকালে ৪ কর্মীকে গ্রেপ্তারের অভিযোগ করেন তিনি।

সরোয়ারের অভিযোগকে ভিত্তিহীন দাবি করে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা বলরাম পোদ্দার বলেন, প্রতিটি নির্বাচনী এলাকায় সুষ্ঠু ভোট নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও অবৈধ অস্ত্রধারীদের গ্রেপ্তার করে। এটা তাদের রুটিন ওয়ার্ক। বিএনপির মধ্যে যদি তেমন কেউ থাকেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাকে গ্রেপ্তার করতে পারে।

অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ যা-ই থাকুক না কেন, বরিশালে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি যে এখন বুকভরা নিঃশ্বাস নিচ্ছে তা দলটির নেতাকর্মী ও সমর্থকদের বক্তব্যে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম আব্বাস চৌধুরী দুলাল বলেন, বরিশাল কি আর এখন বিএনপির ঘাঁটি আছে? নিশ্চয়ই না। এখানে আওয়ামী লীগ অতীতের যে কোনো সময়ের তুলনায় শক্তিশালী। ইনশাল্লাহ নৌকার প্রার্থী সাদিক আবদুল্লাহই জয়ী হবে। অন্যদিকে বরিশাল জেলা (দক্ষিণ) বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম শাহিন বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠু হলে ধানের শীষের পরাজিত হওয়ার কোনো কারণ দেখছি না। সূত্র: ভোরের কাগজ


ঢাকা, শুক্রবার, জুলাই ২৭, ২০১৮ (বিডিলাইভ২৪) // পি ডি এই লেখাটি ৭২১ বার পড়া হয়েছে


মোবাইল থেকে খবর পড়তে অ্যাপস ডাউনলোড করুন