সর্বশেষ
বুধবার ১১ই আশ্বিন ১৪২৫ | ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮

বরিশালে এজেন্ট সংকটে পাঁচ মেয়র প্রার্থী

শনিবার, জুলাই ২৮, ২০১৮

10.jpg
বিডিলাইভ ডেস্ক :

ভোটযুদ্ধের শেষ মুহূর্তে এসে সংকটে পড়েছেন বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনের পাঁচ মেয়র প্রার্থী। আওয়ামী লীগের প্রার্থীর এজেন্ট নিয়ে কোনো সমস্যা না থাকলেও বিএনপিসহ অন্যান্য দলের মেয়র প্রার্থীরা সব কেন্দ্রের জন্য পোলিং এজেন্ট খুঁজে পাচ্ছেন না। এজেন্ট হওয়ার জন্য তাদের প্রস্তাবে রাজি হচ্ছেন না অনেকেই। এমনকি দলীয় পদে থাকা নেতাকর্মীরাও কেউ কেউ এজেন্ট হতে রাজি নন।

নির্বাচন কমিশনের হিসাবে, বরিশাল সিটিতে এবার ১২৩টি ভোটকেন্দ্রে পোলিং বুথ রয়েছে ৭৫০টি। অর্ধেক পোলিং বুথ নারীদের জন্য। প্রতিটি বুথে প্রার্থীরা একজন করে এজেন্ট দিতে পারবেন। জাল ভোট ঠেকানোসহ কেন্দ্রের মধ্যে সংঘটিত নানা অনিয়ম ঠেকাতে পোলিং এজেন্ট খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তবে পাঁচ মেয়র প্রার্থী সব বুথের জন্য এজেন্ট খুঁজে পাচ্ছেন না।

এ সংকটের জন্য বিএনপি, জাতীয় পার্টি ও বাসদের প্রার্থী পুলিশ প্রশাসন ও আওয়ামী লীগ কর্মীদের হুমকি, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও নানা হয়রানিকে দায়ী করছেন। তবে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সব ভোটকেন্দ্রে পুরুষ বুথে এজেন্ট দিতে পারলেও নারী বুথে পর্যাপ্ত নারী এজেন্ট দিতে পারছেন না তারা। এসব বুথে তারা পুরুষ এজেন্ট দেওয়ার চেষ্টা করছেন।

গতকাল শুক্রবার বরিশালে আঞ্চলিক নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মেয়র প্রার্থীসহ ছয় প্রার্থীকে নিয়ে বৈঠকে বসেন নির্বাচন কমিশনার মো. মাহবুব তালুকদার। বৈঠকে প্রশাসন ও আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন অন্যরা। তাদের দাবি, নির্বাচনী পরিবেশ আর নেই। লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নষ্ট হয়ে গেছে। ভোটের আছে আর দুই দিন। এ অবস্থায় নির্বাচনের স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে ইসির কাছে দাবি জানিয়েছেন তারা। বিএনপির প্রার্থী মজিবর রহমান সরোয়ারের বিরুদ্ধে আচরণবিধি লঙ্ঘনসহ নানা অভিযোগ করেছেন আওয়ামী লীগ প্রার্থী সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ। স্থানীয় সূত্রগুলো জানায়, বিএনপি-সমর্থিত অন্তত তিনজন কাউন্সিলর প্রার্থী নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন।

২৬ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী ফরিদ উদ্দিন আহমেদ বসে যাওয়ার ঘোষণা দিলেও এখনও প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আছেন। অভিযোগ ছিল, একদিকে তাদের প্রলোভন দেখানো হচ্ছে, অন্যদিকে হুমকি-ধমকি দেওয়া হচ্ছে। মূলত এই কারণে বিএনপির মেয়র প্রার্থীর সম্ভাব্য এজেন্টরাও এলাকা ছেড়ে গেছেন বলে দাবি করা হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মাদ্রাসা শিক্ষক বলেন, শহরের অবস্থা ভালো মনে হচ্ছে না। ফলে দলীয় পদে থেকেও এজেন্ট হওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে পারছি না।

নির্বাচন শেষ হওয়ার আগে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়া কাউকে গ্রেপ্তার না করতে উচ্চ আদালতের নির্দেশ থাকার কথা বিএনপি নেতারা জানালেও গত দুই দিনে সিটি করপোরেশনের তিনটি থানায় একাধিক চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করা হয়েছে। প্রায় সব মামলায় আসামি বিএনপি ও এর বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মী। এর মধ্যে কাউনিয়া থানায় জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদকসহ ৩৯ জনকে আসামি করে জনৈক বেলাল হোসেন একটি মামলা করেছেন। এজাহারে বলা হয়েছে, ২৫ জুলাই রাত দেড়টার সময় এই ৩৯ জনসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১৫-২০ জন তার পথরোধ করে চাঁদা চায় এবং তাকে মারধর করে।

এসব মামলার বিষয়ে জানতে চাইলে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের মুখপাত্র ও সহকারী কমিশনার নাসির উদ্দিন মল্লিক কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। এদিকে বিএনপির একটি সূত্র জানিয়েছে, বৈরী পরিস্থিতিতেও তারা কেন্দ্রে এজেন্ট দেওয়ার কিছু কৌশল নিয়েছেন। তবে সেই কৌশল কতটা সফল হবে, তা নিয়ে নিজেরাই সন্দিহান।

আরেকটি সূত্র জানিয়েছে, খুলনা ও গাজীপুর সিটি নির্বাচনের অভিজ্ঞতা মাথায় রেখে বিএনপি কিছু কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। কৌশলগত কারণে তা প্রকাশ করা হচ্ছে না। তবে শহরের কয়েকজন নেতার বাসায় গতকাল দলীয় পোলিং এজেন্টদের প্রশিক্ষণ দিয়ে শহরের বাইরে পাঠানো হচ্ছে। ভোটের দিন তারা কেন্দ্রে থাকবেন।

এজেন্ট সংকটের বিষয়ে জানতে চাইলে বরিশাল জেলা (দক্ষিণ) বিএনপির সভাপতি এবায়দুল হক চান বলেন, বৃহস্পতিবার থেকে শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত ১০, ২৪ ও ২৭ নম্বর ওয়ার্ডে বিএনপির নেতাকর্মীদের বাড়িতে পুলিশ অভিযান চালিয়েছে। বিএনপিপন্থি আইনজীবী কাজী এনায়েত হোসেন জানিয়েছেন, গতকাল শুক্রবার নগরীর তিন থানা থেকে বিএনপির ২৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

এদিকে আওয়ামী লীগ গতকাল অভিযোগ করেছে, সিলেটের মতো বিএনপির সন্ত্রাসীরা বরিশালেও আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে আগুন দিতে পারে। তবে সুষ্ঠু ভোট গ্রহণের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের ওপর তাদের পরিপূর্ণ আস্থা রয়েছে।
সূত্র: সমকাল


ঢাকা, শনিবার, জুলাই ২৮, ২০১৮ (বিডিলাইভ২৪) // এস আর এই লেখাটি ৩৫০ বার পড়া হয়েছে


মোবাইল থেকে খবর পড়তে অ্যাপস ডাউনলোড করুন