সর্বশেষ
শনিবার ৭ই আশ্বিন ১৪২৫ | ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮

লক্ষণ ভৌমিক পেলেন প্রধানমন্ত্রীর ৫টি পুরস্কার

বনায়নে দেশসেরা

শনিবার, জুলাই ২৮, ২০১৮

কককক.jpg
নওগাঁ প্রতিনিধি :

লক্ষণ চন্দ্র ভৌমিক, পদবী- ধামইরহাট উপজেলা বনবিট কর্মকর্তা। বনায়নে রয়েছে তাঁর অসাধারণ কৃতিত্ব। বনায়ন করেছেন প্রায় অর্ধ কোটির অধিক বৃক্ষরাজি। আর এই বিরল কৃতিত্বের স্বীকৃতি স্বরুপ মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিকট থেকে পেয়েছেন দেশ সেরা বনবিট কর্মকর্তার ৫টি পুরস্কার।

দেশ সেরা এই বনবিট কর্মকর্তা লক্ষণ চন্দ্র ভৌমিক জানান, তিনি চাকুরীতে ১৯৮৩ সালে বনকর্মী পদে বনবিভাগে যোগদান করেন। যোগদানের পর তাঁর সিনিয়র কর্মকর্তাগণ লক্ষণ চন্দ্র ভৌমিকের অসাধারণ কর্মকান্ডে ব্যাপক খুশি হন। তাকে দেয়া দায়িত্ব তিনি শেষ না করে বাড়ি ফিরতেন না। রাত-বিরাত কঠোর পরিশ্রম আর চাকুরীকে নিজের পরিবার মনে করেছেন তিনি। এরই ফলশ্রতিতে ১০ বছর পর লক্ষণ চন্দ্র ভৌমিক ১৯৯৩ সালে বনবিট কর্মকর্তা হিসেবে নওগাঁ জেলার নিয়ামতপুর উপজেলায় যোগদান করেন।

পরবর্তী ২০০৪ সালে কিছুটা গাছ-পালা বিহীন ধামইরহাট উপজেলায় যোগদান করেন। এই উপজেলায় আসার পরে তিনি পতিত জমি, সরকারী খাস জমি, নদী-খাড়ি, বিভিন্ন স্কুল-কলেজ বনায়নে পুরো ধামইরহাট বৃক্ষরাজিতে ভরে তোলেন। তার হিসেব মতে খয়ের ব্লক বাগান, রাস্তার পার্শে আমচারা বনায়ন, বাঁশ,বেত বাগান, বিরলপ্রজাতির মহুয়া, হিজল, জারুল, পিতৃরাজ, বনজাম এবং এনরিচমেন্ট প্লানটেশন প্রকল্পে বিভিন্ন ঔষধি গাছ যেমন আমলকি, হরতকি, বহেরা,ঢেউয়া, গামার-গর্জনসহ প্রায় ৫০ লক্ষাধিক চারা রোপণ করেছেন।

তিনি তৈরী করেছেন প্রায় ১৫ হাজার উপকারভোগী, যারা কিনা সামাজিক বনায়ন কার্যক্রমে গাছ-পালা পরিচর্যা করেন এবং এরই ফলশ্রতিতে উপকারভোগীরা সামাজিক বনায়নে তাদের হিস্যার অর্থ পেয়ে তারা এখন স্বাবলম্বী।

এছাড়া তিনি বনের গাছ-পালা রক্ষায় বনদস্যুদের নিয়ে মত বিনিময় করে তাদের নিজস্ব জমিতে গাছরোপন এবং সরকারী বনভূমিতে তাদের উপকারভোগী হিসেবে নিয়োগ করে রক্ষা করেন উপজেলা সবুজ বন। শুধু তাই নয় তিনি বনবিভাগের বিভিন্ন জায়গা বেদখল থেকে রক্ষা করেছেন ৮শত একর বনভূমি। উদ্ধার করেছেন সোনাদিঘী নামক বিশাল জলাশয়-যেখান থেকে সরকার ১০-১২ লাখ টাকা বাৎসরিক রাজস্ব পেয়ে থাকেন।
         
উপকারভোগীদের নিয়ে গাছ পরিচর্যা ও রক্ষনাবেক্ষনে নিয়মিত মতবিনিময় সভা-সেমিনার, উঠান বৈঠক করেই চলেছেন। সামাজিক বনায়ন কর্মসূচি একদিকে যেমন একটি পরিবারের দারিদ্র বিমোচনে মুখ্যম ভূমিকা রাখছে, অন্যদিকে ছেলে-সন্তানদের পড়ালেখাসহ আলোরমুখ দেখছে অসহায় ওইসব পরিবার।

নদী-নালা-খালবিলসহ প্রায় ১ হাজার কিলোমিটার জুড়ে লাগিয়েছেন বৃক্ষরাজি। রক্ষা করেছেন বিলুপ্ত হওয়া ২শত বছরের প্রাচীন শালবন। রোপণ করেছেন হারিয়ে যাওয়া অনেক গাছের চারা।

এত কিছুর পর সর্ব প্রথম ২০১০ সালে, ২য় ২০১১, ৩য় ২০১৩, ৪র্থ ২০১৪ ও ২০১৫ সালে ৫ম বারের মত মাননীয় প্রধানমন্ত্রী হাত থেকে বৃক্ষরোপণে দেশ সেরা হয়ে প্রধানমন্ত্রীর ১ম পুরস্কার গ্রহণ করেছেন, উজ্জল করেছেন ধামইরহাট উপজেলাকে।

এই উপজেলায় রয়েছে আলতাদিঘী জাতীয় উদ্যান যেখানে মাননীয় হুইপ মো. শহীদুজ্জামান সরকার এম.পি’র নির্দেশনায় শোভাবর্ধনের জন্য দিঘীতে লাল শাপলাসহ পদ্ম লাগিয়ে বৃদ্ধি করেছেন সৌন্দর্য্য, আসছে হাজার পর্যটক।

এ বিষয়ে ধামইরহাট উপজেলার সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ এম এম ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ মো. শহীদুল ইসলাম বলেন, বনায়নে আমার কলেজটিও ২০১৫ কলেজ পর্যায়ে ১ম হয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনার নিকট থেকে পুরুস্কার গ্রহণের সুযোগ হয়েছিল, বনবিট কর্মকর্তা পরামর্শ মোতাবেক এই কলেজটিতে আরও বনায়ন করা হয়েছে, তাঁর মত বিচক্ষণ কর্মকর্তা না থাকলে ধামইরহাট উপজেলা বনশুন্য হয়ে যেত।

ধামইরহাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ সফিউজ্জামান ভুইয়া বলেন, একজন সফল কর্মকর্তা বনবিট অফিসার লক্ষণ চন্দ্র ভৌমিক, মধ্যরাতে বন রক্ষায় ঝুকি নিয়ে দায়িত্ব পালনের স্বীকৃতি হিসেবে পেয়েছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ৫টি পুরস্কার, এমন কর্মকর্তা বাংলাদেশে বিরল।  

বনবিট কর্মকর্তা লক্ষণ চন্দ্র ভৌমিক বলেন, বনই আমার পরিবার, গাছই আমার সন্তান, তাই তাদের গায়ে আচর লাগলে আমার বুকে আঘাত লাগে, জীবনের বাকিটা সময় বনবিভাগের সেবায় উৎস্বর্গ করে দিতে চাই। উল্লেখ্য চলতি বছরে সারা দেশ হতে ধামইরহাট উপজেলা থেকে সামাজিক বনায়নে ২ জন শ্রেষ্ঠ উপকারভোগী নির্বাচিত হয়েছেন।

চলতি মাসের গত ১৮ জুলাই দেশব্যাপী বৃক্ষরোপণ অভিযান ২০১৮ এ মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিকট থেকে ধামইরহাট উপজেলার ইসবপুর ইউনিয়নের আমজাদ হোসেন ও মরিয়ম বেগম নামে ২ জন শ্রেষ্ঠ উপকারভোগী তাদের লভ্যাংশের শেয়ারের ১২ লাখ ৪০ হাজার টাকার চেক গ্রহণ করেছেন বলে বনবিট কর্মকর্তা লক্ষণ চন্দ্র ভৌমিক জানান।


ঢাকা, শনিবার, জুলাই ২৮, ২০১৮ (বিডিলাইভ২৪) // পি ডি এই লেখাটি ৩৭২ বার পড়া হয়েছে


মোবাইল থেকে খবর পড়তে অ্যাপস ডাউনলোড করুন