সর্বশেষ
মঙ্গলবার ৪ঠা পৌষ ১৪২৫ | ১৮ ডিসেম্বর ২০১৮

গরু মোটাতাজাকরণে করে ভাগ্যের পরিবর্তন এসেছে চিরিরবন্দরের খামারিদের

বুধবার, আগস্ট ১, ২০১৮

Pic6.jpg
মোহাম্মদ মানিক হোসেন, চিরিরবন্দর প্রতিনিধি :

আর মাত্র কদিন পর ঈদুল আযহা (কুরবানির ঈদ) তাই গরু মোটাতাজাকরণ প্রক্রিয়া নিয়ে ডেইরী ফার্মগুলো ব্যস্ত সময় পার করছে । দিনাজপুরের চিরিরবন্দর  উপজেলায় প্রায় দেড় শতাধিক ডেইরী ফার্ম রয়েছে । এই ডেইরী ফার্মগুলোতে  ষাঁড় মোটাতাজাকরন  ও গাভী পালন করা হয় । কুরবানির ঈদকে লক্ষ্য রেখে বাড়ীগুলোতেও  গরু মোটাতাজাকরণ করা হয় । উপজেলার কুরবানির পশুর চাহিদা মিটিয়ে রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় কুরবানির পশুর চাহিদা মিটিয়ে আসছে গো-খামারিরা।
 
অল্প সময়ে কম পরিশ্রমে ষাঁড় মোটাতাজাকরণ লাভজনক হওয়ায় অনেক বেকার যুবক ডেইরী ফার্মের পাশাপাশি হোল্ডিং বাড়ীতে এই গরু পালন করছে । একদিকে  যেমন নিজের বেকারত্ব দূর হচ্ছে অন্য দিকে দেশীয় আমিষের চাহিদা পূরণ হচ্ছে । উন্নত জাতের গরুর পালনের পাশাপাশি দেশীয় প্রজাতির গরুর মোটাতাজাকরণ করা হচ্ছে । কাচা ঘাস, চপর, বুসি, আকারী ,খুদি চালের ভাত, ফিট , ভুট্টার গুড়া ,শুকনো খড়সহ ভিটামিন , মিনারেল এবং শর্করা জাতীয় খাবার সরবরাহ করা হয় ।

এদিকে বাজার থেকে ছোট আকারের ষাঁড় ক্রয় করে আনার পর লিভারমিজল, ট্রাইক্ল্যাবেন্ডাজল, এলবেন্ডাজল, ফেনবেন্ডাজল, নাইটসিনিল গ্রুপের কৃমিনাশক ঔষধ ব্যবহার করা হয় । এরপর নিয়মিত গো খাবার ও পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং নিয়মিত গোসল করানো হয়।  চার থেকে ছয় মাস পালন করার পর গরুর মোটাতাজাকরণ সম্পূর্ণ হয় । বিভিন্ন ফার্মে গরুর ক্রেতারা তাদের ইচ্ছামত গরু দেখে গরু ক্রয় করতে পারে । এ ছাড়াও হোল্ডিং বাড়ীতে ক্রেতারা গিয়ে গরুর ক্রয় করে নতুবা পার্শ্ববর্তী হাটেও গরু বেচাকেনা করা হয় ।

উপজেলার পশু সম্পদ কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন এলাকায় পশু চিকিৎসকেরা  গরুর খামারিদের খামারে গিয়ে চিকিৎসা সেবা প্রদান করায় এই এলাকায় গরু মোটাতাজাকরণ গো খামারের সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে । ঈদুল আযহাকে সামনে রেখে গো মোটাতাজাকরণ খামারের শ্রমিকেরা ব্যস্ত সময় পার করছে । গরু পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা  রাখাসহ সুষম খাবার সরবরাহ করছে শ্রমিকেরা । গরুর ব্যবসায়ীরা  ডেইরী ফার্ম থেকে গরু ক্রয় করে বিভিন্ন হাট বাজারে নিয়ে যায় । সেই সাথে পশু চিকিৎসক দ্বারা গরু পরীক্ষা করে সুস্থ ,সবল , গরু সরবরাহ করার চেষ্টা করে ব্যবসায়ীরা ।  কুরবানি উপলক্ষে ৪ থেকে ৬ মাস আগে থেকে গরু মোটাতাজাকরণ প্রক্রিয়া হাতে নেওয়া হয় । এরপর কুরবানির ৪/৫ দিন আগ থেকে বিক্রি করে দেওয়া হয় । হোল্ডিং বাড়ীতে গরুর মোটাতাজাকরণ কাজে বাড়ীর সকল সদস্যরা সহযোগিতা করে থাকে । এখানেও ৪/৫ মাস আগে ষাঁড় জাতীয় ছোট আকৃতির গরু  ক্রয় করে বাড়ীতে আনার পর পালন করে । কুরবানির ঈদের আগে বাড়ী থেকেও গরু  বিক্রি হয়ে যায় ।

উপজেলা ভারপ্রাপ্ত প্রানী সম্পদ কর্মকর্তা ভেটেরিনারি সার্জন বিপুল কুমার চক্রবর্তী জানান, উপজেলা পশু সম্পদ  কর্মকর্তাদের সহযোগিতা ও পরামর্শে গরু মোটাতাজাকরণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। এই উপজেলায় এবারে প্রায় ৯ হাজার গরু মোটাতাজাকরণ করা হয়েছে । শুধুমাত্র সুষম গো খাবার সরবরাহ করে এই অঞ্চলের গরু মোটাতাজাকরণ  করার কারণে কুরবানির পশুর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে । সেই সাথে স্বল্প পুঁজিতে হোল্ডিং বাড়ীতে গরু মোটাতাজাকরণ করে নিজেরদের ভাগ্যের পরিবর্তন করছে অনেক বেকার যুবক।


ঢাকা, বুধবার, আগস্ট ১, ২০১৮ (বিডিলাইভ২৪) // উ জ এই লেখাটি ২০১৬ বার পড়া হয়েছে


মোবাইল থেকে খবর পড়তে অ্যাপস ডাউনলোড করুন