সর্বশেষ
শনিবার ১লা পৌষ ১৪২৫ | ১৫ ডিসেম্বর ২০১৮

দিনাজপুরে একজনকে হত্যা করায় হত্যাকারীকেও জীবন্ত পুড়িয়ে হত্যা

বৃহস্পতিবার, আগস্ট ৯, ২০১৮

uuuu.png
শাহ্ আলম শাহী, দিনাজপুর থেকে :

দিনাজপুরের বীরগঞ্জে সুরুজ মিয়া নামে এক নৈশ প্রহরীকে কুপিয়ে হত্যার জেরে বিক্ষুদ্ধ জনতা হত্যাকারী রবিউল ইসলামকে জীবন্ত আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করেছে। এ সময় রবিউলের বাড়িতেও আগুন লাগিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছে বিক্ষুদ্ধ জনতা।

সুরুজ মিয়া (৪৫)কে হত্যার সময় শহীদ মিয়া (৪২) নামে একজন নৈশ প্রহরি এবং তার শিশু পুত্র একরামুল হক শামিমকে কুপিয়ে আহত করেছে রবিউল। নিহত সুরুজ মিয়া বীরগঞ্জ জগদল হাটপুকুর জেলগেট এলাকার মৃত আবুল কাশেমের ছেলে। আর বিক্ষুদ্ধ জনতার হাতে জীবন্ত পুড়িয়ে হত্যার শিকার রবিউল ইসলাম (২৫) একই এলাকার তারা মিয়ার ছেলে।

সুরুজ মিয়াকে হত্যার ঘটনাটি ঘটেছে, আজ বৃহস্পতিবার ভোর সাড়ে ৫টায়  শালবাগান জেলখানা গেট নামক  এলাকায়। আর হত্যাকারী রবিউলকে বিক্ষুদ্ধ জনতা পুড়িয়ে হত্যা করেছে আজ বৃহস্পতিবার সকাল ৮টায়। হত্যাকান্ডের ঘটনায় বিক্ষুদ্ধ জনতা সকাল ৯টা পর্যন্ত দিনাজপুর পঞ্চগড় মহাসড়ক অবরোধ করে রাখে। এ ঘটনায় এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
 
ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন, বীরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাকিলা পারভীন।

প্রত্যক্ষদর্শী ও এলাকাবাসী জানিয়েছেন, রবিউল ইসলাম (২৫) ভোর সাড়ে ৫টায় ধারাল অস্ত্র নিয়ে পৌরসভার রাস্তা নির্মানের তাবুতে গিয়ে নৈশ প্রহরী সুরুজ আলী (৪৫) কে এলোপাথারি কুপিয়ে খুন করে। খুনি রবিউল সেখান থেকে পৌরসভা হাটের দোকানে নৈশ প্রহরী শহীদ মিয়া (৪২) ও তার ছেলে একরামুল হক (৩) কে এলোপাথারি কুপিয়ে আহত করে পালিয়ে যায়। আহত শহীদ মিয়া ও শিশুপুত্র আহত একরামুলকে গুরুতর অবস্থায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে তাদের রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়।

খুনি রবিউল পালিয়ে বাড়িতে গিয়ে রক্তমাখা কাপড় পাল্টিয়ে পালিয়ে যায়। বিক্ষুদ্ধ জনতা হত্যার বিচারের দাবিতে ২০/২৫টি রাস্তার গাছ কেটে ঢাকা-পঞ্চগড় মহাসড়ক আবরোধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। এ সময় খুনি রবিউলের বসতবাড়ী ভেঙ্গে গুড়িয়ে দিয়ে তাকে ধাওয়া করে ১৩ মাইল গড়েয়া বাজার থেকে ধরে এনে সাবজেলের সামনে পুলিশের উপস্থিতিতে মারপিট করে। পরে তার শরীরে রাস্তার কাজের গরম পিচ ঢেলে আগুন ধড়িয়ে পুড়িয়ে দেয়। সংবাদ পেয়ে দিনাজপুর থেকে দমকল বাহিনীর একটি ইউনিট এসে আগুন নিয়ন্ত্রণ করে। পুলিশ ২টি লাশের সুরতহাল লিপিবদ্ধ করে ময়না তদন্তের জন্য দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করে। পুলিশ খুনি রবিউলের মা-রওশনারা বেগম ও বোন সুলতানাকে গ্রেফতার করেছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, খুনি রবিউল এর আগে গত রমজান মাসে আলহাজ্ব হামিদুল ইসলামের মার্কেটের চা-দোকানদার বশির উদ্দিন (৪২) কে রাতে বাড়ির সামনে অন্ধকারে কুপিয়ে খুন করে। গত ৬ আগস্ট একই এলাকার লাল মিয়ার ছেলে কালা মিয়া (৩০) কে ধারাল অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে আহত করে। কালা মিয়াকে কুপিয়ে আহত করার ঘটনায় গ্রামবাসী ঢাকা-পঞ্চগড় মহাসড়ক অবরোধ করে। সংবাদ পেয়ে জাতীয় সংসদ সদস্য মনোরঞ্জন শীল গোপাল ঘটনাস্থলে এসে খুনি রবিউলকে ২৪ ঘন্টার মধ্যে গ্রেফতার করার নিদের্শ দেন এবং বিচারের আশ্বাস দিলে উত্তেজিত জনতা অবরোধ তুলে নেয়।

ঘাতক রবিউলকে পুড়িয়ে হত্যার পর এলাকা নিরাপদ হয়েছে দাবি করে অনেককে আনন্দে উল্লাস প্রকাশ করে।
 
সকাল ৯টার দিকে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। দমকলকর্মীদের সহায়তায় আগুন নিভিয়ে রবিউলের পুড়ন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। প্রায় ৩ ঘন্টা পর সকাল ৯টায় যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে। দিনাজপুর পুলিশ সুপার হামিদুল আলম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।


ঢাকা, বৃহস্পতিবার, আগস্ট ৯, ২০১৮ (বিডিলাইভ২৪) // পি ডি এই লেখাটি ৩৭৯৬ বার পড়া হয়েছে


মোবাইল থেকে খবর পড়তে অ্যাপস ডাউনলোড করুন