সর্বশেষ
রবিবার ৮ই আশ্বিন ১৪২৫ | ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮

এই বাড়িতে থাকতেন বঙ্গবন্ধু, ৪২টি দেশের কূটনীতিকদের বিস্ময়

শনিবার, আগস্ট ১৮, ২০১৮

danmondi-20180818223437.jpg
বিডিলাইভ ডেস্ক :

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ধানমন্ডির ৩২ নম্বরের বাড়িতেই থাকতেন এ কথা জেনে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত বিদেশি কূটনীতিকরা।

শনিবার বিকালে ৩২ নম্বরের বাড়িতে আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিক উপ-কমিটির সঙ্গে বিভিন্ন দেশের কুটনীতিকদের এক বৈঠকে এমন বিস্ময় প্রকাশ করেন ৪২টি দেশের কূটনীতিকরা। ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে আন্তর্জাতিক উপকমিটির নেতারা ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে কেন হত্যা করা হয় সে বিষয়টিসহ হত্যার সঙ্গে সেনা কর্মকর্তাদের সঙ্গে জিয়াউর রহমানের জড়িত থাকার তথ্য কূটনীতিকদের অবহিত করেন।

এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিক সম্পাদক শাম্মী আহমেদ বলেন, ৪২টি দেশের কূটনীতিকদের সঙ্গে আমরা বৈঠক করেছি। এই বৈঠকে রাজনৈতিক কোনও আলাপ হয়নি। ১৫ আগস্টের পুরো ঘটনা বিদেশি কূটনীতিকরা তেমন বেশি কিছু জানেন না। তাদের কাছে মূল ফ্যাক্ট (ঘটনা) তুলে ধরার চেষ্টা করেছি এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে।

শাম্মী বলেন, ‘এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যে জিয়া (সাবেক সেনা কর্মকর্তা, রাষ্ট্রপতি ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান) জড়িত ছিলেন সে তথ্য আমরা কূটনীতিকদের জানিয়েছি। বঙ্গবন্ধুর খুনী ফারুক ও রশীদ দেশি-বিদেশি সংবাদ সংস্থাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এই হত্যাকাণ্ডে জিয়া জড়িত থাকার কথা যে অবলীলায় স্বীকার করেছেন সেসব ডক্যুমেন্টস কূটনীতিকদের কাছে সরবরাহ করা হয়েছে।’

এসময় বঙ্গবন্ধু এই বাড়িতে থাকতেন তা জেনে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন কূটনীতিকরা বলে জানান শাম্মী।

বৈঠক সূত্র জানায়, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বিদেশে পালিয়ে থাকা বঙ্গবন্ধুর খুনীদের দেশে ফিরিয়ে আনতে কূটনীতিকদের সহযোগিতা কামনা করেন। তিনি ঘটনার পরম্পরা বিশ্লেষণ করে কূটনীতিকদের বুঝিয়ে দেন‑এই ঘটনায় কিভাবে জিয়া জড়িত ছিলেন।

সরকার দলীয় সংসদ সদস্য ফজলে নূর তাপস ১৫ আগস্টের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের বিবরণ তুলে ধরে বলেন, ইতিহাসের জঘন্যতম হত্যাকাণ্ড এটি। তিনি বলেন, এই হত্যাকাণ্ড রাজনৈতিক। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধ্বংস করাই ছিল এ হত্যাকাণ্ডের মূল উদ্দেশ্য। এই হত্যাকাণ্ডে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত ছিলেন জিয়াউর রহমান দাবি করেন তাপস।

১৫ আগস্টের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘মাত্র তিন বছর বয়সে আমার মা আরজু মনি, বাবা শেখ ফজলুল হক মনির রক্তাক্ত দেহ মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখেছি। বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারকে যেভাবে হত্যা করা হয়েছে তা কারবালার হত্যাকাণ্ডকেও হার মানায়।’ এসময় কান্নায় ভেঙে পড়েন তাপস। বৈঠকে উপস্থিত কূটনীতিকদেরও চোখ ভিজে উঠে তাপসের বক্তব্য শুনে।

জানা গেছে, আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ফারুক খান কূটনীতিকদের উদ্দেশে বলেন, এই হত্যাকাণ্ড পরবর্তী পরিস্থিতি পর্যালোচনা করলে, ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ কারা করেছিল, কেন করেছিল এগুলো বিশ্লেষণ করলে পরিষ্কার হয়ে যায় এই হত্যাকাণ্ডের উদ্দেশ্য কী? তিনি বলেন, জিয়ার সম্পৃক্ততাও পাওয়া যায়।

বৈঠকে আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিক সম্পাদক ও উপকমিটির সদস্য সচিব শাম্মী আহমেদ ১৫ আগস্টের হত্যাকাণ্ডে কারা বেনিফিশিয়ারি তা তুলে ধরেন। পরে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি যাদুঘর কূটনীতিকদের ঘুরে দেখান উপকমিটির নেতারা। বৈঠকে ১৫ আগস্টের ওপর নির্মিত বিভিন্ন ভিডিও চিত্র, এই হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে দেশি বিদেশি বিভিন্ন লেখা, তদন্ত রিপোর্ট কূটনীতিকদের হাতে তুলে দেন তারা।

এ বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মান, নেপাল, শ্রীলঙ্কা, ভুটান, ভারত, চীনসহ ৪২ টি দেশের কূটনীতিক ও তাদের প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।

এসময় উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, চিফ হুইপ আ স ম ফিরোজ, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও পররাষ্ট্র বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান দীপু মনি। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক উপকমিটির সদস্য ব্যারিস্টার শাহ আলী ফরহাদ।

অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক উপকমিটির সদস্য শাহাব আহমেদ, খান মঈনুল ইসলাম মোস্তাক, উপকমিটির সদস্য ও বিএফইউজে-বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের যুগ্ম মহাসচিব আবদুল মজিদ, জাফর সাদেক বিপ্লব, সজীব আহমেদ, সুরুজ আলম সুরুজ, উইলিয়াম প্রলয় সমাদ্দার, ব্যারিস্টার মাফরুহা মারফি, ব্যারিস্টার নাদিয়া চৌধুরী, কান্তারা খান, তরুণ কান্তি দাস, তাহমিনা খাতুন শিলুসহ অন্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। সূত্র: বাংলাট্রিবিউন


ঢাকা, শনিবার, আগস্ট ১৮, ২০১৮ (বিডিলাইভ২৪) // পি ডি এই লেখাটি ২৭৩৯ বার পড়া হয়েছে


মোবাইল থেকে খবর পড়তে অ্যাপস ডাউনলোড করুন