সর্বশেষ
সোমবার ৫ই অগ্রহায়ণ ১৪২৫ | ১৯ নভেম্বর ২০১৮

লুকিয়ে ইলিশ আনছিলেন পাইলট, ঢাকা থেকে দেরিতে উড়ল বিমান

রবিবার, আগস্ট ১৯, ২০১৮

90772-air-india.jpg ছবি উৎস : ফাইল ছবি
বিডিলাইভ ডেস্ক :

আড়াই কেজির বলে কথা। তাই সাধারণ মানুষের কাছে ‘ইলিশপ্রীতি’ ছাড়া আর কীই বা বলা যায় একে! তবে আইনি পরিভাষায় একে ‘চোরাচালান’ বলেই অভিহিত করছেন বিশেষজ্ঞরা। আর সেটা করতে গিয়েই ঢাকা বিমানবন্দরে নিরাপত্তাকর্মীদের সঙ্গে বচসায় জড়ালেন এয়ার ইন্ডিয়ার এক পাইলট।

কারণ, বাংলাদেশ থেকে ইলিশ রপ্তানি আপাতত নিষিদ্ধ হাসিনা সরকারের নির্দেশে। কিন্তু লুকিয়ে বিমানে করে সেই ইলিশ মাছ আনতে গিয়ে হাতেনাতে ধরা পড়ে গেলেন এয়ার ইন্ডিয়ার ওই পাইলট। আর নতিস্বীকার না করে জড়িয়ে পড়লেন বাগবিতণ্ডায়। যার জেরে কলকাতাগামী ওই বিমান ছাড়তে দেরি হল পুরো এক ঘণ্টা। শেষপর্যন্ত ওই সাধের আড়াই কেজির ইলিশ তিনি সঙ্গে আনতে পারেননি।

এয়ার ইন্ডিয়া কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যেই গোটা বিষয়টির তদন্ত শুরু করেছে। সূত্রের খবর, পাইলটের সঙ্গে নিরাপত্তা আধিকারিকের বচসার জেরেই বিমান ছাড়তে দেরি হলেও, লগ বুকে যান্ত্রিক ত্রুটির উল্লেখ করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে এয়ার ইন্ডিয়া কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে সংস্থার মুখপাত্র জানান, ঘটনাটি নিয়ে ইতিমধ্যেই অভ্যন্তরীণ তদন্ত শুরু হয়েছে। বিমান ছাড়তে দেরি হওয়ার নেপথ্যে যান্ত্রিক ত্রুটি অথবা এটিসি ছাড়পত্র না পাওয়ার মতো একাধিক কারণ থাকতে পারে বলেই জানান তিনি। তাঁর কথায়, ‘ওই দিন ঢাকা থেকে কলকাতাগামী বিমানটি কেন দেরিতে উড়েছিল, তা নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। সংস্থার যে কোনও বিমান দেরিতে ছাড়লেই, তার কারণ জানতে এয়ার ইন্ডিয়া এভাবেই তদন্ত করে থাকে। তবে, প্রমাণিত নয়, এমন কোনও অনুমান করা উচিৎ নয়।’

ঠিক কী ঘটেছিল ঘটনাটি?

এআই২২৯ বিমানটি গত ৮ আগস্ট ঢাকা থেকে স্থানীয় সময়ে রাত ৯.২৫ মিনিটে ছাড়ার কথা ছিল। সোয়া ন’টার মধ্যেই যাত্রীরা যে যাঁর আসনে বসেও পড়েছিলেন। একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে দাবি করা হয়েছে, ওই সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত একাধিক ব্যক্তি দাবি করেছেন, বিমানের পাইলটের সঙ্গে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা আধিকারিকের তীব্র বাদানুবাদ হয়েছিল। জানা গিয়েছে, বিমানটি ছাড়ার কয়েক মুহূর্ত আগেই বিমানবন্দরের এক চুক্তিভিত্তিক কর্মী চালকের হাতে একটি প্যাকেট দিয়ে যায়। যা নজরে পড়ে সেখানে উপস্থিত এক নিরাপত্তা আধিকারিকের। তিনি প্যাকেটটি খুলে দেখেন, তাতে বরফঢাকা একটি আড়াই কেজির ইলিশ মাছ রয়েছে। এরপরই ওই নিরাপত্তা আধিকারিক বাংলাদেশি আইনের যুক্তি দেখিয়ে ওই প্যাকেট বিমানে তুলতে বাধা দেন। নিরাপত্তা আধিকারিকের অনড় অবস্থানের কাছে শেষপর্যন্ত হার মানেন ওই বিমান চালক। প্যাকেটটি না নিয়েই তিনি ককপিটে চলে যান। শুধু তাই নয়, ক্ষুব্ধ ওই বিমান চালক এটিসি’র এয়ারক্রাফ্ট রিলিজ সার্টিফিকিটে (এআরসি) সই করতেও অস্বীকার করেন বলে অভিযোগ। ততক্ষণে বিমানটি ছাড়তে প্রায় ৩৫ মিনিট দেরি হয়ে গিয়েছে।

এদিকে, এআরসি-তে চালকের সই না মেলায় বিমানটিকে রানওয়েতেই দাঁড় করিয়ে রাখে এটিসি। ঢাকা বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষও বিষয়টি নিয়ে খোঁজখবর করতে শুরু করলে, ওই বিমানচালক প্রমাদ গোনেন। শেষপর্যন্ত ককপিট থেকে বেরিয়ে তিনি এআরসি-তে সই করেন। এরপর স্থানীয় সময় রাত সাড়ে দশটা নাগাদ বিমানটি কলকাতার উদ্দেশে রওনা দেয়।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ থেকে লাইসেন্স ছাড়া ইলিশ রপ্তানি করা বেআইনি। বিমান সংস্থার এক আধিকারিকের কথায়, ওই প্যাকেটে যদি ইলিশ নাও থাকত, তবুও সেটি বিমানে নিয়ে আসতে পারতেন না ওই চালক। কারণ, ভারতীয় আইনে বিদেশ থেকে কাঁচা ফল, সবজি, মাছ এবং পোলট্রি লাইসেন্স ছাড়া আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। সূত্র: বর্তমান


ঢাকা, রবিবার, আগস্ট ১৯, ২০১৮ (বিডিলাইভ২৪) // পি ডি এই লেখাটি ৫৫৮৭ বার পড়া হয়েছে


মোবাইল থেকে খবর পড়তে অ্যাপস ডাউনলোড করুন