সর্বশেষ
মঙ্গলবার ৬ই অগ্রহায়ণ ১৪২৫ | ২০ নভেম্বর ২০১৮

ঢাকার খাল উদ্ধার করে এলিভেটেড সড়ক করার পরিকল্পনা

রবিবার, আগস্ট ১৯, ২০১৮

max20180819173702.jpg
বিডিলাইভ ডেস্ক :

আগামীতে ক্ষমতায় এলে ঢাকা শহরের সব বক্স কালভার্ট ভেঙে খালগুলো উদ্ধার করে সেগুলোর ওপর এলিভেটেড ওয়ে নির্মাণ করার পরিকল্পনা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা।

রোববার (১৯ আগস্ট) সকালে রাজধানীর হোটেল প্যান প্যাসেফিক সোনারগাঁওয়ে ঢাকা ওয়াসার ‘দাশেরকান্দি পয়ঃশোধনাগার প্রকল্প’ নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করছিলেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের তো সময় শেষ, আগামী ডিসেম্বরে নির্বাচন। যদি আগামীতে আসতে পারি, আমার একটা টার্গেট বা লক্ষ্য থাকবে – প্রত্যেকটা বক্স কালভার্ট ভেঙে ফেলে দেবো আমি। আশা করি পর্যাপ্ত টাকা পয়সা হবে আমাদের।

‘আর ওই বক্স কালভার্টগুলোকে খালে উন্মুক্ত করে দেবো। আর খালের ওপর দিয়ে এলিভেটেড রাস্তা করে দেবো। রাস্তা প্রয়োজন আছে আমার, কিন্তু রাস্তাগুলো আমি যদি খালের ওপর করে ফেলি তাহলে সমস্যা থাকলো না। রাস্তায়ও থাকলো, খালও থাকলো। আবার পয়ঃনিষ্কাশন, পানির সরবরাহ ব্যবস্থাও ভালো হলো।’

রাজধানীর বিভিন্ন খাল ও জলাধার বন্ধ হওয়ার ইতিহাস তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মতিঝিলে বিশাল ঝিল ছিলো, সেটা বন্ধ করে দিলো আইয়ুব খান প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর। কতোগুলো খাল ছিলো, ধোলাই খাল, শান্তিনগর খাল, সেগুনবাগিচা খাল, পান্থপথ খালসহ অগণিত খালে ভরা ছিলো এই শহরটা।

‘ঢাকা শহরের চারদিকে পাঁচটি নদী- বুড়িগঙ্গা, ধলেশ্বরী, বালু নদী, তুরাগ, শীতলক্ষ্যা। নদী দিয়ে ঘেরা ঢাকা শহর। ঢাকা শহরের ভেতর খালগুলো ছিলো শিরা-উপশিরার মতো। সেখানে আমরা দেখলাম সেগুনবাগিছা খাল সেখানে বক্স কালভার্ট করা হলো, আজকে পান্থপথ সেটা কিন্তু খাল। সেখানেও বক্স কালভার্ট, শান্তিনগর খাল সেটাও বক্স কালভার্ট। আর তার ফলে জলাবদ্ধতা, নানা সমস্যা।’

হাতিরঝিল ভরাট করে দালান কোঠা নির্মাণের চেষ্টার কথাও তুলে ধরেন তিনি। খাল উদ্ধার ও নতুন খাল খননে প্রতিবন্ধকতার কথা উল্লেখ করে সরকারপ্রধান বলেন, আমরা যখন নতুন নতুন খাল খনন করে দিচ্ছি, সেটাও কিন্তু অনেক বাধা অতিক্রম করে করা হচ্ছে। বাধা আসবে, কিন্তু বাধা অতিক্রম করে আমাদের কাজটা করতে হবে।

বুড়িগঙ্গা নদীকে দূষণমুক্ত করতে সরকারের পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বুড়িগঙ্গা পচে দুর্গন্ধ ছড়ায়, সেখান থেকে প্রচুর ময়লা বের করা হয়েছে। তারপরও এখন সেভাবে (দূষণমুক্ত) হয়নি। ওখানে সুয়ারেজ সিস্টেম তৈরি করতে হবে। সেখানে নানা ধরনের বর্জ্য আছে। কিছু হচ্ছে বসতবাড়ির বর্জ্য, কিছু আছে শিল্প বর্জ্য। কাজেই সেখানে দুই রকমের ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট তৈরি করা দরকার।

ঢাকার চারপাশের নদীগুলোতে পানি প্রবাহ বাড়িয়ে দূষণমুক্ত করতে সরকারের উদ্যোগের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, যমুনা নদী থেকে ড্রেজিং করে, ধলেশ্বরী নদী ড্রেজিং করে, তুরাগ নদী হয়ে বুড়িগঙ্গা নদী পর্যন্ত ড্রেজিং করে দিতে পারি, যে প্রকল্পের কাজ আমরা শুরু করেছিলাম। মাঝখানে আবার একটু বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। আবার শুরু করেছি। এভাবে যদি আমরা পানির ধারাটা অব্যহত রাখতে পারি, তাহলে কিন্তু এই বুড়িগঙ্গা নদীতে আর কোনো রকম দূষণ থাকবে না। পাশাপাশি আমাদের বালু নদী সেটাও ড্রেজিং করতে হবে। যেন ওই নদীতে পানির ধারাটা অব্যহত থাকে।

নাব্যতা ধরে রাখতে নদী ড্রেজিংয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, নদীগুলো ড্রেজিং করাটা একান্তভাবে প্রয়োজন। তাহলে পানির ধারা অব্যহত থাকবে, বৃষ্টির পানি আমরা ধরে রাখতে পারবো তাহলে আমাদের পরিবেশ রক্ষা পাবে। আমরা ভাঙন থেকে রক্ষা পাবো। নদী ড্রেজিং করে আমরা প্রচুর জমি উত্তোলন করতে পারি। যেগুলো ঘনবসতি পূর্ণ আমাদের দেশে খুব কাজে দেবে।

আগামী ১০০ বছর পরে বাংলাদেশ কেমন হবে সরকারের সে রকম পরিকল্পনা কথা জানিয়ে বঙ্গবন্ধু কন্যা বলেন, পানিসম্পদের ব্যবস্থাপনার জন্য আমরা একশ বছরের একটা পরিকল্পনা ঘোষণা দেই। ২০০৮ সালে আমরা ঘোষণা দেই ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার। আজকে আমরা স্যাটেলাইট পর্যন্ত উৎক্ষেপণ করতে সক্ষম হয়েছি। প্রত্যেকের হাতে হাতে মোবাইল ফোন, গ্রাম পর্যায় পর্যন্ত সবার হাতে হাতে মোবাইল ফোন দিয়ে দিয়েছি। আজকে সত্যি ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করেছি।

‘২০২১ সালে আমরা কেমন বাংলাদেশ দেখতে চাই, ইতোমধ্যে আমরা রূপকল্প, দিন বদলের সনদ ঘোষণা দিয়েছি। ২০১৪ সালে ঘোষণা দেই, ২০২১ সালে আমরা ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশকে আমাদের উন্নত করতে হবে, আমরা ঘোষণা দিয়েছি ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ উন্নত সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করবে। আর ২০৪১ সাল না, ২১০০ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে আমরা কিভাবে দেখতে চাই – সেজন্য আমরা ডেল্টা প্ল্যানও নিয়েছি, ২১০০ সাল পর্যন্ত।’

সুপেয় পানি সরবরাহ ও পয়ঃনিষ্কাশনে ইউনিয়ন-ওয়ার্ড পর্যায়েও মাস্টার প্ল্যান নেওয়ার নির্দেশ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগামীতে আমাদের রাজধানীর সঙ্গে সঙ্গে প্রত্যেকটা জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন, ওয়ার্ড পর্যন্ত সুপেয় পানি সরবরাহ, পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা- এই তিনটি আমাদের একইসঙ্গে পদক্ষেপ নিতে হবে।

তিনি বলেন, এখন থেকে আমাদের পরিকল্পনা নিতে হবে যেন ভবিষ্যতে সমস্যা না হয়। এখন কোনো কাজ করতে গেলে যেমন এখানে জায়গা নেই, ওখানে জায়গা নেই। নানা সমস্যা।

বস্তিবাসীদের স্বল্প ভাড়ায় ফ্ল্যাট বাসায় আবাসন এবং গ্রামের মানুষকে আধুনিক নাগরিক সুবিধা দিতে সরকারে বিভিন্ন পরিকল্পনা ও পদক্ষেপের কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

দাশেরকান্দি পয়ঃশোধনাগার প্রকল্পটি বাস্তবায়নের মাধ্যমে নগরীর হাতিরঝিলসহ গুলশান, বনানী, বারিধারা, বসুন্ধরা, সংসদ ভবন এবং তৎসংলগ্ন এলাকার প্রায় ৫০ লাখ নাগরিককে আধুনিক পয়ঃসেবা দেওয়া সম্ভব হবে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

ভবিষ্যৎ ঢাকাকে মাথায় রেখে একটি স্যুয়ারেজ মাস্টার প্ল্যান তৈরি করে বর্তমান সরকার। আগামী ২০২৫ সাল নাগাদ সমগ্র রাজধানীকে এ মাস্টার প্ল্যানের আলোকে শতভাগ আধুনিক পয়ঃসেবার আওতায় আনা হবে।

দাশেরকান্দি পয়ঃশোধনাগার নির্মাণ প্রকল্প তারই অংশ। রাজধানীর খিলগাঁওয়ে প্রায় সোয়া তিন হাজার কোটি ব্যয়ে দাশেরকান্দি পয়ঃশোধনাগার প্রকল্পটি নির্মাণ করা হচ্ছে।

মাস্টারপ্ল্যানের অংশ হিসেবে পর্যায়ক্রমে পাগলা, উত্তরা, মিরপুর ও রায়েরবাজারে পয়ঃশোধনাগার স্থাপন করা হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

স্থানীয় সরকার,পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব জাফর আহমেদ খান, ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক তাকসিম এ খান, বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ঝাং জুয়ো। সূত্র: বাংলানিউজ


ঢাকা, রবিবার, আগস্ট ১৯, ২০১৮ (বিডিলাইভ২৪) // পি ডি এই লেখাটি ২৪২৫ বার পড়া হয়েছে


মোবাইল থেকে খবর পড়তে অ্যাপস ডাউনলোড করুন