সর্বশেষ
শনিবার ৩রা অগ্রহায়ণ ১৪২৫ | ১৭ নভেম্বর ২০১৮

এক শিক্ষার্থীকে জবাই করার চেষ্টা চালাচ্ছিলো, অপর শিক্ষার্থী ছিল গাড়িতে

বুধবার, সেপ্টেম্বর ৫, ২০১৮

1536162240.jpg
বিডিলাইভ ডেস্ক :

সিদ্ধিরগঞ্জে আনসার ভিডিপির দুই সদস্যের কল্যাণে নির্ঘাত খুন হওয়া থেকে রক্ষ পেয়েছে চাঁদপুরের ১০ম শ্রেণির ছাত্র পারভেজ ও ৭ম শ্রেণির ছাত্র শাকিব।

বুধবার ভোরে কাঁচপুর শীতলক্ষ্যার তীরে তাদের হত্যার চেষ্টা চালায় কয়েকজন দুর্বৃত্ত। এর আগে তাদেরকে চাঁদপুরের কচুয়া সাচার স্কুলের কাছ থেকে অপহরণ করা হয়। তারা দুজনই এই স্কুলের শিক্ষার্থী। পারভেজ চাঁদপুর জেলার কচুয়ার মঙ্গলমোড়া গ্রামের আব্দুল রহিমের ছেলে এবং শাকিব একই গ্রামের আলমগীর হোসেনের ছেলে।

জানা গেছে, মঙ্গলবার রাত ৩টার দিকে সোনারগাঁ থানার কাঁচপুর সেতুর নিচে আনসার ভিডিপির দুই সদস্য আল মামুন ও জহিরুল ইসলাম টহল দিচ্ছিলেন। এসময় তারা দুজনই একটি পিকআপ ভ্যান দেখে এগিয়ে যাচ্ছিলেন। তাদের পিকআপ ভ্যানটি পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। পরে তারা দুজন দৌড়ে গিয়ে পিকআপটি থামানোর চেষ্টা করলে দুর্বৃত্তরা ধারালো অস্ত্র উঁচিয়ে পালিয়ে যায়।

আনসার ভিডিপির সদস্য আল মামুন ও জহিরুল ইসলাম জানান, দুর্বৃত্তরা আগেই শাকিব নামের একজনকে নিচে নামিয়ে জবাই করার চেষ্টা চালাচ্ছিলো। অপর শিক্ষার্থী গাড়িতেই ছিলো। এ অবস্থায় আমরা এগিয়ে গেলে গাড়িটি পালিয়ে যাওয়ার সময় অপর শিক্ষার্থীকে গাড়ি থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিয়ে যায়।

এদিকে ওই দুই স্কুল শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করে প্রথমে কাঁচপুর ব্রিজ ক্যাম্পে পরে সেখান থেকে ক্যাম্প ইনচার্জ ওমর ফারুক তাদেরকে নারায়ণগঞ্জ জেলা আনসার ভিডিপির কার্যালয়ে (হাজীগঞ্জ) নিয়ে আসেন। পরে তাদের অভিভাবকদের খবর দিলে চাঁদপুর থেকে শাকিবের মা সাফিয়া বেগম ও পারভেজের বাবা আব্দুল রহিম আনসার ভিডিপির কার্যালয়ে ছুটে আসেন।

সাফিয়া বেগম জানান, শাকিব সকাল বেলা তার ছোট ভাইয়ের জন্য নাস্তা আনতে দোকানে গিয়েছিলো। এরপর থেকে তাকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি।

শিক্ষার্থী পারভেজ জানায়, শাকিব আর সে তাদের স্কুল কচুয়া সাচার উচ্চবিদ্যালয়ের কাছেই ছিলো। এসময় কয়েকজন লোক এসে বলে, ম্যানেজিং কমিটির লোক যেতে বলছে। এরপর তারা আমাদের গলায় ছুরি ঠেকিয়ে গাড়িতে উঠিয়ে নেয়। সারাদিন বিভিন্ন স্থানে আমাদের নিয়ে ঘুরে রাতে এখানে এনে হত্যার চেষ্টা করে। এসময় তারা প্রথমে শাকিবকে নামিয়ে জবাই করার চেষ্টা চালায়।

শাকিব জানায়, ‘অপহরণকারীরা তাকে দিয়ে তাঁর মামার কাছে ফোন করিয়ে ‘গাজীপুর আছি’ বলতে বাধ্য করায়। তারা আমার গলা কাটার জন্য নদীর পাড় নামাইছিলো।’

এদিকে সাহসিকতার জন্য তাৎক্ষণিকভাবে আনসার সদস্য আল মামুন ও জহিরুল ইসলামকে জেলা কমান্ড্যান্ট মো. নূরুল আবছার নগদ অর্থ দিয়ে পুরস্কৃত করেন। সূত্র: ইত্তেফাক


ঢাকা, বুধবার, সেপ্টেম্বর ৫, ২০১৮ (বিডিলাইভ২৪) // পি ডি এই লেখাটি ৪৪০১ বার পড়া হয়েছে


মোবাইল থেকে খবর পড়তে অ্যাপস ডাউনলোড করুন