সর্বশেষ
শুক্রবার ২রা অগ্রহায়ণ ১৪২৫ | ১৬ নভেম্বর ২০১৮

নড়িয়া মুলফৎগঞ্জের ৩শ' ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নদী গর্ভে

শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ৭, ২০১৮

ppppp.png
শরীয়তপুর প্রতিনিধি :

শরীয়তপুরের নড়িয়া উপ‌জেলায় ভয়াবহ নদী ভাঙ‌ন অব্যাহত রয়েছে। গত তিন দিনে পদ্মা নদী ভাঙনে নড়িয়ার ৪০০বছরের পুরনো মুলফৎগঞ্জ বাজারের প্রায় ৩শ' ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসহ দেওয়ান ক্লিনিক নদী গর্ভে বিলীন হ‌য়ে গে‌ছে।

২৪ ঘন্টার ম‌ধ্যে নদী গ‌র্ভে চ‌লে যে‌তে পা‌রে ন‌ড়িয়া উপ‌জেলা স্বাস্থ্য কম‌প্লেক্স, ঐতিহ্যবাহী মুলফৎগঞ্জ মাদ্রাসা মসজিদ, লাইফ কেয়ার হাসপাতাল, ব্যাংক এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসহ শত শত ঘরবাড়ি। বন্ধ রয়েছে চিকিৎসা সেবা। এলাকায় নেই কোন বিদ্যুৎ সংযোগ। অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে হাসপাতালের মালামাল। ছোট হচ্ছে নড়িয়ার মানচিত্র। অব্যাহত রয়েছে পদ্মার ভাঙ্গন। দিশেহারা হয়ে পড়েছে ভাঙ্গন কবলিতরা

স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, নড়িয়া উপজেলা শহ‌রের পাশে কেদারপুর ইউনিয়নে মুলফৎগঞ্জ বাজারটি গড়ে ওঠে। ৪০০শ' বছর আগে ওই এলাকার মানুষ বাজারটি গড়ে তোলে। নড়িয়ার সবচেয়ে বড় বাজার হওয়ায় ওখানে ন‌ড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নির্মাণ করা হয়েছে। বাজারে রয়েছে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান এবং আরো দেড় হাজার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। ওই বাজারকে কেন্দ্র করে ওই এলাকার অন্তত ১০ হাজার পরিবার জীবিকা নির্বাহ করেন।

স্থানীয়রা বলেন, দ্রুত ড্রেজিং করে নদীর গতিপথ পরিবর্তন না করা হলে সবকিছু নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যাবে। তারা আরো বলেন, সরকারীভাবে জিও ব্যাগ দিয়ে বালু ফেলেও কোন লাভ হচ্ছেনা, আমরা দ্রুত বেরীবাধ চাই।

বুধবার, বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার ভাঙনে বাজারের ৩শ' ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বিলীন হয়েছে। এ নিয়ে গত সাত দিনের ভাঙনে ৪শ' ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বিলীন হয়েছে। ভাঙনের হুমকীতে পড়েছে ৪শ' বছরের পুরাতন এ বাজারের আরো ১ হাজার ৩শ প্রতিষ্ঠান। ভাঙনে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে পাশের কেদারপুর ও পূর্ব নড়িয়া গ্রামের দেড় হাজার পরিবার। ওই দুটি গ্রামের ৩৫০ পরিবার তাদের বসত ঘর সরিয়ে নিয়েছে। ভাঙ্গনের কারনে এলাকার বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।

কেদারপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ইমাম হোসেন দেওয়ান বলেন, বসত বাড়ি, ফসলি জমির পর আজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বিলীন হয়ে গেছে। নিঃস্ব হয়ে গেলাম। চোখের সামনে সব শেষ হয়ে গেল। সন্তানদের জন্য কিছুই রেখে যেতে পারলাম না।

শরীয়তপুর পানি উন্নয়ন বোডের উপ সহকারি প্রকৌশলী কর্মকর্তা মোঃ সেলিম মোল্যা বলেন, টেন্ডার প্রকিয়ার কারণে একটু লেট হচ্ছে, তবে একনেকের একটি প্রকল্প গত ২/১/২০১৮ ইং তারিখে পাস হয়েছে যাহার অর্থ ১ হাজার ৯৭ কোটি টাকা, যা আগামি এক থেকে দেড় মাসের মধ্যে কাজ শুরু করা যাবে বলে জানান।

ন‌ড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সানজিদা ইয়াসমিন বলেন, ভাঙনের কারণে মুলফৎগঞ্জ বাজার ব্যবসায়ীরা বির্পযস্ত অবস্থায় র‌য়ে‌ছে। ওই বাজারের প্রায় দেড় হাজার ব্যবসায়ী ক্ষ‌তিগ্রস্থ। বাজারটির উপর ওই এলাকার অন্তত ১০ হাজার পরিবার নির্ভরশীল। ক্ষতিগ্রস্থ ব্যবসায়ীদের সরকারি পর্যায়ে সহায়তা করা হবে।


ঢাকা, শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ৭, ২০১৮ (বিডিলাইভ২৪) // পি ডি এই লেখাটি ১২৪৬ বার পড়া হয়েছে


মোবাইল থেকে খবর পড়তে অ্যাপস ডাউনলোড করুন