সর্বশেষ
শুক্রবার ৩০শে অগ্রহায়ণ ১৪২৫ | ১৪ ডিসেম্বর ২০১৮

বিএসএমএমইউতেই যাচ্ছেন খালেদা

শুক্রবার, অক্টোবর ৫, ২০১৮

6.jpg
বিডিলাইভ ডেস্ক :

হাইকোর্টের নির্দেশের পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালেই নেওয়া হচ্ছে খালেদা জিয়াকে এবং এতে তার আইনজীবীদের আপত্তি নেই।

বিএনপি চেয়ারপারসনের অন্যতম আইনজীবী ও দলের যুগ্ম মহাসচিব মাহবুব উদ্দিন খোকন গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে বলেন, 'আমরা আদালতের আদেশ বিশেষ বার্তা প্রেরকের মাধ্যমে রাতেই কারা কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠিয়েছি। আশা করছি, শুক্রবারই উনাকে (খালেদা জিয়া) বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্য়ালয় হাসপাতালে নেওয়া হবে।'

৭৩ বছর বয়সী খালেদাকে এর আগে বিএসএমএমইউতে সরকার নিতে চাইলেও তিনি রাজি হননি। তার দল বিএনপিও তাতে ইউনাইটেড হাসপাতালে নেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছিল।

এখন সিদ্ধান্ত বদলের কারণ এবং খালেদা এতে রাজি হয়েছেন কি না- জানতে চাইলে খোকন বলেন, 'ম্যাডামের অবস্থা খুবই খারাপ। আদালত দ্রুত ব্যবস্থা নিতে আদেশ দিয়েছেন।'

দুর্নীতি মামলার সাজায় কারাগারে থাকা খালেদার পক্ষে তাকে বিশেষায়িত হাসপাতালে ভর্তি এবং স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য বিশেষ বোর্ড গঠনের নির্দেশনা চেয়ে হাই কোর্টে আবেদন হয়েছিল।

তাতে বৃহস্পতিবার বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও বিচারপতি রাজিক আল জলিলের বেঞ্চ দ্রুত ঢাকার বিএসএমএমইউতে খালেদাকে ভর্তি এবং তার চিকিৎসায় গঠিত পাঁচ সদস্যের মেডিকেল বোর্ড পুনর্গঠনের নির্দেশও দেয়।

খালেদার চিকিৎসায় গত সেপ্টেম্বরে সরকার যে মেডিকেল গঠন করে দিয়েছিল, তার তিন সদস্যকে বাদ দিয়ে নতুন তিনজনকে সেখানে দায়িত্ব দিতে বলেছে আদালত।

হাইকোর্টের আদেশ অনুযায়ী, বিএসএমএমইউর ইন্টারনাল মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক আব্দুল জলিল চৌধুরী এবং ফিজিকাল মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক বদরুন্নেসা আহমেদ বোর্ডে থাকবেন।

আর কার্ডিওলজি বিভাগের অধ্যাপক হারিসুল হক, অর্থোপেডিক সার্জারি বিভাগের অধ্যাপক আবু জাফর চৌধুরী এবং চক্ষু বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক তারেক রেজা আলীর বদলে নতুন তিনজনকে বোর্ডের সদস্য হিসেবে মনোনীত করে দেবে সরকার।

তবে এই তিনজনের কেউ কেন্দ্রীয় বা জেলা পর্যায়ে সরকারসমর্থক স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ (স্বাচিপ) বা বিএনপি সমর্থক ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) বর্তমান বা প্রাক্তন সদস্য কিংবা সমর্থক হতে পারবেন না।

হাইকোর্ট বলেছে, এই বোর্ডের অধীনে খালেদা জিয়া তার পছন্দমত ফিজিওথেরাপিস্ট, গাইনোলজিস্ট ও টেকনিশিয়ান নিতে পারবেন। বোর্ডের অনুমতি সাপেক্ষে বাইরে থেকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক আনতে পারবেন।

খালেদা জিয়াকে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি এবং ভর্তি করা মাত্র তার চিকিৎসা শুরুর নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

আদালতে খালেদা জিয়ার পক্ষে শুনানিতে ছিলেন এ জে মোহাম্মদ আলী, মওদুদ আহমদ, জয়নুল আবেদীন, মাহবুব উদ্দিন খোকন, কায়সার কামাল, এ কে এম এহসানুর রহমান ও মুজিবুর রহমান। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোখলেছুর রহমান।

গত ফেব্রুয়ারিতে জিয়া এতিমখানা ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় পাঁচ বছরের দণ্ড ঘোষণার পর থেকে খালেদা বন্দি। পুরান ঢাকার পরিত্যক্ত কারাগারের একমাত্র বন্দি হিসেবে রয়েছেন তিনি।

কারাগারে যাওয়ার পর এপ্রিল মাসে একবার তাকে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য বিএসএমএমইউতে নেওয়া হয়েছিল। এরপর তাকে আর দেখা যায়নি।

সূত্র: বিডিনিউজ টুয়েন্টিফোর ডট কম


ঢাকা, শুক্রবার, অক্টোবর ৫, ২০১৮ (বিডিলাইভ২৪) // এস আর এই লেখাটি ২৫৫০ বার পড়া হয়েছে


মোবাইল থেকে খবর পড়তে অ্যাপস ডাউনলোড করুন