সর্বশেষ
শুক্রবার ৩০শে অগ্রহায়ণ ১৪২৫ | ১৪ ডিসেম্বর ২০১৮

বাংলাদেশে এখনও কি চিঠি লিখে মানুষ?

সোমবার, অক্টোবর ৮, ২০১৮

8651681778_a4af41d31c_b.jpg
বিডিলাইভ ডেস্ক :

প্রযুক্তির অগ্রগতির ফলে সারা দুনিয়ার মতো বাংলাদেশেও চিঠি লেখার চল প্রায় উঠেই গেছে।

এমনিতেই বাংলাদেশের ডাক বিভাগকে নিয়ে যুগ যুগ ধরেই অভিযোগের অন্ত নেই। কিন্তু পরিবর্তিত পরিস্থিতির সাথে সারা বিশ্বের ডাকবিভাগই নতুন নতুন সেবা যুক্ত করার মাধ্যমে যেভাবে নিজেদেরকে খাপ খাইয়ে নিয়েছে, সেই তুলনায় বাংলাদেশের ডাক বিভাগে পরিবর্তন এসেছে কতটা?

মুন্সিগঞ্জের সদর উপজেলার একটি গ্রাম ঘাসিপুকুরপাড়। এখানেই নিজের বাগানবাড়িতে কাজ করছিলেন মোবারক হোসেন। গ্রামে তার যে জমি-জমা রয়েছে সেগুলোও নিজেই চাষ করেন তিনি। তবে এটিই তার একমাত্র কাজ নয়। আদতে মোবারক হোসেন একজন অস্থায়ী পোস্ট মাস্টার। মুন্সিগঞ্জ সদরের ঘাসিপুকুরপাড় ইউনিয়নের ব্রাঞ্চ পোস্ট অফিসের দায়িত্বে আছেন তিনি।

যদিও বাস্তবতা হচ্ছে ডাকবিভাগে কাজ করার জন্য মোবারকের সরকারি কোন অফিস নেই। নিজের বাড়িতেই ডাকের সবকাজ করেন তিনি। কাজ বলতে অবশ্য শুধুই কালেভদ্রে আসা চিঠি এন্ট্রি করা ও প্রাপকের কাছে পৌঁছে দেয়া।

কারণ বছরের পর বছর এই এলাকা থেকে কেউ চিঠি পাঠায় না। ডাকের অন্য কোন সেবাও এখানে চালু হয়নি।

মোবারক হোসেন বলছেন, ''মাসে খুব বেশি হলে আট থেকে দশটা চিঠি আসে। সেগুলো আমরা বিলি করি। যেসব চিঠি আসে সেগুলো মূলত: সরকারি কোন প্রতিষ্ঠান, তালাক বা জমি-জমা সংক্রান্ত।''

এখান থেকে অন্য এলাকায় চিঠি কেমন পাঠানো হয় জানতে চাইলে মি. হোসেনের জবাব: ''গত সাত বছরে অন্য কোথাও পাঠানোর জন্য আমাদের ডাকঘরে কোন চিঠি আসেনি। মানুষতো আসলে এখন আর চিঠি লেখে না, পাঠায়ও না। ফলে গত তিনবছর ধরে এই ডাকঘর থেকে চিঠি পাঠানোর সার্ভিসও বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। ডাক টিকেট বিক্রিও বন্ধ।''

এই গ্রামেরই কয়েকজন ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলি। এখানকার ডাকঘরের কাজ ও সেবা সম্পর্কে জানতে চাই তাদের কাছে। এদের মধ্যে ফাহমিদা নামে একজন জানালেন, মোবাইল ফোন থাকায় এখন আর চিঠির প্রয়োজন হয় না।চিঠি আদান-প্রদান ছাড়া ডাকঘরের আর কী কাজ সে সম্পর্কেও জানা নেই তার।

ডাকঘরের কী অবস্থা?
ডাক বিভাগের হিসেবে দেখা যাচ্ছে, সারাদেশে তাদের যে প্রায় ৯ হাজার পোস্ট অফিস রয়েছে সেগুলোর মধ্যে মোবারক হোসেনের ঘাসিপুকুরপাড়ের মতো অবিভাগীয় শাখা পোস্ট অফিসের সংখ্যাই ৮ হাজারেরও বেশি।

অনেকক্ষেত্রেই এগুলোর নিজস্ব জমি কিংবা স্থায়ী অফিস নেই। সেবা বলতে শুধু চিঠি আদান-প্রদান।

যদিও কেন্দ্রীয়ভাবে ডাকবিভাগের কার্যক্রমের আওতায় সঞ্চয়পত্র বিক্রয়, ইলেক্ট্রনিক মানি অর্ডার, জীবন বীমাসহ অনলাইনভিত্তিক আরো অন্তত: ১০টি খাতের কথা বলা হয়ে থাকে। কিন্তু এসব সেবা গ্রাম পর্যায়ে আট হাজারের মতো শাখা পোস্ট অফিসগুলোতে পাওয়া যায় না।

এসব সেবা মূলত: জোল ও উপজেলা পর্যায়ের পোস্ট অফিসগুলোতে পাওয়া যায়। এর সংখ্যা প্রায় এক হাজার। কিন্তু এসব সেবা পেতেও ভোগান্তি পোহাতে হয় গ্রাহকদের।

মুন্সিগঞ্জের জেলা পোস্ট অফিসে কথা হয় এরকমই এক নারীর সঙ্গে। যিনি পোস্ট অফিসে টাকা জমা রাখেন।

''এখানে টাকা আদান-প্রদানের সময় দেখা যায় টাকা জমার কোন মেশিন নেই। নাম এন্ট্রিসহ সব কাজ হাতে হাতে হয়। সময় লাগে অনেক। দেখা যায় দশ মিনিটের কাজের জন্য দুই ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়।''

এদিকে যারা গ্রামে গঞ্জে পোস্ট অফিসে কাজ করছেন তাদের পারিশ্রমিক নিয়েও রয়েছে অভিযোগ। সারাদেশে ৩৯ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারীর মধ্যে ২২ হাজারই সরকার থেকে কোন বেতন পান না। তবে ন্যুনতম একটা সম্মানী দেয়া হয়।

পোস্ট মাস্টার, ডাকপিয়ন এবং ডেলিভারি ম্যানের জন্য এই সম্মানি দুই হাজার তিনশো থেকে দুই হাজার পাঁচশো টাকার মধ্যে।

ডাক বিভাগ কী বলছে?
ডাক বিভাগ বলছে, গ্রাম পর্যায়ে আট হাজারের মতো যেসব পোস্ট অফিস রয়েছে সেগুলো স্থানীয় ব্যক্তিদের আগ্রহে অনুমোদন দেয়া হয়েছে।

অনুমোদন দেয়ার সময়ই বলা হয়েছে যে তারা বেতনের আওতায় থাকবেন না। তাদেরকে কিছু সম্মানী দেয়া হবে।

ডাক বিভাগের মহাপরিচালক সুশান্ত কুমার মন্ডল বলছেন, ''এটা তো দীর্ঘদিন ধরে হয়ে আসছে। স্থানীয় মানুষেরা আগ্রহী বলেই অতীতে পোস্ট অফিসগুলো চালু হয়েছে। সেখানে বেতন দিতে হবে এরকম কোন শর্ত ছিলো না। এবং আমরা সেরকম লোকদেরই নিয়োগ দিয়েছি যারা তুলনামূলকভাবে স্বচ্ছল। তবে এখন অনেক অস্বচ্ছল লোক কাজ করছেন বলেই বেতনের প্রসঙ্গ উঠছে। আমরা এসব বিবেচনা করছি। আমাদের সক্ষমতারও ব্যাপার আছে এখানে।''

মি. মন্ডল জানান, সারাদেশে ধাপে ধাপে এসব পোস্ট অফিসের জন্য নিজস্ব জমিতে অবকাঠামো নির্মাণের কাজ শুরু করা হচ্ছে।

''আমরা একটা পরিকল্পনা নিয়েছি। এর আওতায় কোন কোন পোস্ট অফিস নির্মাণের কাজ হচ্ছে। বাকীগুলোও ধাপে ধাপে হয়ে যাবে। পোস্ট অফিসের অবকাঠামো তৈরি হলেই সেখানে আমরা ডাকের অন্যান্য সেবাগুলো চালু করতে পারবো। অনলাইন সার্ভিসও চালু হবে।''

নতুন কী সেবা?
ডাক বিভাগের মহাপরিচালক বলছেন, বাংলাদেশে অনলাইনভিত্তিক বিভিন্ন পন্য বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের পণ্য ডেলিভারির কাজটি ডাকবিভাগ করতে চায়।

এর জন্য ই-কমার্স এসোসিয়েশনের সঙ্গে চুক্তিও স্বাক্ষরিত হয়ে গেছে।

তিনি জানান, এছাড়াও বিকাশ-রকেটের মতো ২৪ ঘণ্টা অর্থ লেনদেনের একটা সার্ভিসও চালু করা হবে।

সূত্র:বিবিসি


ঢাকা, সোমবার, অক্টোবর ৮, ২০১৮ (বিডিলাইভ২৪) // পি ডি এই লেখাটি ১১৭৯ বার পড়া হয়েছে


মোবাইল থেকে খবর পড়তে অ্যাপস ডাউনলোড করুন