সর্বশেষ
শনিবার ৩রা অগ্রহায়ণ ১৪২৫ | ১৭ নভেম্বর ২০১৮

চুয়াডাঙ্গায় মালটা চাষে সফল সাখাৎয়াত হোসেন বাবলু

সোমবার, অক্টোবর ২২, ২০১৮

ChuadangaMalta.jpg ছবি উৎস : বিডিলাইভ২৪
চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি :

অসম্ভবকে সম্ভব করে চুয়াডাঙ্গা দামুড়হুদার হেমাতপুর গ্রামে বৈরি আবহাওয়ার মাঝেও মালটা চাষ করে সফল হয়েছে সরকারী চাকুরীজীবী মো: সাখাওয়াত হোসেন বাবলু । তিনি বর্তমানে একই দাগে ৩২ বিঘা জমিতে মালটা চাষ করছেন।পাহাড়সম পথ পাড়ি দিয়ে এখন সফলতার দ্বার প্রান্তে তিনি। প্রায় অর্ধ কোটি টাকার মালটা বিক্রির সম্ভাবনা রয়েছে এ মৌসুমে। দামুড়হুদা উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রথম পর্যায়ে কেউই খোঁজ না করলেও, বর্তমানে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, দামুড়হুদা।

চুয়াডাঙ্গা জেলার দামুড়হুদা উপজেলার নতিপোতা ইউনিয়ানের ভগিরথপুর গ্রামের পুরাতন পাড়ার  শিক্ষক আব্দুর রহমানের ছেলে সাখাওয়াত হোসেন বাবুল। দুই ভাই ও দুই বোনের মধ্যে তিনি বড়।

২০১৩ সালের প্রথম দিকে খুলনা কৃষি গবেষণা ইনষ্টিটিউট থেকে দুই হাজার টাকা দিয়ে ২০টি বারি মালটা-১ জাতের গাছ কেনেন। প্রথমে ১৪ কাঠা জমিতে গাছগুলো রোপণ করেন। গাছ লাগানোর এক বছর পর গাছগুলো কলম করে চারা গাছ তৈরি করেন। এরপর গ্রামের ৫ জন কৃষকের কাছ থেকে ১২ বছরের জন্য বিঘা প্রতি বছরে ৮ হাজার টাকায় জমি লিজ নেন । কয়েক বছর পর আরও ২৪ বিঘা জমি লিজ নিয়ে প্রায় চার হাজার কলম মালটার চারা গাছ রোপণ করেন।বর্তমানে একই দাগে ৩২ বিঘা মালটা আছে তার । গাছ লাগানোর দুই বছর পর ফুল আসতে শুরু করে। বর্তমানে গাছের ডালে ডালে মালটা ফলে ভরা।

প্রতি বিঘা জমিতে বছরে ৫৫-৭০ মণ মালটা ফল পাওয়া যাবে। যা বিক্রি হবে প্রায় সাড়ে তিন লাখ টাকায়। মালটার ফলন ভাল হলে বছরে কোটি টাকার ফল বিক্রি হবে। প্রতি কেজি মালটা ৮০-১০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

মালটা বাগান করতে ৫ বছরে এ পর্যন্ত খরচ হয়েছে ২৯ লাখ টাকা। উঁচু জমিতে মালটা গাছ রোপণ করতে হয়। বাগানে রাসায়নিক সারের চেয়ে জৈব সার বেশি ব্যবহার করা হয়। ৫-৬ হাত দুরত্বে গাছের চারা রোপণ করতে হয়। একটি মালটা গাছ থেকে বছরে ৩২০-৩৮০টি ফল পাওয়া যায়।  মালটা বাগানে ৯জন শ্রমিক ২৫০টাকা দিন হাজিরায় কাজ করছেন।

তিনি জানান, যখন গ্রামে মালটা বাগান করি তখন গ্রামের মুরুব্বিরা বলতেন বাবুল গাছপাগল। কারণ ধান,পাট ও গম চাষ করাই কঠিন সেখানে মালটা চাষ পাগলামি। এখন তার সফলতা দেখে সবাই আশ্চর্য! কাছে ডেকে শুনতে চায় পাগলের গল্প।তাছাড়াও যেকোন গাছ লাগানো তার নেশাই পরিণত হয়েছে ।

বাগানের শ্রমিক নুর ইসলাম, হারান আলি ও হাচান বলেন, মালটা বাগানে কাজ করে পরিবারের আর্থিক অস্বচ্ছলতা দূর হয়েছে। আগে বছরে কিছু নির্দিষ্ট সময় কাজ থাকতো। যার কারণে সংসারে অভাব অনটন লেগে থাকতো।

নতিপোতা ইউপি চেয়ারম্যান জানান, বাবুলের সফলতা দেখে গ্রামের অন্য বেকার শিক্ষিত যুবকরা মালটা বাগান তৈরি করতে আগ্রহ দেখাচ্ছে। যুবকরা মালটা চাষ করলে গ্রামে বেকারত্ব হ্রাস পাবে।

তৌহিদ তুহিন,চুয়াডাঙ্গা।


ঢাকা, সোমবার, অক্টোবর ২২, ২০১৮ (বিডিলাইভ২৪) // উ জ এই লেখাটি ৭৭০ বার পড়া হয়েছে


মোবাইল থেকে খবর পড়তে অ্যাপস ডাউনলোড করুন