সর্বশেষ
শনিবার ৩রা অগ্রহায়ণ ১৪২৫ | ১৭ নভেম্বর ২০১৮

পরিবেশবান্ধব কেঁচো কম্পোস্ট সার তৈরি করে সাড়া ফেলেছেন সাতক্ষীরার কৃষক

মঙ্গলবার, অক্টোবর ২৩, ২০১৮

rrr.jpg
সাতক্ষীরা প্রতিনিধি :

সাতক্ষীরায় পরিবেশ বান্ধব কৃষিকে এগিয়ে নিতে কাজ করে চলেছেন কৃষককের বন্ধু হিসেবে পরিচিত ইয়ারব হোসেন। তিনি কেঁচো কম্পোস্ট সার নিজে তৈরি করে তা কৃষককের মাঝে বিনা পয়সায় বিতরণ করে ইতিমধ্যে বেশ সাড়াও ফেলেছেন। কৃষকরা তা ব্যবহার করে ভাল ফলাফলও পাচ্ছেন। এলাকার এখন অনেক কৃষক তার এই সার নিয়মিত ব্যবহার করছেন।

ইয়ারব হোসেন ইতিমধ্যে সদর উপজেলার তুজলপুর গ্রামের ১৫ জন কৃষককে হাতে কলমে শিক্ষা দিয়ে কেঁচো কম্পোস্ট তৈরির সরঞ্জামাদি প্রদান করেছেন। কম খরচে বাড়িতে তৈরি এই সার জমিতে ব্যবহার করে বেশ সাড়া ফেলেছেন অনেক কৃষক। কৃষিকে এগিয়ে নিতে তিনি প্রতিনিয়ত সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন। শুধুমাত্র কৃষি ও কৃষকদের মুখে হাসি ফুটানোর জন্য তার এ উদ্যোগ।

কৃষক ইয়ারব হোসেন জানান, প্রথমে কেঁচোতে হাত দিলে গা ঘিন ঘিন করতো। তারপরও প্রাণীটি কৃষকের পরম বন্ধু হিসেবে তাকে আর অবহেলা করতে পারলাম না। মাটির উর্বরা শক্তি বাড়াতে প্রকৃতির লাঙ্গল হিসেবে কাজ করে। মাটির জৈব সার তৈরিতেও এর জুড়ি নেই। একটা সময় ছিল যখন মাটি খুঁড়লেই কেঁচো কিলবিল কিলবিল করতো। বর্তমানে জমিতে মাত্রাতিরিক্ত রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহারের ফলে জমির উর্বরা শক্তি যেমন কমেছে, তেমনি কমেছে কেঁচোও। এর কুফল ভোগ করেছে কৃষকরা। কেঁচো দিয়ে জমির উর্বরা শক্তি বাড়াতে তৈরি করা হচ্ছে জৈব সার। যা ইতিমধ্যে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

      

ইয়ারব হোসেন আরো জানান, বছর খানের আগে কৃষি বিভাগের আয়োজনে কৃষকদের নিয়ে এক অনুষ্ঠানে যান তিনি। সেখানে গোবর দিয়ে কেঁচো কম্পোস্ট সার তৈরির উপর আলোচনা শোনেন। ওই কথা শুনার পর শুরু করেন গোবর দিয়ে কেঁচো কম্পোস্ট সার তৈরির সংগ্রাম। কৃষি বিভাগের সহযোগিতায় কেঁচো নিয়ে প্রথমে ৪টি সিমেন্টের নান্দা দিয়ে শুরু করেন এ চাষ। খুব সহজে তৈরি করা যায় এ সার। খরচ নেই বললেই চলে। বর্তমানে ২২টি নান্দায় তৈরি করা হচ্ছে তার এই সার। এসব কেঁচো দেখতে লাল। গোবর খেয়ে এগুলো যে মল ছাড়ে এটিই জৈব সার। দেখতে চায়ের দানার মতো লালচে কালো। এই সার জনপ্রিয় করার জন্য কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে বিতরণ করা হচ্ছে। তিনি দুই বিঘা ধানের জমিতে এই সার ব্যবহার করেছেন। ব্যবহারের ফলে তার জমিতে বাড়তি ফলন দেখে আশপাশের কৃষকরা জৈব সার ব্যবহারে আরো আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। এই সার জমিতে ব্যবহার করা হলে জমিতে কোন প্রকার রাসায়নিক ব্যবহার করা লাগেনা। বর্তমানে কৃষকদের প্রয়োজনে তারা নিজেরা কেঁচো সার বাড়িতে তৈরি করছেন। নিজের বাড়িতে গরু থাকলে এই কেঁচো চাষ ও সার উৎপাদরে বাড়তি কোনা খরচ হয়না। শীতকাল ছাড়া সারা বছর কেঁচোর বাচ্চা হয়। আর এ গুলোর বংশবিস্তারও খুব দ্রুত ঘটে। আর এ কারনে অল্প দিনে ৫ হাজার কেঁচো থেকে তার বর্তমানে প্রায় ৩ লাখ কেঁচো দিয়ে এই সার তৈরী হচ্ছে।

সদর উপজেলার তুজলপুর গ্রামের কৃষক আমিনূর ইসলাম জানান, তিনি ১০টাকা জমিতে পটল চাষ করেছেন। পটলে প্রচুর ইউরিয়া সার ও জৈব সার ব্যবহার লাগে। ইউরিয়া সারের বদলে ইয়ারব হোসেনের উদপাদিত  জৈব সার এখন তিনি ব্যব্হার করছেন। এতে তার খরচও কম হচ্ছে। জমির উর্বরতা শক্তি বেড়ে পটলের চেহারা ও ফলন বেড়েছে। তিনি আরো জানান, কৃষককের বন্ধু হিসেবে পরিচিত ইয়ারব হোসেন আমাকে ৪টি সিমেন্টের নান্দা, কেঁচো,ও ছাউনির জন্য বিনামূল্যে টিন কিনে দিয়েছেন। বাড়িতে থাকা গরুর গোবর ও ইয়ারব হোসেনের দেওয়া উপকরণ দিয়ে তিনি বর্তমানে নিজে জৈব সার তৈরি করছেন। বাড়িতে তৈরি জৈব সার নিজের জমিতে ব্যবহার করে কৃষিতে লাভবান হচ্ছে।

সাতক্ষীরা সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আমজাদ হোসেন জানান, কেঁচো কম্পোস্ট সার তৈরি করে ইতিমধ্যে জেলাব্যাপি পরিচিত হয়ে উঠেছেন ইয়ারব হোসেন। তিনি নিজে সার তৈরি করে কৃষকের ফসলের জন্য বিনামূল্যে দিচ্ছেন। তার উদ্যেশ্য হলো এ সারকে জনপ্রিয় করে তোলা। তার খামার পরিদর্শন করেছি। তার সার নিজের তৈরি দেখে গ্রামের ২২ জন কৃষক কেঁচো কম্পোজ সার তৈরি করছেন। তিনি কেঁচো ও উপকরণ দিয়ে তাদেরকে সহযোগিতা করছেন। কৃষকরা নিজের তৈরি সার জমিতে ব্যবহার করছেন। কেঁচো কম্পোস্ট সার ফসল উৎপাদনে সহায়ক ভূমিকা রাখে। এ সারে রয়েছে পানি, নাইট্রোজেন, পটাশ, ম্যাগনেশিয়াম, ফসফরাস, সালফার ও বোরন। এ সার মাটির পুষ্টিগুন বৃদ্ধি করে। বেলে মাটির পানি ধারন ক্ষমতা বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। মাটিতে উপকারি অনুজীবের কার্যক্রম বৃদ্ধি করে। মাটির ভৌত রাসায়নিক ও জৈবিক গুনাগুন বৃদ্ধি করে। এ স্যার ব্যবহারে মাটির গঠন উন্নত হয় এবং উৎপাদিত ফসলের গুনগতমান ভালো হয়।

সাতক্ষীরা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কাজী আব্দুল মান্নান জানান, কৃষক ইয়ারব হোসেন কৃষিকে এগিয়ে নিতে নিরলসভাবে কাজ করেছেন। তিনি কেঁচো কম্পোস্ট সার তৈরি করে সাধারণ কৃষকরে মধ্যে দিচ্ছেন। ইয়ারব হোসেনের কেঁচো কম্পোস্ট সার তৈরির খামার পরির্দশন করে তার নিজের হাতের কাজ আমি দেখেছি। তিনি ইতিমধ্যে কৃষকরে বন্ধু হিসেবে পরিচিত লাভ করেছেন। তিনি বৃক্ষ সংরক্ষণ ও গবেষনা জন্য প্রধানমন্ত্রীর পুরস্কারও পেয়েছেন।

জি এম কামরুজ্জামান, সাতক্ষীরা প্রতিনিধি।


ঢাকা, মঙ্গলবার, অক্টোবর ২৩, ২০১৮ (বিডিলাইভ২৪) // পি ডি এই লেখাটি ১৭৮১ বার পড়া হয়েছে


মোবাইল থেকে খবর পড়তে অ্যাপস ডাউনলোড করুন