সর্বশেষ
বুধবার ১২ই আষাঢ় ১৪২৬ | ২৬ জুন ২০১৯

শাহজাদপুরে নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত সহস্রাধিক শিশু

রবিবার, ডিসেম্বর ২, ২০১৮

99.jpg
ফারুক হাসান কাহার, শাহজাদপুর প্রতিনিধি :

শাহজাদপুর উপজেলা সহ সারাদেশে ইতোমধ্যেই শীতের আগমণের শুরুতেই উপজেলার সর্বত্র ঠান্ডাজনিত কারণে বৃদ্ধ ও শিশুদের মাঝে ব্যাপক হারে ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়া ছড়িয়ে পড়েছে। প্রতিদিন সহস্রাধিক ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়া আক্রান্ত রোগীরা চিকিৎসা নিচ্ছেন বিভিন্ন সরকারি, বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে।

বিভিন্ন হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, এ বছর শীতের শুরুতেই রোগীর সংখ্যা বিগত ৫ বছরের রেকর্ড অতিক্রম করেছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, ঋতু পরিবর্তনের কারণে শিশু ও বৃদ্ধরা বেশি আক্রান্ত হচ্ছে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া ও শ্বাসকষ্ট রোগে। এ কারণে প্রতিদিন হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোতে প্রায় হাজারখানেক রোগী চিকিৎসা নিতে ভিড় জমানোর ফলে ডাক্তার ও নার্সদের চিকিৎসা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে দিনরাত। শাহজাদপুরে সরকারিভাবে প্রতিষ্ঠিত ৫০ শয্যা বিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, পৌর সদরে অবস্থিত একটি এনজিও পরিচালিত শিশু হাসপাতাল ও মাতৃসদন এবং বিভিন্ন ক্লিনিকে এ সকল রোগীর ভীড় বাড়ছে।
 
শাহজাদপুর শিশু হাসপাতালের ডাঃ মোঃ খালিদ হোসেন জানান, ঋতু পরিবর্তনের এই সময়ে দিনের তাপমাত্রা উষ্ণ থাকে অন্যদিকে রাতে তাপমাত্রা কমে শীতের তীব্রতা বৃদ্ধি পাওয়ায় শিশু স্বাস্থ্যে চরম বিঘœ ঘটছে। ফলে ঠান্ডাজনিত কারণে ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্ট সহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে শিশু ও বৃদ্ধরা।

এ বিষয়ে শাহজাদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসক ডা. মনোয়ার হোসেন সুজন জানান, নিউমোনিয়া ফুসফুস ও শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ হয় ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস ও ছত্রাক থেকে। তবে সর্দি কাশিই নিউমোনিয়া নয়। যখন জ্বরের সঙ্গে কফ ও শ্বাসকষ্ট থাকে তখনই কেবল শ্বাসতন্ত্রে প্রদাহ হয় এটাই নিউমোনিয়া।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, শিশু জন্মের পরে উচ্চ মাত্রার এন্টিবায়োটিক ব্যবহার করার ফলে শিশু স্বাস্থ্যের রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা দিন দিন কমে যাচ্ছে। যে কারনে এ সকল রোগী ও স্বজনেরা এ সময়ে কষ্ট ভোগ করছে নিদারুন। দিন দিন বাড়ছে রোগীর হার।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে শিশু ও বৃদ্ধ রোগীদের শাহজাদপুর সদর থেকে সাড়ে চার কিলোমিটার দূরে পোতাজিয়ায় অবস্থিত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যেতে অসুবিধা হয়। এ জন্য ৫০ বেডের মধ্যে ১০ বেড উপজেলা সদরের শিশু ও মাতৃসদন হাসপাতালের তৃতীয় তলায় স্থাপন করা হয়েছে। এখানে সরকারি ভাবে বিনা খরচে চিকিৎসা সেবা দেয়ার কথা থাকলেও অজ্ঞাত কারণে চালুর কিছুদিন পর এ ১০ শয্যার হাসপাতালটি জনবল সংকট দেখিয়ে বন্ধ রাখা হয়েছে। অপরদিকে ৫০ শয্যা বিশিষ্ট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দ্বায়িত্বরত ডাক্তার রয়েছেন মাত্র ০৪ জন। যার মধ্যে কেউই শিশু বিশেষজ্ঞ নয়। সাধারণ ডাক্তার দিয়েই চালাতে হচ্ছে শিশু চিকিৎসা।

এ ব্যাপারে শাহজাদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ জুবাইদা মেহের নাজ জানান, জনবল সংকটের কারণে এটি বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে সেখানে আউট ডোরে চিকিৎসার পাশাপাশি বিনা মূল্যে ওষুধ দেয়া হচ্ছে।


ঢাকা, রবিবার, ডিসেম্বর ২, ২০১৮ (বিডিলাইভ২৪) // পি ডি এই লেখাটি ৪৯৮ বার পড়া হয়েছে


মোবাইল থেকে খবর পড়তে অ্যাপস ডাউনলোড করুন