সর্বশেষ
বুধবার ২৮শে অগ্রহায়ণ ১৪২৫ | ১২ ডিসেম্বর ২০১৮

অরিত্রীর ঘটনায় আমি ক্ষুব্ধ ও মর্মাহত: শিক্ষামন্ত্রী

মঙ্গলবার, ডিসেম্বর ৪, ২০১৮

nahid-medium-20180831203719.jpg
বিডিলাইভ ডেস্ক :

শিক্ষকের কাছে বাবার অপমান সইতে না পেরে রাজধানীর ভিকারুননিসা নূন স্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্রী অরিত্রী অধিকারীর (১৫) আত্মহত্যার ঘটনায় ‘ক্ষুব্ধ’ ও ‘মর্মাহত’ বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ।

মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বেইলি রোডে ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ক্যাম্পাসে আসেন শিক্ষামন্ত্রী। সেখানে তিনি স্কুলের শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন।

শিক্ষকের কথায় অপমানিত হয়ে আত্মহত্যার ঘটনাকে ‘অত্যন্ত হৃদয়বিদারক’ বলে মন্তব্য করেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, একজন শিক্ষার্থী কতটা অপমানিত হলে আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়? ঘটনার পেছনের কথাও শুনছি। ঘটনার পেছনে বা ঘটনার সঙ্গে যারাই জড়িত থাকুক, প্রমাণ পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নাহিদ জানান, এ ঘটনায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের ঢাকা অঞ্চলের পরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ ইউসুফকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে তিন দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

এদিকে ছাত্রীর আত্মহত্যার ঘটনায় তিন সদস্যের পৃথক তদন্ত কমিটি গঠনের কথা বলেছে স্কুল কর্তৃপক্ষ। স্কুলটির ভারপ্রাপ্ত প্রিন্সিপাল নাজনীন ফেরদৌস বলেন, এ ঘটনায় আমরা তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছি। কমিটিকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, যে শিক্ষক তাকে ভর্ৎসনা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে তদন্তে এর প্রমাণ পাওয়া গেলে স্কুলের নিয়ম অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এর আগে অরিত্রীর বাবা দিলীপ অধিকারী বলেন, অরিত্রী পরীক্ষার হলে মোবাইলে নকল করছে— এমন অভিযোগে তাকে সোমবার বাবা-মাকে নিয়ে স্কুলে যেতে বলা হয়। তিনি স্ত্রী ও অরিত্রীকে নিয়ে স্কুলে যান। তারা প্রথমে ভাইস প্রিন্সিপালের কক্ষে যান। তারা মেয়ের হয়ে তার কাছে ক্ষমা চান। কিন্তু তিনি তাদের অপমান করে বের হয়ে যেতে বলেন। মেয়ের টিসি নিয়ে যেতেও বলেন ভাইস প্রিন্সিপাল। এরপর তিনি প্রিন্সিপালের কাছে গিয়ে ক্ষমা চান। একপর্যায়ে অরিত্রী তার পা ধরে ক্ষমা চায়। তাতেও কাজ হয়নি। প্রিন্সিপাল তাদের অপমানজনক কথাবার্তা বলে তার কক্ষ থেকে বের করে দেন।

দিলীপ অধিকারী অারো বলেন, ওই ঘটনার পর অরিত্রী দ্রুত প্রিন্সিপালের কক্ষ থেকে বের হয়ে যায়। পরে স্ত্রীসহ তিনি বাড়ি গিয়ে দেখেন, অরিত্রী তার কক্ষে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়নায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় ঝুলছে। অরিত্রীকে প্রথমে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেন তাঁরা। পরে ঢাকা মেডিকেলে নেওয়া হয়। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।


ঢাকা, মঙ্গলবার, ডিসেম্বর ৪, ২০১৮ (বিডিলাইভ২৪) // পি ডি এই লেখাটি ৪৭৬ বার পড়া হয়েছে


মোবাইল থেকে খবর পড়তে অ্যাপস ডাউনলোড করুন