সর্বশেষ
রবিবার ৮ই বৈশাখ ১৪২৬ | ২১ এপ্রিল ২০১৯

মির্জা ফখরুলের গাড়িতে মনোনয়ন বঞ্চিতদের হামলা

রবিবার, ডিসেম্বর ৯, ২০১৮

48223944_2195237217153565_7174967520527384576_n-750x430.jpg
বিডিলাইভ ডেস্ক :

মনোনয়ন ঘোষণার পর থেকে বঞ্চিত প্রার্থীদের তোপের মুখে পড়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গতকাল শনিবার সন্ধ্যার পর থেকে মনোনয়নবঞ্চিত এহছানুল হক মিলন, তৈমুর আলম খন্দকার ও সেলিমুজ্জামান সেলিমের অনুসারী কর্মী-সমর্থকেরা সন্ধ্যায় বিএনপির চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার গুলশান কার্যালয়ে বিক্ষোভ করে ভাঙচুর করেন।

এসময় তারা কার্যালয়ের প্রধান ফটকে লাথি মারেন, ধাক্কা দেন, ইট-পাটকেল ছুড়ে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। তাদের ছোড়া ইটের আঘাতে কার্যালয়ের জানালার কাচ ভেঙে যায়। আহত হন একজন সংবাদকর্মীও।

তারই ধারাবাহিকতায় মধ্যরাতে বিএনপি মহাসচিবের গাড়িতে হামলা করেছে মনোনয়ন বঞ্চিত সমর্থকরা। এসময় গাড়ির গ্লাস ভেঙে যায় এবং চালক হেলাল আহত হন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শনিবার রাত আড়াইটায় মির্জা ফখরুল গুলশানের চেয়ারপার্সনের কার্যালয় থেকে বের হওয়ার সময় তার গাড়ি অবরুদ্ধ করা হয়। দীর্ঘ ৩০ মিনিট চেষ্টা করেও তিনি কার্যালয় থেকে বের হতে পারেননি।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসায় রাত ৩টার দিকে খালেদা জিয়ার নিরাপত্তাকর্মী চেয়ারপার্সনস সিকিউরিটি ফোর্স (সিএসএফ) একটি মানববেষ্টনী তৈরি করে তাকে ঘিরে গুলশান-২ নম্বর চত্বরের দিকে নিয়ে যান। সেসময় মির্জা ফখরুলের ব্যক্তিগত গাড়িটি কার্যালয় থেকে খালি বেরিয়ে মূল সড়ক থেকে ফখরুলকে তুলে নিয়ে যায়।

এর আগে সন্ধ্যা থেকে দেশের বিভিন্ন আসনে বিএনপির মনোনয়ন বঞ্চিত প্রার্থীদের কর্মী সমর্থকরা আন্দোলন করে।

জানা যায়, মনোনয়নবঞ্চিত এহছানুল হক মিলনের অনুসারীরা ফখরুলের পথ আটকে তাঁকে চারপাশ থেকে ঘিরে রাখেন। তাদের সঙ্গে যোগ দেন গোপালগঞ্জ-১ আসনের সেলিমুজ্জামান সেলিম ও মানিকগঞ্জে প্রয়াত মহাসচিব খন্দকার দেলোয়ার হোসেনের ছেলে অ্যাডভোকেট খোন্দকার আবদুল হামিদ ডাবলুর কয়েক হাজার নেতাকর্মী।

বিক্ষোভ চলাকালীন সময় ভেতরেই ছিলেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, নজরুল ইসলাম খান, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়সহ সিনিয়র কয়েক নেতা।

পরিস্থিতি শান্ত করতে দেলোয়ারের দুই ছেলে ও মেয়েকে কার্যালয়ের ভেতরে ডেকে নেয়া হয়। এসময় নজরুল ইসলাম খান তাদের সঙ্গে কথা বলেন।

দেলোয়ারের সন্তানরা নজরুল ইসলাম খানের কাছে জানতে চান, এ দলে কি তার বাবার কোনো অবদান নেই। মনোনয়ন তো দূরের কথা, তাদের কেন কার্যালয়ে ঢুকতে দেয়া হল না? এসময় নজরুল ইসলাম খান তাদের শান্ত হতে বলেন। বাইরে বিক্ষুব্ধ কর্মীদের চলে যেতে বলেন। কার্যালয়ের নিচতলায় তাদের অপেক্ষা করতে বলেন নজরুল।

এরপর তৈমুর আলম খন্দকারকে ভেতরে ডাকেন নজরুল ইসলাম খান। তার সঙ্গে কথা বলেন তিনি। এসময় তৈমুর ক্ষুব্ধ কণ্ঠে বলেন, আমি কার্যালয়ের বাইরে আছি। মহাসচিবসহ আপনারা কীভাবে বাইরে বের হন, তা আমি দেখে নেব। এ বলে তিনি নিচে চলে আসেন।

দুপুরে চাঁদপুর-১ আসনের মনোনয়নবঞ্চিত সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী দলের আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক এহছানুল হক মিলনের অনুসারীরা নয়াপল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ করেন।

একপর্যায়ে তারা কার্যালয়ের প্রধান ফটকে তালা লাগিয়ে দেন। মূল গেটে প্রতিবাদ মিছিল লেখা একটি ব্যানার টাঙিয়ে দেয়া হয়। এ সময় মিলনের স্ত্রী নাজমুন নাহার বেবী ছাড়াও বিক্ষোভে অংশ নেন চাঁদপুরের কচুয়া থানা বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।

শেষ খবর হলো, সাবেক মহাসচিব খোন্দকার দেলোয়ার এর ছেলে খন্দকার আব্দুল হামিদ ডাবলু মানিকগঞ্জ-১ আসনে চূড়ান্ত মনোনয়ন পেয়েছেন। কুমিল্লা-১০ আসনে চূড়ান্ত মনোনয়ন পেয়েছেন মনিরুল হক চৌধুরী।

মনোনয়ন বঞ্চিত এহছানুল হক মিলন, তৈয়মুর আলম খন্দকার ও সেলিমুজ্জামানের বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

এর মধ্যে এহছানুল হক মিলন কারাগারে রয়েছেন। তার সমর্থকরা বলছেন, আমাদের নেতা আজীবন ত্যাগ করছেন। তিনি বর্তমানে ৩৮টি মামলার আসামী হয়ে কারাগারে বন্দী। তাকে ছাড়া অন্য কাউকে মনোনয়ন দেয়া হলে আমরা মানবো না। অন্য কাউকে এলাকায় যেতে দেব না। মনোনয়ন না পেলে আমরা গুলশন অফিস ছেড়ে যাবো না। সূত্র: চ্যানেল আই অনলাইন


ঢাকা, রবিবার, ডিসেম্বর ৯, ২০১৮ (বিডিলাইভ২৪) // পি ডি এই লেখাটি ৯৩৮ বার পড়া হয়েছে


মোবাইল থেকে খবর পড়তে অ্যাপস ডাউনলোড করুন