সর্বশেষ
রবিবার ৭ই মাঘ ১৪২৫ | ২০ জানুয়ারি ২০১৯

তাড়াশে অরক্ষিত ১৩ শহীদের গণকবর

রবিবার, ডিসেম্বর ৯, ২০১৮

1.jpg
সোহেল রানা সোহাগ, সিরাজগঞ্জ থেকে :

সিরাজগঞ্জের তাড়াশে স্বাধীনতার ৪৭ বছর পরও অযত্নে অবহেলায় পরে আছে ১৩ শহীদের গণকবর। এখনো সরকারি ভাবে সংরক্ষিত হয়নি গণকবরটি।

জানা গেছে, ১৯৭১ সালের ১১ নভেম্বর তাড়াশ সদরের অদূরে নওগাঁ যুদ্ধে পলাশ ডাঙ্গা যুবশিবিরের মুক্তিযোদ্ধারে কাছে পাকবাহিনী নির্মম ভাবে পরাজিত হয়। আর এ পরাজয়ের প্রতিশোধ নিতে রাজাকারদের সহায়তায় ১৩ নভেম্বর উপজেলা আমবাড়িয়া গ্রামের ইয়ার মোহাম্মদের নেতৃত্বে গঠিত মুক্তিকামী , মেছের উদ্দিন, সুলতান শেখ, শফিজ শেখ, দেছের প্রাং, ফয়েজউদ্দিন, ওসমান গনি, মজিবর রহমান, কিসমত আলী, জুব্বার ফকির, আমিনুদ্দিন, আ. রহমান, মোক্তার হোসেন সহ ১৩ মুক্তিযোদ্ধাকে গুলি করে ও আগুনে পুরিয়ে নির্মম ভাবে হত্যা করে।

পরে গ্রামবাসী ১৩ মুক্তিযোদ্ধাকে উপজেলার মাগুড়া ইউনিয়নের আমবাড়িয়া গ্রামে একই কবরে সমাহিত করে। দেশপ্রেমী বীর সেনাদের গণকবরটি আজও অরক্ষিত হয়ে পরে আছে। এটি সংরক্ষণ না করলে একদিন নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে মুক্তিযুদ্ধে পাক-হানাদার বাহিনীর হত্যাযজ্ঞের কালের সাক্ষী হয়ে থাকা এ গণকবর।

শহীদ ইয়ার মোহাম্মদের এর কনিষ্ঠ ছেলে হাবিবুর রহমান জানান, পলাশ ডাঙ্গা যুবশিবিরের সহ-সর্বাধিক নায়ক, স্থানীয় সাংসদ গাজী ম.ম আমজাদ হেসেন মিলন ওই ১৩ শহীদের গণকবর প্রাথমিক ভাবে চিহ্নিত করে সামান্য কিছু সংস্কার করলেও সরকারি ভাবে গণকবরটির কোন সংস্কার কাজ করা হয়নি। স্বাধীনতার ৪৭ বছর পরও অযত্ন ও অবহেলায় পরে আছে গণকবরটি।

তাড়াশ উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার গাজী আরশেদুল ইসলাম , গণকবরটি সরকারি ভাবে সংরক্ষণ করে এবং এখানে একটি স্মৃতিস্তম্ভ তৈরি করে স্বাধীনতার জন্য আত্মদান কারীদের সম্মানিত করার দাবী জানান।

এ ব্যাপারে তাড়াশ উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইফ্ফাত জাহান বলেন, মুক্তিযোদ্ধারা ও আমরা উপজেলা প্রশাসন প্রতিবছর ২১ শে ফেব্রুয়ারি, ২৬ মার্চ, ১৬ ডিসেম্বর ওই ১৩ শহীদের গণকবরে গিয়ে দোয়া ও মিলাদ পরে থাকি। ১৩ শহীদের ওই গণকবরে সংস্কারের প্রচেষ্টা চলছে।


ঢাকা, রবিবার, ডিসেম্বর ৯, ২০১৮ (বিডিলাইভ২৪) // এস আর এই লেখাটি ৪৬২ বার পড়া হয়েছে


মোবাইল থেকে খবর পড়তে অ্যাপস ডাউনলোড করুন