সর্বশেষ
রবিবার ৩রা অগ্রহায়ণ ১৪২৬ | ১৭ নভেম্বর ২০১৯

ফের আন্দোলনে নামছে বুয়েট শিক্ষার্থীরা

সোমবার, অক্টোবর ১৪, ২০১৯

BUET_44420191010195808.jpg
বিডিলাইভ ডেস্ক :

আবরার ফাহাদ হত্যার বিচারের দাবিতে আগামীকাল মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) থেকে ফের আন্দোলনে নামছে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ৫ দফা দাবি মেনে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করার পরেও এবার ১০ দফা দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছে তারা।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানান, ১০ দফা দাবি বাস্তবায়ন এখনো শেষ হয়নি। আবরার হত্যার বিচার না পাওয়া পর্যন্ত ঘরে ফিরবো না। মঙ্গলবার আগের মতোই মিছিল, সমাবেশ ও স্লোগানের মধ্য দিয়ে দাবি আদায়ের কর্মসূচি পালন করা হবে।

বুয়েট শিক্ষার্থী তিথি বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে জানান, আমাদের দাবি বাস্তবায়নে দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে। তার মানে এই নয় দাবি বাস্তবায়িত হয়েছে। অভিযানের কথা বলা হলেও ড. এম এ রশিদ হলে এখনো অভিযান চালানো হয়নি। এছাড়াও যাদেরকে বিতাড়িত করা হয়েছে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পর তারা ফিরে এলে প্রশাসন কি পদক্ষেপ নেবেন তা আমাদেরকে নিশ্চিত করেনি।

এ বিষয়ে বুয়েট উপাচার্য অধ্যাপক ড. সাইফুল ইসলাম বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, আমরা বিভিন্নভাবে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছি। আমরা তাদের দাবিগুলো মেনে নিয়েছি, সেক্ষেত্রে আমরা যথেষ্ট আন্তরিক। আমি রাজনীতিবিদ নই, তাই রাজনীতি বন্ধ করা আমার জন্য কঠিন কাজ । তারপরও তাদের দাবি মেনে আমি ক্যাম্পাসে রাজনীতি বন্ধ করেছি। আমি গতকাল প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেছি, তিনি আমাকে সহযোগীতার পূর্ণ আশ্বাস দিয়েছেন। আমরাও আন্তরিক, সরকারও আন্তরিক সেটা শিক্ষার্থীরাও বুঝতে পেরেছে।

একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালনায় শিক্ষার্থীদের সহায়তা করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা যে আন্তরিক শিক্ষার্থীরা সেটি বুঝতে পেরেছে সেজন্য তাদের ধন্যবাদ জানাই। আমরা যতদ্রুত সম্ভব এটি সমাধানের চেষ্টা করব। তাদের সমস্যাগুলো একে একে সমাধান করব। একদিনে তো অনেকদিনের সমস্যা সমাধান করা সম্ভব না। আমি বলছি যতবার প্রয়োজন তাদের সঙ্গে বসব। কারণ আমাদের একাডেমিক কার্যক্রম শুরু করতে হবে। আমি তাদের সহযোগিতা চাই।

তবে সাধারণ শিক্ষার্থীরা জানান, আগে দাবি আদায়ে বিভিন্ন সময় বুয়েট ক্যাম্পাসে আন্দোলন করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ সেসব দাবি মেনে নেওয়ার ঘোষণা দিলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। এ কারণে শিক্ষার্থীরা প্রশাসনের উপর আস্থা হারিয়েছে। প্রশাসনের উচিত আগে শিক্ষার্থীদের আস্থা অর্জন করা।

ছাত্ররাজনীতি বন্ধের ব্যাপারে তারা বলেন, বুয়েটে অধিকার আদায়ে সাতটি হলে আমাদের সাতজন প্রতিনিধি রয়েছে। সরকার দলীয় ছাত্র সংগঠন তা দখল করে রেখেছে। আমরা প্রতিটি হলে নির্বাচনের মাধ্যমে হল প্রতিনিধি নির্বাচিত করতে পারবো। যারা ছাত্রছাত্রীর অধিকার সংরক্ষণে কাজ করতে পারবেন।

এর আগে শিক্ষার্থীদের দাবি মেনে গত শনিবার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে বুয়েট প্রশাসন। দাবিগুলো হলো আবরারের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা, মামলায় অভিযুক্ত ১৯ জন শিক্ষার্থীকে সাময়িক বহিষ্কার, ছাত্ররাজনীতি বন্ধ ও অছাত্রদেরকে হল থেকে বের করা, ছাত্র নির্যাতন প্রতিরোধে অনলাইন প্লাটফর্ম তৈরি এবং হলের চতুর্দিকে সিসিটিভি সংযোজন।

পরে দুপুরে বুয়েট ক্যাম্পাস ক্যাফেটেরিয়ার সামনে আলোচনা করে ভর্তি পরীক্ষার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ১৩ ও ১৪ অক্টোবর আন্দোলন শিথিলের সিদ্ধান্ত নেয় আন্দোলনকারীরা। এ সময় আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা জানান, বুয়েটের ভর্তি পরীক্ষা যথা সময়েই অনুষ্ঠিত হবে। আবরার হত্যার প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলনের জন্য যে উৎকণ্ঠার সৃষ্টি হয়েছিল ভর্তি পরীক্ষার কারণে সেই আন্দোলন শিথিল করা হলো।

আন্দোলনকারীদের ১০ দফা দাবিগুলো হলো:

১. খুনিদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। সিসিটিভি ফুটেজ ও জিজ্ঞাসাবাদে প্রাপ্ত তথ্যানুসারে শনাক্তকারী খুনিদের প্রত্যেকের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

২. বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে সিসিটিভি ফুটেজ থেকে শনাক্ত করা সবাইকে ১১ অক্টোবর, ২০১৯ বিকেল পাঁচটার মধ্যে আজীবন বহিষ্কার নিশ্চিত করতে হবে।

৩. মামলা চলাকালে সব খরচ এবং আবরারের পরিবারের সব ক্ষতিপূরণ বুয়েট প্রশাসনকে বহন করতে হবে। এ মর্মে অফিশিয়াল নোটিশ ১১ তারিখ পাঁচটার মধ্যে প্রদান করতে হবে।

৪. দায়েরকৃত মামলা দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের অধীনে স্বল্পতম সময়ে নিষ্পত্তি করতে বুয়েট প্রশাসনকে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে হবে। বুয়েট প্রশাসনকে সক্রিয় থেকে সব প্রক্রিয়া নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করতে হবে এবং নিয়মিত ছাত্রদের আপডেট করতে হবে।

৫. অবিলম্বে চার্জশিটের কপিসহ অফিশিয়াল নোটিশ দিতে হবে।

৬. বুয়েটে সাংগঠনিক ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ করতে হবে। রাজনৈতিক সংগঠনের ব্যানারে দীর্ঘদিন ধরে বুয়েট হলে হলে ত্রাসের রাজনীতি কায়েম করে রাখা হয়েছে। জুনিয়র মোস্ট ব্যাচকে সব সময় ভয়ভীতি প্রদর্শনপূর্বক জোর করে রাজনৈতিক মিটিং–মিছিলে যুক্ত করা হয়েছে। রাজনৈতিক ক্ষমতার অপব্যবহার করে যেকোনো সময় যেকোনো হল থেকে সাধারণ ছাত্রদের জোর প্রদর্শনপূর্বক হল থেকে বিতাড়িত করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক ক্ষমতার অপব্যবহার করে হলে হলে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন করা হয়েছে। রাজনৈতিক সংগঠনের এমন কর্মকাণ্ডে সাধারণ শিক্ষার্থীরা ক্ষুব্ধ। তাই আগামী ৭ দিনের মধ্যে (১৫ অক্টোবর) বুয়েটে সব রাজনৈতিক সংগঠন এবং এর কার্যক্রম স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ করতে হবে।

৭. বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য কেন ৩০ ঘণ্টা অতিবাহিত হওয়ার পরও ঘটনাস্থলে উপস্থিত হননি এবং ৩৮ ঘণ্টা পরে উপস্থিত হয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বিরূপ আচরণ করেন এবং কোনো প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে স্থান ত্যাগ করেন। তাঁকে সশরীরে ক্যাম্পাসে এসে আজ বেলা দুইটার মধ্যে জবাবদিহি করতে হবে।

৮. আবাসিক হলগুলোতে র‍্যাগের নামে ও ভিন্ন মতাবলম্বীদের ওপর সব ধরনের শারীরিক এবং মানসিক নির্যাতন বন্ধে করতে হবে এবং এ ধরনের সন্ত্রাসে জড়িত সবার ছাত্রত্ব প্রশাসনকে বাতিল করতে হবে। একই সঙ্গে আহসানউল্লা হল এবং সোহরাওয়ার্দী হলের পূর্বের ঘটনাগুলোতে জড়িত সবার ছাত্রত্ব বাতিল ১১ অক্টোবর, ২০১৯ তারিখ বিকেল পাঁচটার মধ্যে নিশ্চিত করতে হবে।

৯. পূর্বের ঘটনা এ ধরনের ঘটনা প্রকাশ এবং পরবর্তী সময়ে ঘটা যেকোনো ঘটনা প্রকাশের জন্য একটা কমন প্ল্যাটফর্ম, কোনো সাইট বা ফর্ম থাকতে হবে এবং নিয়মিত প্রকাশিত ঘটনা রিভিউ করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে বিচারের ব্যবস্থা নিতে হবে। এই প্ল্যাটফর্ম হিসেবে বুয়েটের বিআইআইএস অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করতে হবে এবং ১১ অক্টোবর, ২০১৯ তারিখ বিকেল পাঁচটার মধ্যে দৃশ্যমান অগ্রগতি প্রদর্শন করতে হবে। পরবর্তী ১ তারিখের মধ্যে কার্যক্রম পূর্ণরূপে শুরু করতে হবে। নিরাপত্তার স্বার্থে সব হলের প্রত্যেক ফ্লোরে উইংয়ের দুপাশে সিসিটিভি ক্যামেরার ব্যবস্থা করতে হবে।

১০. রাজনৈতিক ক্ষমতা ব্যবহার করে আবাসিক হল থেকে ছাত্র উৎখাতের ব্যাপারে অজ্ঞ থাকা এবং ছাত্রদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ হওয়ায় শেরে বাংলা হলের প্রভোস্টকে ১১ অক্টোবর, ২০১৯ তারিখ বিকেল পাঁচটার মধ্যে প্রত্যাহার করতে হবে।

উল্লেখ্য, গত ৬ অক্টোবর রাতে বুয়েটের শেরে বাংলা হলের ২০১১ নম্বর কক্ষে ডেকে নিয়ে আবরারকে পিটিয়ে হত্যা করেন বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতাকর্মী। আবরার বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ইলেক্ট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেক্ট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের (১৭তম ব্যাচ) শিক্ষার্থী।


ঢাকা, সোমবার, অক্টোবর ১৪, ২০১৯ (বিডিলাইভ২৪) // এস এ এই লেখাটি ১৪৭ বার পড়া হয়েছে


মোবাইল থেকে খবর পড়তে অ্যাপস ডাউনলোড করুন