সর্বশেষ
বুধবার ২৯শে কার্তিক ১৪২৬ | ১৩ নভেম্বর ২০১৯

অর্থনীতিতে বাঙালির ফের নোবেল জয়

মঙ্গলবার, অক্টোবর ১৫, ২০১৯

4.jpg
বিডিলাইভ ডেস্ক :

অর্থনীতিতে নোবেল পেলেন অভিজিৎ বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়। অমর্ত্য সেনের পরে দ্বিতীয় বাঙালি হিসেবে অর্থনীতির ক্ষেত্রে এই সম্মানে ভূষিত হলেন অভিজিৎ বিনায়ক। একই সঙ্গে নোবেল সম্মান পেলেন তার স্ত্রী এস্থার ডাফলোও। পুরস্কৃত হলেন অর্থনীতিবিদ মাইকেল ক্রেমারও।

নোবেল কমিটি জানাচ্ছে, দারিদ্র দূরীকরণ নিয়ে গবেষণার জন্যেই পুরস্কার দেওয়া হল এই ত্রয়ীকে। এস্থার অর্থনীতিতে বিশ্বের সর্বকনিষ্ঠ নোবেল প্রাপক। বিশ্বের দ্বিতীয় মহিলা হিসেবে অর্থনীতিতে নোবেল পেলেন তিনি।

এদিন নোবেল কমিটির বিবৃতিতে বলা হয়, ‘ওদের গবেষণা গোটা বিশ্বকে দারিদ্রের বিরুদ্ধে লড়ার নতুন হাতিয়ারের সন্ধান দিয়েছে। মাত্র দুই দশকে ওদের গবেষণা পদ্ধতি উন্নয়ন অর্থনীতির রূপরেখা বদলে দিয়েছে। এখন অর্থনীতির গবেষণায় এটি অন্যতম পাথেয় মডেল।’

এই মুহূর্তে ফোর্ড ফাউন্ডেশনের আন্তর্জাতিক অধ্যাপক হিসেবে এমআইটি-তে কর্মরত অভিজিৎ বিনায়ক। ২০১৩ সালে অভিজিৎ এবং এস্থার ডাফলো যুগ্মভাবে ‘আব্দুল লতিফ জামিল পভার্টি অ্যাকশান ল্যাব’ গড়ে তুলেছিলেন বিশ্বের দারিদ্র নিয়ে গবেষণার জন্যে। তাঁদের পরীক্ষামূলক গবেষণাকেই সম্মান জানাচ্ছে নোবেল কমিটি।

অমর্ত্য সেনের পরে দ্বিতীয় বাঙালি হিসাবে অর্থনীতিতে নোবেল পাচ্ছেন অভিজিৎ বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়। দুজনেই বাঙালি, দুজনেই প্রেসিডেন্সি কলেজে পড়াশোনা করেছেন। জেনে নিন

অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্ম ১৯৬১ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি কলকাতায়। বাবা দীপক বন্দ্যোপাধ্যায় ও মা নির্মলা বন্দ্যোপাধ্যায় - দুজনেই অর্থনীতির অধ্যাপক ছিলেন। নির্মলা বন্দ্যোপাধ্যায় অধ্যাপনা করতেন সেন্টার ফর স্টাডিজ ইন সোশ্যাল সায়েন্সেসে এবং দীপক বন্দ্যোপাধ্যায় অধ্যাপনা করতেন প্রেসিডেন্সিতে।

প্রথমে সাউথ পয়েন্ট স্কুল ও পরে প্রেসিডেন্সি কলেজে পড়াশোনা করেন অভিজিৎ। দিল্লির জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা শেষে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি করেন। বর্তমানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটে ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজিতে অর্থনীতির অধ্যাপক হিসাবে যুক্ত।

২০০৪ সালে আমেরিকান অ্যাকাডেমি অফ আর্টস অ্যান্ড সায়েন্সের ফেলো হন। অভিজিত্‍ বিয়ে করেন হার্ভার্ডে সহপাঠী অরুন্ধতি তুলি বন্দ্যোপাধ্যায়কে। পরে বিচ্ছেদ হয়ে গেলে হার্ভার্ডেরই অধ্যাপিকা অ্যাস্টার ডাফলোকে বিয়ে করেন।

অর্থনীতি বিষয়ে বিনায়কের লেখা চারটি বই বিশ্বজুড়ে সমাদৃত। তার মধ্যে ‘পুওর ইকোনোমিক্স’ বইটি গোল্ডম্যান স্যাকস বিজনেস বুক সম্মানে ভূষিত হয়।

অন্য নোবেল প্রাপক এস্থারের জন্ম ১৯৭২ সালে প্যারিসে। অভিজিতের স্ত্রী এস্থার ডাফলোর গবেষণাও এমআইটি থেকে। এস্থারের গবেষণার বিষয় ছিল, ‘দারিদ্র দূরীকরণে সামাজিক নীতি নির্ধারণ’। দীর্ঘদিন সহযোদ্ধা হিসেবে কাজ করেছেন অভিজিৎ-এস্থার। এই প্রথম কোনো দম্পতি এক সঙ্গে একই বিষয়ে নোবেল পুরস্কার পেলেন।


ঢাকা, মঙ্গলবার, অক্টোবর ১৫, ২০১৯ (বিডিলাইভ২৪) // এস আর এই লেখাটি ৩১১ বার পড়া হয়েছে


মোবাইল থেকে খবর পড়তে অ্যাপস ডাউনলোড করুন