সর্বশেষ
শুক্রবার ১০ই বৈশাখ ১৪২৮ | ২৩ এপ্রিল ২০২১

টিভি বিতর্কে জনসনকে চ্যালেঞ্জ জানালেন করবিন

ব্রিটেনে আগাম নির্বাচন

বৃহস্পতিবার, নভেম্বর ২১, ২০১৯

75443117_623536878185039_4183494598108119040_n.jpg
বিডিলাইভ ডেস্ক :

ব্রেক্সিট চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার আগে ব্রিটেনে আগাম নির্বাচনের ডাক দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। আগামী ১২ ডিসেম্বর এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচন নিয়ে নিজেদের প্রতিশ্রুতির বিষয়ে জানাতে প্রথম টেলিভিশন বিতর্কে হাজির হন প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন ও বিরোধী নেতা জেরোমি করবিন। বিতর্কে ব্রেক্সিটের প্রশ্নে দুই নেতা ভিন্ন গতিপথ তুলে ধরেন। বিতর্ক শেষে জনগণের ভোটে আশাতীত সাড়া পেয়েছেন করবিন।

ব্রিটেনের কোনো নির্বাচন সম্পর্কে পূর্বাভাস যে কতটা ভুল হতে পারে, গত কয়েক বছরে বেশ কয়েকবার তা প্রমাণ হয়ে গেছে। তাই জনমত সমীক্ষায় বিরোধী লেবার দলের তুলনায় যথেষ্ট এগিয়ে থাকা সত্ত্বেও টোরি দলের নেতা ও প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন ভোটারদের মন জয় করার চেষ্টায় কোনো ত্রুটি রাখছেন না। অন্যদিকে করবিন ব্রেক্সিটসহ একাধিক বিষয়ে তার দলের বিকল্প গতিপথ তুলে ধরছেন।

মঙ্গলবার রাতে লেবার নেতা জেরেমি করবিনের সঙ্গে প্রথম টেলিভিশন বিতর্কে জনসন দাবি করেন যে, একমাত্র তিনিই ব্রিটেনকে দ্রুত ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বের করে আনতে পারবেন এবং ২০২০ সালের শেষে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে দুই পক্ষের মধ্যে বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করবেন।

এসময় জনসন মনে করিয়ে দেন, যে তিনিই ইইউর সঙ্গে বিচ্ছেদ চুক্তি প্রস্তুত করেছেন। ক্ষমতায় ফিরেই সংসদে সেটি অনুমোদন করিয়ে তিনি ৩১শে জানুয়ারি ব্রেক্সিট কার্যকর করবেন। অন্যদিকে করবিন ক্ষমতায় এলে নতুন করে ব্রেক্সিট চুক্তি নিয়ে দরকষাকষি করে দ্বিতীয় গণভোটের মাধ্যমে ভোটারদের রায় নেবার যে অঙ্গীকার করেছেন, তার ফলে ব্রেক্সিটের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়বে। লেবার দল আদৌ ব্রেক্সিটের পক্ষে অবস্থান নেবে কিনা, তিনি করবিনের দিকে সেই চ্যালেঞ্জও ছুড়ে দেন। করবিন সেই প্রশ্নে জনগণের রায় মেনে নেবার অঙ্গীকার করেন।

করবিন নিজেকে জনসনের বিকল্প হিসেবে তুলে ধরেন। তার দাবি, ৬ মাসের মধ্যে ব্রেক্সিট সংক্রান্ত গণভোট আয়োজন করে তিনিই ব্রিটেনের মানুষকে তাদের ভবিষ্যৎ বেছে নেবার প্রকৃত সুযোগ দিতে পারেন। করবিন বলেন, জনসনের ব্রেক্সিট চুক্তি মোটেই জানুয়ারি মাসের মধ্যে কার্যকর করা যাবে না। তিনি ভোটারদের উদ্দেশ্যে ১২ই ডিসেম্বর ‘ভোট ফর হোপ’ বা আশার প্রতি ভোট দেবার আহ্বান করেন। জনসন ক্ষমতায় ফিরলে শুধু ধনীদের জন্য করের ক্ষেত্রে ছাড়ের ব্যবস্থা করবেন বলে করবিন অভিযোগ করেন।

প্রায় এক ঘণ্টার টেলিভিশন বিতর্কের পর চালানো জনমত সমীক্ষায় দুই নেতাই প্রায় সমান ফল করেছেন। জনসন ৫১ শতাংশ, করবিন ৪৯ শতাংশ সমর্থন পেয়েছেন। এতকাল পিছিয়ে থাকার পর করবিনের জন্য এই ফলাফল অত্যন্ত উৎসাহজনক। প্রত্যাশার তুলনায় অনেক ভালো ফল করেছেন তিনি। তবে ব্যালট বাক্সের ওপর এই বাড়তি সমর্থনের কতটা প্রতিফলন দেখা যাবে, সে বিষয়ে কোনো পূর্বাভাষ দেওয়া অবশ্য সম্ভব নয়।

 


ঢাকা, বৃহস্পতিবার, নভেম্বর ২১, ২০১৯ (বিডিলাইভ২৪) // কে এইচ এই লেখাটি ৬০৯ বার পড়া হয়েছে


মোবাইল থেকে খবর পড়তে অ্যাপস ডাউনলোড করুন