সর্বশেষ
শুক্রবার ১৬ই ফাল্গুন ১৪২৬ | ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০

দূরে কোথাও যাওয়ার সময় নেই, যেতে পারেন পানাম নগর

শনিবার, জানুয়ারী ৪, ২০২০

DSC_2871-750x410.jpg
বিডিলাইভ রিপোর্ট :

ভ্রমণ কে না ভালোবাসে। প্রাকৃতিক নিদর্শন উপভোগ করার জন্য মানুষ ছুটে বেড়ায় এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্ত। সময় পেলেই দৃষ্টিনন্দন সব জায়গায় ঘুরতে সাত সাগর তের নদী পাড়ি দিতেও দ্বিধা নেই। কিন্তু অনেকে আবার কর্মব্যস্ততায় দূরে কোথাও ঘুরতে যেতে পারেননা। চিন্তা নেই তাদের জন্য আছে পানাম নগর। স্বল্প সময়ের ভ্রমণের জন্য যা একেবারেই উপযুক্ত।

ঢাকার পার্শ্ববর্তী নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁয়ে ইতিহাস বিজড়িত পানাম নগর অবস্থিত। এখানকার স্থাপত্য আর ঐতিহাসিক নিদর্শন মনে করিয়ে দেয় বাঙালির অতীত ইতিহাস। যারা ইতিহাস -ঐতিহ্যের স্বাক্ষী হতে চান তারা ঘুরে আসতে পারেন এ নগরে।

বারো ভুঁইয়াদের প্রধান প্রতাপশালী ঈশা খাঁ ১৫ শতকের শুরুর দিকে সোনারগাঁয়ে বাংলার প্রথম রাজধানী স্থাপন করেন। ওই সময়ে ইস্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানির বাণিজ্যিক কার্যক্রম ও চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের ফলে ইউরোপীয় অনুপ্রেরণায় নতুন ঔপনিবেশিক স্থাপত্যরীতিতে গড়ে উঠে পানাম নগর। পরবর্তী সময়ে অর্থাৎ উনিশ শতকে কিছু ধনী হিন্দু ব্যবসায়ী পানাম নগরে নিজেদের আবাসস্থল গড়ে তোলেন।

ব্রিটিশ আমলে নদীপথ দিয়ে পানাম নগরে বিলেত থেকে থান কাপড় আসত আর দেশ থেকে যেত মসলিন কাপড়। ওই সময় সোনারগাঁ সুতিবস্ত্রের, প্রধানত ইংলিশ থান কাপড়ের ব্যবসা কেন্দ্রে পরিণত হয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে গড়ে তোলা হয় পানাম নগর। ঢাকা থেকে ২৭ কিলোমিটার দূরে ২০ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে এ নগরী বিস্তৃত। ভবনগুলোর নির্মাণশৈলীতে মুগ্ধ হবেন যে কেউ।

পানাম নগরী জুড়ে রহস্য ছড়িয়ে আছে। প্রায় প্রত্যেকটা ধ্বংসস্তুপে জড়িয়ে আছে একেকটা কাহিনি। তবে ধ্বংস্তূপে হলে এখনও ভবনগুলো দেখার মতো। প্রায় ৪৫০ বছর আগে এ নগরী কতটা সমৃদ্ধ ছিল, তা বারবার ভাবতে বাধ্য করে রাস্তার দু'পাশে দাঁড়িয়ে থাকা ভবনগুলো। পানাম নগরের পথে হাঁটতে হাঁটতে ঈশা খাঁর আমলের কথা মনে হওয়া খুবই স্বাভাবিক।

ভবনগুলোর নির্মাণশৈলীতে মুগ্ধ হবেন যে কেউ। প্রতিটি ভবনের নান্দনিক কারুকাজ ও আভিজাত্যের ছোঁয়া এখনও অনুভব করা হয়। পানাম নগরীর ভেতরে রাস্তার দু’ধারে রয়েছে ৫২টি বাড়ি। যার মধ্যে রাস্তার উত্তর পাশে ৩১টি এবং দক্ষিণ দিকে রয়েছে ২১ টি ভবন। এছাড়া মসজিদ, মন্দির, মাঠ, গির্জা, নাচঘর, চিএশালা, পান্থশালা, দরবারখানা, গোসলখানা এবং গুপ্তপথও রয়েছে এ নগরে।

ভিন্ন ভিন্ন কারুকাজে নির্মিত পানাম নগরের কোনো ভবন এক তলা, কোনোটি দুইতলা, কোনোটি আবার তিনতলাবিশিষ্ট। এ নগরের তত্ত্বাবধায়ক জাহাঙ্গীর আলম ভূঁইয়া জানান, ২০০৬ সালে ‘ওয়ার্ল্ড মনুমেন্ট ফান্ডে’র তৈরি বিশ্বের ধ্বংসপ্রায় ১০০টি ঐতিহাসিক স্থাপনার তালিকায় পানাম নগর স্থান পেয়েছে। নগরটি প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের অধীনে হলেও এর দেখাশোনার কাজ করে স্থানীয় প্রশাসন। বর্তমানে এখানকার নিরাপত্তার কাজে দুই জন আনসার সদস্য নিয়োজিত আছেন। তবে এর চারপাশে কোনো ধরনের দেয়াল না থাকায় সব দিক থেকে এখানে অবৈধভাবে প্রবেশ করা যায়।

কীভাবে যাবেন:

গুলিস্তান থেকে সোনারগাঁয়ের বাসে উঠে মোগড়া পাড়া মোড়ে নামতে হবে। সেখান থেকে সিএনজি চালিত অটোরিকশা বা ইজিবাইকে করে যাওয়া যাবে পানাম নগর।


ঢাকা, শনিবার, জানুয়ারী ৪, ২০২০ (বিডিলাইভ২৪) // এ এম এই লেখাটি ১৬৯ বার পড়া হয়েছে


মোবাইল থেকে খবর পড়তে অ্যাপস ডাউনলোড করুন