সর্বশেষ
শুক্রবার ২০শে চৈত্র ১৪২৬ | ০৩ এপ্রিল ২০২০

চিরিরবন্দরে শতাধিক যুবকের সংসার চলে মোটরসাইকেল চালিয়ে

মঙ্গলবার, ফেব্রুয়ারী ৪, ২০২০

iiii.jpg
মোহাম্মদ মানিক হোসেন, চিরিরবন্দর প্রতিনিধি :

দিনাজপুরের ১৩ উপজেলার মধ্যে একমাত্র চিরিরবন্দর উপজেলার বিন্যাকুড়ি বাজারে অটোভ্যান বা রিকশার মতো ভাড়ায় মোটর সাইকেলে যাত্রী পরিবহন করে নিজের কর্মসংস্থানের সুযোগ করেছেন বেকার শতাধিক যুবক।

গত ১০ বছর ধরে এই বাজার থেকে যাত্রী ভাড়া ঠিক করার পর মোটর সাইকেল চালকের পিছনে যাত্রী বসিয়ে যাত্রীকে গন্তব্য স্থানে পৌঁছে দেয়। শুধুমাত্র বিন্যাকুড়ি বাজার থেকেই প্রায় শতাধিক মোটর সাইকেল ভাড়ায় চলাচল করে থাকে। এতে করে প্রায় শতাধিক বেকার যুবকের কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হয়েছে। একজন ভাড়ায় মোটর সাইকেল চালক প্রতিদিন সর্বনিম্ন ৫০০ টাকা থেকে প্রায় দেড় হাজার টাকা দৈনিক আয় করে থাকে।

চিরিরবন্দর উপজেলার বিন্যাকুড়ি বাজারের রাস্তার পার্শ্বে ভাড়ায় মোটর সাইকেল স্ট্যান্ড করে যাত্রীর জন্য অপেক্ষা করে প্রতিদিন শতাধিক মোটর সাইকেল চালক। মোটর সাইকেল চালকের সঙ্গে সময় ও দূরত্ব জানার পর যাত্রীর ভাড়া ঠিক করা হয়। সাধারণত এই বিন্যাকুড়ির বাজারের আশেপাশের লোকজনরাই এই মোটর সাইকেলের যাত্রী হয়। কোনো অচেনা লোকদেরকে তেমন ভাড়ায় দেয়া হয় না। জানা গেছে, বিন্যাকুড়ি বাজারের কয়েক কিলোমিটারের গ্রামের মানুষেই এই মোটর সাইকেলের যাত্রী হয়। এই মোটর সাইকেলে নারীরা যাত্রীও হয়।

মোটর সাইকেল যাত্রী আতাউর রহমান বলেন, স্বল্প সময়ের অল্প ভাড়া দিয়ে দ্রুত সময়ের মধ্যেই মোটর সাইকেল চালকরা আমাদেরকে গন্তব্য স্থানে পৌঁছে দেয়। মোটর সাইকেল ভাড়ায় পাওয়ায় নিজের প্রয়োজনীয় কাজ শেষ করে আবার নিজ বাড়ি ফিরে আসতে পারায় যাত্রীরাও অনেক খুশি থাকে।

মোটর সাইকেল যাত্রী রমজান আলী বলেন, এই এলাকার রাস্তা-ঘাট সরু হলেও মোটরসাইকেল চালকের সাহযোগিতায় অল্প সময়ের মধ্যেই নির্ধারিত স্থানে পৌঁছাতে পারছি। অনেক সময় রাতে জরুরী রোগী নিয়ে হাসপাতালে যেতে হলেও মোটর সাইকেল চালকদের ফোন দিলেই চলে আসে আমরাও রোগী নিয়ে হাসপাতালে যেতে পারি আর আমাদের সমস্যার সমাধান হয়ে যায়।

মোটর সাইকেল চালক আব্দুল কুদ্দুস বলেন, অনেক কষ্ট করে লেখাপড়া শিখে যখন কোনো চাকরি পাচ্ছি না তখন মোটর সাইকেল শো-রুমে কিছু টাকা জমা দিয়ে মোটর সাইকেল ক্রয় করি। সেই মোটর সাইকেল ভাড়ায় চালিয়ে কিস্তির টাকা পরিশোধ করছি আর নিজের পরিবারও চালাচ্ছি।

মোটর সাইকেল চালক মাসুদ রানা বলেন, চাকরি পাওয়া খুবই সমস্যা, তাই একটা মোটর সাইকেল ক্রয় করে সেই মোটরসাইকেল ভাড়ায় যাত্রী বহন করে মোটর সাইকেলের কিস্তির টাকা পরিশোধ করে অপর দিকে নিজের কর্মস্থানের সৃষ্টি হয়েছে এবং পরিবার পরিজন নিয়ে সুখেই আছি।

চিরিরবন্দর ইসবপুর ইউপি চেয়ারম্যান আবু হায়দার লিটন বলেন, ইসুবপুর ইউপির বিন্যাকুড়ি বাজারে ভাড়ায় মোটর সাইকেলে করে যাত্রী বহন করে শতাধিক বেকার যুবকের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হওয়ায় শতাধিক পরিবার আজ সুখে শান্তিতে বসবাস করছেন। মোটরসাইকেল চালকরা তারা তাদের ছেলে মেয়েদেরকে লেখাপড়া করাতে পারছেন। প্রতিদিন একজন মোটর সাইকেল চালক প্রায় ১ হাজার আয় করতে পারছেন।


ঢাকা, মঙ্গলবার, ফেব্রুয়ারী ৪, ২০২০ (বিডিলাইভ২৪) // পি ডি এই লেখাটি ৬৬৬ বার পড়া হয়েছে


মোবাইল থেকে খবর পড়তে অ্যাপস ডাউনলোড করুন