সর্বশেষ
শুক্রবার ২৬শে আষাঢ় ১৪২৭ | ১০ জুলাই ২০২০

বই পড়ুন উপহার দিন

মঙ্গলবার, ফেব্রুয়ারী ২৫, ২০২০

6.jpg
বিডিলাইভ ডেস্ক :

‘বই পড়ুন, প্রিয়জনকে বই উপহার দিন’—একসময় বই পড়া নিয়ে এ কথাটি বেশ প্রচলিত ছিল। কারণ তখন বন্ধুর জন্মদিন, বিয়ে, আপনজনের কোনো সফলতা ইত্যাদি উপলক্ষকে কেন্দ্র করে একজন আরেকজনকে বই উপহার দিতেন। শুধু তা-ই নয়, বই পড়া, বই আদান-প্রদান করা, বই সংগ্রহ করা ছিল অনেকের প্রধান শখ। সুতরাং সারা বছরই সবার মধ্যে বই নিয়ে কমবেশি আলোচনা হতো। আমি নিজেও নিজের কর্মব্যস্ততার ফাঁকে যখনই সুযোগ পাই পড়তে চেষ্টা করি। শুধু নিজে পড়েই তৃপ্ত হই না, বই পড়ায় অন্যকেও উদ্বুদ্ধ করতে চেষ্টা করি। আর মানুষকে যাঁরা বই পড়তে উদ্বুদ্ধ করেন তাঁদেরও আমার অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তুলে ধরতে চেষ্টা করি। যেমন—প্রয়াত পলান সরকার, খুলনার ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আলমগীর হোসেন শ্রাবণ, তেঁতুলিয়ার তরুণ মাহমুদুল ইসলামসহ আরো অনেককেই। তাঁরা সবাই মানুষের বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলার জন্য বাড়ি বাড়ি গিয়ে বই দিয়ে আসেন এবং পড়া শেষে পুরনো বই ফেরত নিয়ে নতুন বই দিয়ে আসেন।

বইয়ের প্রতি ভালোবাসার কারণে দীর্ঘ দুই দশক ধরে আমি ‘ইত্যাদি’র দর্শক পর্বে বিজয়ী দর্শকদের পুরস্কার হিসেবেও আমাদের ইতিহাস, ঐতিহ্য, শিল্প-সাহিত্য, সংস্কৃতি, মুক্তিযুদ্ধের ওপর লেখা বিভিন্ন বই দিয়ে আসছি। পাঠাভ্যাস গড়ে তুলতে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের অনেক পাঠাগারের চিত্রও তুলে ধরেছি। সুতরাং অনুষ্ঠানের কারণেও বছরজুড়ে আমাদের বইয়ের সান্নিধ্যে থাকতে হয়। আমাদের প্রিয় মাতৃভাষাকে বিকৃত করে ইঙ্গ-বঙ্গ মিশিয়ে নানা রঙে যাঁরা রেডিও-টিভিতে প্রচার করছেন তাঁদের বিরুদ্ধেও বিভিন্ন সময় আমরা বিভিন্ন প্রতিবেদন প্রচার করেছি, এখনো করছি। বিকৃত ভাষা, মানহীন বই দুটিই পরিত্যাগ করা উচিত। আজকাল যেমন টেলিভিশন-রেডিওতে বিকৃত ভাষা ব্যবহার করে নিম্নমানের অনুষ্ঠান করা হয়, তেমনি ফেব্রুয়ারি এলেই অনেকেই কিছু প্রকাশকের মাধ্যমে, কেউ বা নিজের অর্থ খরচ করে বই প্রকাশ করে থাকেন, যা নিম্নমানের। দুঃখজনক হলেও সত্যি, আমাদের দেশে শুধু বইমেলা এলেই বই নিয়ে, ভাষা নিয়ে সবাইকে সোচ্চার হতে দেখি। অর্থাৎ ভাষার মাস এলেই যেন আমরা জেগে উঠি, অন্য সব মাসে ঘুমিয়ে থাকি। দুঃখজনক হলেও সত্যি, মহামান্য হাইকোর্টের নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও চলছে হিন্দি-ইংরেজি-বাংলার মিশ্রণে ভাষার বিকৃতি।

ভাষা আমরা মুখে বলি, বইয়ে পড়ি, হাতে লিখি আর বইমেলা আমাদের প্রাণের মেলা, জ্ঞানের মেলা, আনন্দ মেলা। বছর ঘুরে এই মেলা আমাদের ইতিহাস, ঐতিহ্য, সভ্যতা ও সংস্কৃতিকে স্মরণ করিয়ে দেয়। প্রতিবছরই ভাষার মাসে আমরা শপথ নিই বাংলা পড়ব, বাংলা লিখব, শুদ্ধ বাংলা শিখব। শুধু তা-ই নয়, এ মাসেই আমরা বেশি বেশি করে সর্বস্তরে বাংলা ভাষা চালুর কথা বলি, গাছে গাছে বাংলা বর্ণমালা ঝুলিয়ে দিই, গণমাধ্যমে ভাষা নিয়ে নানা আলোচনা-অনুষ্ঠানে কথার খই ফুটিয়ে থাকি। আবার এই মাস গেলেই সবাই নিশ্চুপ, তেমন কোনো ভূমিকা রাখতে দেখা যায় না কাউকে। ভাষার মাস এলেই যেন তাদের টনক নড়ে। প্রতিটি ক্ষেত্রেই বাংলা ভাষার ব্যবহার নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজন কার্যকর উদ্যোগ, প্রয়োজন আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ।

আমাদের সাংসারিক বিষয়ে একটি প্রচলিত বচন, ‘খনক করে বাজলে কাঁকন টনক নড়ে কর্তার’ অর্থাৎ অমনোযোগী কর্তার দৃষ্টি আকর্ষণে কর্ত্রীর একটি কৌশল এই কাঁকন বাদন। সংসারের ছোট পরিসর থেকে বাইরে এলেও দেখা যাবে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সময়মতো আমাদের টনক নড়ে না। এই টনক নড়া নিয়ে আমার এবারের গ্রন্থ ‘টনক নড়াতে টনিক’। ২০১৯ সালে বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত লেখার সংকলন এই গ্রন্থ। প্রকাশ করেছে অনন্যা প্রকাশনী। বই পড়ুন, যেকোনো বিষয়ে টনক নড়াতে প্রয়োজন হবে না কোনো টনিকের। সুতরাং আবারও নতুন করে সেই পুরনো কথা, পুরনো অনুরোধ, ‘বই পড়ুন, বই উপহার দিন।’

লেখক: হানিফ সংকেত, উপস্থাপক ও ‎লেখক।


ঢাকা, মঙ্গলবার, ফেব্রুয়ারী ২৫, ২০২০ (বিডিলাইভ২৪) // কে এইচ এই লেখাটি ৫৯৫ বার পড়া হয়েছে


মোবাইল থেকে খবর পড়তে অ্যাপস ডাউনলোড করুন