সর্বশেষ
শনিবার ১৬ই জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ | ৩০ মে ২০২০

৭ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় ধস ডিএসইতে

মঙ্গলবার, মার্চ ১০, ২০২০

15B-20190530102952.jpg
বিডিলাইভ ডেস্ক :

বড় ধরনের ধস নেমেছে দেশের শেয়ার বাজারে। দেশে করোনাভাইরাসে তিনজন আক্রান্তের তথ্য প্রকাশের পর দিনই এ ধস নামে। একদিনেই ২৭৯ পয়েন্ট হারিয়েছে দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)।

সোমবার (০৯ মার্চ) লেনদেনের শুরু থেকেই সূচকের একটানা পতন লক্ষ করা যায়। প্রথম ৬ মিনিটের লেনদেনে ডিএসইর সূচক ডিএসইএক্স হারায় ১০০ পয়েন্ট। বেলা ১১টায় সূচকটি দেড়শ’ পয়েন্ট হারায়। বেলা ১১টা ১৬ মিনিটে উধাও হয় ২০০ পয়েন্ট। লেনদেন শেষে সূচকটি কমে ২৭৯ পয়েন্ট, অবস্থান করে ৪ হাজার ৮ পয়েন্টে। সাত বছর আগে ২০১৩ সালের ২৭ জানুয়ারি নতুন এই সূচক চালু হওয়ার পর এত বড় ধস আর ঢাকার বাজারে দেখা যায়নি।

বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাসের আতঙ্কে আগের দিন রোববার লেনদেন শেষে ডিএসইএক্স কমে ৯৭ পয়েন্ট। পরে রোববার বিকালে বাংলাদেশে প্রথম করোনাভাইরাসে আক্রান্ত তিন ব্যক্তিকে চিহ্নিত করার খবর আসে। আর এর প্রভাবে সোমবার বিশাল ধস নামল ডিএসইতে। তা ছাড়া সোমবার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সূচক সিএএসপিআই পড়েছে ৫ দশমিক ৭৬ শতাংশ কমে হয়েছে ১২ হাজার ৩৪৩ পয়েন্ট।

এদিকে রাশিয়া ও সৌদি আরবের কারণে সোমবার তেলের দাম হঠাৎ পড়ে যাওয়ায় বিশ্ববাজারেও ধস নামে। এশিয়ার বিভিন্ন দেশের মতো ভারত ও পাকিস্তানেও বড় ধরনের সূচক পতন ঘটে। পাকিস্তান স্টক এক্সচেঞ্জের সূচক কেএসই-১০০ সাড়ে ৫ শতাংশের বেশি পড়ে গেলে সেখানে লেনদেন বন্ধ করে দেওয়া হয়। আর করোনাভাইরাস আতঙ্ক এবং ইয়েস ব্যাংক কেলেঙ্কারির জেরে ভারতের মুম্বাই স্টক এক্সচেঞ্জের সূচক সেনসেক্স পড়ে যায় ৫.১৭ শতাংশ, যা এক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় পতন।

সোমবার ডিএসইতে লেনদেন হওয়া ৩৫৫টি শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর কমেছে ৩৫২টির, বেড়েছে ২টির, আর অপরিবর্তিত রয়েছে একটির। সিএসইতে লেনদেন হওয়া ২৫৬টি শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর কমেছে ২৪৯টির, বেড়েছে ৩টির আর অপরিবর্তিত রয়েছে চারটির। ডিএসইতে এদিন লেনদেন হয়েছে ৪৯৯ কোটি টাকার শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ড, যা আগের দিনের থেকে প্রায় ৭১ কোটি টাকা বেশি। সিএসিইতে আগের দিনের চেয়ে লেনদেন ৫০ কোটি টাকা বেড়ে হয়েছে ৭০ কোটি টাকা।

জানুয়ারিতে বড় ধসের পর পুঁজিবাজার জাগাতে গত ১০ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার আওতায় ব্যাংকগুলোকে ‘বিশেষ তহবিল’ গঠনের সুযোগ দেওয়ার পর থেকে বাজার ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছিল।

টানা কয়েক দিন লেনদেনের পাশাপাশি সূচক বাড়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থাও ফিরতে শুরু করেছিল। কিন্তু ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে বাজারে ফের লেনদেন ও সূচক কমতে শুরু করে। বাজারের এ পরিস্থিতির কারণে জানতে চাইলে বিনিয়োগকারীরা বলছেন, এমনিতেই বাংলাদেশের পুঁজিবাজার সংবেদনশীল। এর মধ্যে করোনাভাইরাসের আতঙ্কে দরপতনের গতি বেশি দেখা যাচ্ছে। আতঙ্কিত হয়ে শেয়ার বিক্রি করে দিচ্ছেন বিনিয়োগকারীরা।

ডিএসইতে সোমবার দর কমেছে প্রায় সব শেয়ারেরই। হাতবদল হওয়া শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে মাত্র দুটির দর বেড়েছে। অপরিবর্তিত আছে একটির দর। লেনদেন হয়েছে মাত্র ৪৯৯ কোটি ৩৫ লাখ টাকার।

ডিএসইতে লেনদেনের শীর্ষে থাকা কোম্পানিগুলো হলো- স্কয়ার ফার্মা, প্রামীণফোন, লাফার্জ হোলসিম বাংলাদেশ লিমিটেড, সামিট পাওয়ার, সি পার্ল, ব্র্যাক ব্যাংক লিমিটেড, ওরিয়ন ইনফিউশন, ব্যাংক এশিয়া, ভিএফএস থ্রেড ডায়িং লিমিটেড ও ওরিয়ন ফার্মা।
সোমবার ডিসইতে যে দুটি কোম্পানির শেয়ারের দর বেড়েছে সেগুলো হলো- এপিএসসিএল নন-কনভারটেবল অ্যান্ড ফুললি রিডেমেবল কুপন বিয়ারিং বন্ড ও বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কোম্পানি লিমিটেড।

অন্যদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে সার্বিক সূচক সিএএসপিআই কমেছে ৭৫৮ পয়েন্ট। হাতবদল হওয়া শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর কমেছে ২৪৯টির, বেড়েছে ৩টির, অপরিবর্তিত রয়েছে ৪টির। লেনদেন হয়েছে ৭০ কোটি ৩১ লাখ টাকার শেয়ার।


ঢাকা, মঙ্গলবার, মার্চ ১০, ২০২০ (বিডিলাইভ২৪) // পি ডি এই লেখাটি ২৪৫ বার পড়া হয়েছে


মোবাইল থেকে খবর পড়তে অ্যাপস ডাউনলোড করুন