সর্বশেষ
বুধবার ২৫শে চৈত্র ১৪২৬ | ০৮ এপ্রিল ২০২০

আল্লাহকে ডাকতে বললেন মাশরাফি

মঙ্গলবার, মার্চ ২৪, ২০২০

mas.jpg
বিডিলাইভ ডেস্ক :

মাশরাফি বিন মুর্তজা করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে নিজের ফেসবুক পেজে দেয়া ভিডিও বার্তায় এই সঙ্কটময় পরিস্থিতি থেকে বাঁচতে আল্লাহকে ডাকতে বললেন, নামাজ পড়তে বললেন। করোনা প্রতিরোধে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে ভিডিওবার্তায় এ আহ্বান জানিয়েছেন মাশরাফি।

ভিডিও বার্তায় মাশরাফি বলেন, ‘আসসালামু আলাইকুম। আশা করি সবাই ভাল আছেন। যদিও ‘ভাল আছেন’ কথাটা এই মুহূর্তে ঠিক বলা ঠিক কিনা, কারণ সবাই মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। তারপরও কথা বলতে হবে। করোনাভাইরাস, আমরা সবাই জানি। অনেকেই কথা বলছি, সোশ্যাল মিডিয়ায়। যেখানেই যাবেন দেখবেন, করোনা ভাইরাস নিয়ে সবাই আতঙ্কিত। এবং আতঙ্কিত না হওয়ারও কোনো কারণ নাই। পৃথিবীর সমস্ত বড় বড় দেশগুলো এখন শারীরিক, মানসিক ও সামাজিকভাবেও বিপর্যস্ত। তারা কোনোভাবেই ট্যাকল দিতে পারছে না।

মাশরাফি বলেন,‘এখন আমাদের কি করণীয়। আজকে যত বড় বড় দেশগুলো দেখছি, যেভাবে ভেঙে পড়ছে, আমাদের দেশটা তো এমনিতে ছোট, মানুষের সংখ্যা অনেক বেশি। আমাদের যদি এরকম সংকট আসে, আল্লাহ না করুক, কি হতে পারে আমরা সবাই বুঝতে পারছি। এই মুহূর্তে করণীয় অনেক কিছু আছে, যেগুলো আমি মনে করি সবারই করা উচিৎ।

তিনি বলেন, এক হচ্ছে ঘরে বসে আল্লাহকে ডাকা, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়া এবং আল্লাহকে বলা, আমাদের ওপর রহমত বর্ষিত করুন। এ ধরনের দুর্যোগ থেকে মুক্তি দেন। সবাই যেন সুস্থ থাকি। দ্বিতীয়ত অনেক প্রবাসী ভাই ও বোন বিদেশে থাকেন, কেউ বেড়াতে গিয়েছিলেন, অনেকেই দেশে এসেছেন। তাদের উদ্দেশে বলছি– আপনাদের অনেক কিছু করার আছে। প্রথম হচ্ছে– অবশ্যই নিয়মকানুন মেনে চলুন। আমি ‘কোয়ারেন্টিন’ শব্দটা ব্যবহার করতে চাই না। বলব, গৃহবন্দি থাকুন। তবে সেটা পরিবার নিয়ে নয়। আপনি ১৪ দিন আলাদা থাকুন। এর পর যদি অসুস্থ না হোন, তখন স্ত্রী-সন্তান নিয়ে ঘরে থাকুন।

তিনি আরও বলেন, যতক্ষণ না চিকিৎসকরা বা সমাজের উচ্চপদস্থরা ঘোষণা করছেন, আমরা নিরাপদ; ততক্ষণ পর্যন্ত ঘরে থাকুন। এটি হচ্ছে প্রথম পদক্ষেপ। এর পরও আমাদের করণীয় আছে। সাবান দিয়ে নিয়মিত হাত ধোয়া, ১৫-২০ মিনিট পর পর পানি পান করা এবং ঘর ও পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখা। আমাদের এসব নিয়মকানুন মেনে চলতে হবে।

ম্যাশ বলেন, এর থেকে কঠিন অবস্থায় যাওয়ার পর সেসব মেনে চললে কাজ হবে না। আমাদের উচিত– এখনই বিষয়টি শক্ত হাতে প্রতিহত করা। কারণ এটি রাষ্ট্র সংকট হয়ে যেতে পারে। আমরা কেউই জানি না, আমাদের আশপাশে কার আছে। আমরা বের হচ্ছি, অন্যের হাত ধরছি। অথচ কেউই জানি না, এ ভাইরাসটি কে বহন করে চলছে। কারণ এটি ১৪ দিন সময় নেয় বোঝার জন্য। তাই আমার মনে হয়, এ নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করা দরকার। আমরা যে এটাকে গুরুত্ব দিচ্ছি না, এটা যদি আমাকে, আপনাকে, আমাদের পরিবারকে কিংবা সামাজিকভাবে কাউকে আঘাত করে; তখন কিন্তু সামাল দেয়া কঠিন হয়ে যাবে। আগেই বলেছি ইতালির মতো বড় দেশগুলো হিমশিম খাচ্ছে। সো, আমরা কতটুকু পারব, সেটা ভাবার সময় এসেছে।

তিনি বলেন, আমাদের করণীয় জিনিসগুলা আমরা করি। এটা করা খুবই প্রয়োজন। একটা কথা মনে রাখবেন, আপনার ঘরের ক্যাপ্টেন আপনি নিজেই। আপনি যদি ঘরের ক্যাপ্টেন্সি ঠিকমতো করতে পারেন, আমি নিশ্চিত, এর প্রকোপ কিছুটা হলেও কমাতে পারব। সর্বোপরি দুর্যোগ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। তাই আপনাদের কাছে বিনীত অনুরোধ, আপনারা দয়া করে ঘরে থাকুন। প্লিজ প্লিজ প্লিজ। আপনি নিজে থাকুন, আপনার পরিবারকে, সমাজকে সুরক্ষিত রাখুন। এটা আপনার আমার সবার দায়িত্ব। এ মুহূর্তে বিনা কারণে ঘর থেকে বের হওয়া যাবে না। আমরা অনেক সময় বলি, পরিবারকে সময় দিতে পারি না, কাজের ব্যস্ততার কারণে। আপনি এখন সময় দেন। তবে সেটি দূরত্ব বজায় রেখে। জরুরি কাজে বাইরে বের হলে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখুন।

 

 

 

 


ঢাকা, মঙ্গলবার, মার্চ ২৪, ২০২০ (বিডিলাইভ২৪) // রি সু এই লেখাটি ২০৩ বার পড়া হয়েছে


মোবাইল থেকে খবর পড়তে অ্যাপস ডাউনলোড করুন