সর্বশেষ
মঙ্গলবার ১৭ই চৈত্র ১৪২৬ | ৩১ মার্চ ২০২০

দেশের অর্থনীতিতে বহুমাত্রিক আঘাত করবে করোনা: অর্থমন্ত্রী

বৃহস্পতিবার, মার্চ ২৬, ২০২০

uuu.jpg
বিডিলাইভ ডেস্ক :

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, করোনাভাইরাস বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বহুমাত্রিক আঘাত করতে পারে। এ ভাইরাসের কারণে অর্থনীতিতে বিরূপ প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। এ নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের শাটডাউনের কারণে আমাদের প্রধান রফতানি পণ্য তৈরি পোশাকের চাহিদা হ্রাস পেয়েছে, যা এ শিল্পের জন্য ক্ষতি বয়ে আনছে। এছাড়া অবকাঠামো খাতের প্রকল্পগুলোতে দীর্ঘসূত্রিতা তৈরি হচ্ছে। করোনার কারণে বিভিন্ন দেশ থেকে প্রবাসীরা ফেরত আসছে। এটি রেমিটেন্সের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

বুধবার বিশ্বব্যাংক গ্রুপ ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরেন অর্থমন্ত্রী।

করোনা পরিস্থিতি ও সহযোগিতা নিয়ে বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের সদর দফতরে এ কনফারেন্সের আয়োজন করা হয়। রাজধানীর শেরেবাংলানগর এনইসি সম্মেলন কক্ষ থেকে ভিডিও কনফারেন্সে অংশ নেন অর্থমন্ত্রী। একই সঙ্গে নিজ দফতর থেকে এ কনফারেন্সে যুক্ত হন বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নর ড. ফজলে কবির।

অর্থমন্ত্রী মুস্তফা কামাল আরও বলেন, কোনো দেশের একার পক্ষে এ রকম একটি দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়া সম্ভব নয়। ফলে এ সংকটময় পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়ার জন্য আমরা আইএমএফ এবং বিশ্বব্যাংক গ্রুপকে পাশে থাকার অনুরোধ করব। বাংলাদেশের ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে তাদের বৃহত্তর সহযোগিতা নিশ্চিত করবে।

তিনি বলেন, সম্প্রতি বাংলাদেশের ঈর্ষণীয় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হয়েছে। গত তিন বছর ধরে ধারাবাহিক সাত শতাংশের অধিক হারে প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় ২০১৮-১৯ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে ৮ দশমিক ১৫ শতাংশ। এটি এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ। চলতি অর্থবছরে এ প্রবৃদ্ধির ৮ দশমিক ২ শতাংশ আশা করেছিলাম। প্রবৃদ্ধি অর্জনের প্রধান চালিকাশক্তি হল শক্তিশালী অভ্যন্তরীণ চাহিদা এবং সহায়ক রাজস্ব ও মুদ্রানীতি।

অর্থমন্ত্রী বলেন, দুর্ভাগ্যক্রমে, করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবে বাংলাদেশের ক্ষতি জিডিপির ১ দশমিক ১ শতাংশ হতে পারে, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) বিশ্লেষণে এ আশঙ্কা করা হয়। বাংলাদেশ যখন আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে এসডিজির লক্ষ্যগুলো অর্জনসহ উচ্চ মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হওয়ার অপেক্ষায়, এমন একটি সময়ে বাংলাদেশসহ বিশ্ব অর্থনীতি করোনাভাইরাসের বিরূপ প্রভাবের সম্মুখীন।

তিনি বলেন, পুরো বিশ্ব সম্প্রদায় এখন একটি ক্রান্তিকাল পার করছে। করোনাভাইরাসের কারণে আজ মানব সম্প্রদায়ের জীবন ও অস্তিত্ব হুমকির সম্মুখীন। এমন একটি মুহূর্তে এ বিষয়টির ওপর গুরুত্ব দিয়ে এ ভিডিও কনফারেন্স আয়োজনের জন্য বিশ্ব ব্যাংক গ্রুপ ও আইএমএফ-এর প্রতি ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

বাংলাদেশের করোনা পরিস্থিতি সম্পর্কে অর্থমন্ত্রী বলেন, আপনারা সবাই অবগত আছেন যে, এ মারাত্মক ভাইরাসের সংক্রমণ অতি দ্রুত ছড়ায়। করোনা সংক্রমণ রোধে মরিয়া পদক্ষেপ হচ্ছে অভূতপূর্ব লকডাউন, শাটডাউন এবং যোগাযোগ ব্যাহতকরণ, যা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে অনিবার্যভাবে বিরূপ প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে। বিশ্ব শেয়ারবাজার ইতিমধ্যে ২৮ থেকে ৩৪ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। এ মন্দা দীর্ঘকাল স্থায়ী হলে বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ১ দশমিক ৫ শতাংশে নেমে যেতে পারে।

করোনাভাইরাস মোকাবেলায় বিশ্বব্যাংক ১ হাজার ৪০০ কোটি ডলারের বৈশ্বিক তহবিল গঠন করেছে। পাশাপাশি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত দেশগুলোর সহায়তার জন্য ৫০০ কোটি ডলারের তহবিল ঘোষণা করেছে আইএমএফ। এ অর্থের মধ্যে ১০০ কোটি ডলার পাবে স্বল্প আয়ের দেশগুলো। বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফ থেকে বাংলাদেশ বড় ধরনের সহযোগিতা আশা করছে।


ঢাকা, বৃহস্পতিবার, মার্চ ২৬, ২০২০ (বিডিলাইভ২৪) // পি ডি এই লেখাটি ২১৭ বার পড়া হয়েছে


মোবাইল থেকে খবর পড়তে অ্যাপস ডাউনলোড করুন