সর্বশেষ
মঙ্গলবার ১৯শে জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ | ০২ জুন ২০২০

বিভিন্ন দেশে অস্থায়ী হাসপাতালে জীবন রক্ষার লড়াই

বুধবার, এপ্রিল ১, ২০২০

6.jpg
বিডিলাইভ ডেস্ক :

বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাসের প্রকোপে আক্রান্তের সংখ্যা এখন সাড়ে আট লাখেরও বেশি। আর মৃতের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ৪২ হাজার।  স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপর করোনাভাইরাসের চাপ মোকাবেলার লক্ষ্যে বিভিন্ন দেশ ফিল্ড বা অস্থায়ী হাসপাতাল তৈরি করছে যেখানে হাজার হাজার রোগীর চিকিৎসা চলছে।

ডাক্তার ও রোগীদের সাহায্য করার জন্য সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য এমনকি এয়ারলাইন্সের অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদেরও কাজে লাগানো হচ্ছে। কনফারেন্স হল, স্টেডিয়াম এবং মেলার মাঠগুলোকে রূপান্তর করা হচ্ছে অস্থায়ী হাসপাতাল হিসেবে।

ব্রিটেনের লন্ডনে এক্সেল কনফারেন্স সেন্টারকে ৫০০ শয্যার হাসপাতালে পরিণত করা হয়েছে। এই হাসপাতালে ভবিষ্যতে ৪০০০ রোগীর সেবা দেয়া হবে।

বিশ্বে সবচেয়ে বেশি করোনাভাইরাস রোগী শনাক্ত হয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে। আর বলা হচ্ছে এই রোগের এপিসেন্টার বা কেন্দ্রস্থল হচ্ছে নিউইয়র্কসিটি। নিউইয়র্কের সেন্ট্রাল পার্কে একটি অস্থায়ী হাসপাতাল নির্মাণ করা হচ্ছে। ওই শহরের একটি বড় হাসপাতালের পাশে তৈরি হচ্ছে মর্গ।

ইউরোপে করোনাভাইরাসের সবচেয়ে মারাত্মক আঘাত লেগেছে ইতালিতে। সেখানকার ডাক্তাররা পরিস্থিতিকে যুদ্ধের সঙ্গে তুলনা করছেন। লোম্বার্ডির ক্রেমাতে সেনাবাহিনী তাঁবু খাটিয়ে লোকের চিকিৎসা করছে। তাদের সাহায্য করার জন্য কিউবা থেকে ৫২ জন ডাক্তার আনা হয়েছে।

ইরানেও করোনাভাইরাসের আঘাত মারাত্মক। সেখানে এপর্যন্ত ২৮৯৮ জন প্রাণ হারিয়েছেন। রাজধানী তেহরানে ইরানি সেনাবাহিনী একটি হাসপাতাল তৈরি করেছে যেখানে ২০০০ রোগীর চিকিৎসা দেয়া সম্ভব।

ব্রাজিলে ৫৮১২টির বেশি করোনাভাইরাস কেস শনাক্ত করা হয়েছে। মৃতের সংখ্যা ২০২ জন। ব্রাজিলের ক্লাবগুলো বিশ্বকাপ ফুটবলের সাবেক ভেন্যুগুলোকে হাসপাতালে পরিণত করার প্রস্তাব দিয়েছে। সাও পাওলোর পাসায়েম্বু স্টেডিয়াম এবং কনসার্ট ভেন্যুকে ২০০ শয্যার অস্থায়ী হাসপাতালে রূপান্তর করা হয়েছে। এই স্টেডিয়ামে পল ম্যাককার্টনি এবং রোলিং স্টোনসের মত তারকারা একসময় গানের কনসার্ট করেছে।

গাজা ভূখণ্ডের রাফায় অস্থায়ী হাসপাতাল তৈরির কাজ শুরু হয় মার্চ মাসের মাঝামাঝি থেকে। জাতিসংঘ হুঁশিয়ার করছে এই বলে যে ফিলিস্তিনী এলাকার দারিদ্র এবং দুর্বল স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ফলে সেখানে করোনাভাইরাসের প্রকোপ হবে বিপর্যয়কর।

স্পেনে কোভিড-১৯ রোগীদের মৃত্যুর সংখ্যা দিনকে দিন বাড়ছে। এপর্যন্ত সেখানে প্রাণ হারিয়েছেন ৮৪৬৪ জন। সবচেয়ে বেশি রোগী শনাক্ত করা হয়েছে রাজধানী মাদ্রিদে। সেখানে ডাক্তাররা রোগীদের চিকিৎসার জন্য একটি একজিবিশন সেন্টারকে হাসপাতাল হিসেবে ব্যবহার করছেন।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় একটি মেলার মাঠে ২৫০ বেড এর হাসপাতাল তৈরি হয়েছে। ফোর্ট লডারডেল বিমানবন্দরের পাশে এক জায়গায় আরেকটি হাসপাতাল এখন নির্মাণাধীন। যুক্তরাষ্ট্রে বহু লোকের সমাবেশ বাতিল হওয়ার পর মার্চ থেকে মায়ামি-ডেডে কাউন্টি ফেয়ার বন্ধ রাখা হয়েছে।

মার্কিন নৌবাহিনী হসপিটাল শিপ কমফোর্ট সোমবার নিউইয়র্ক শহরের জাহাজঘাটায় নোঙর করেছে এবং ওই শহরের রোগীদের চিকিৎসা শুরু করেছে। ভার্জিনিয়ার নরফোক নৌঘাঁটি থেকে ১০০০ শয্যার ভাসমান হাসপাতালটি গত শনিবার যাত্রা শুরু করে। সূত্র: বিবিসি


ঢাকা, বুধবার, এপ্রিল ১, ২০২০ (বিডিলাইভ২৪) // কে এইচ এই লেখাটি ৩৫১ বার পড়া হয়েছে


মোবাইল থেকে খবর পড়তে অ্যাপস ডাউনলোড করুন