সর্বশেষ
বুধবার ১৫ই আশ্বিন ১৪২৭ | ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০

প্রাণঘাতী করোনা: শৈশবে নেয়া এই টিকা হতে পারে আশির্বাদ

শুক্রবার, এপ্রিল ৩, ২০২০

493763767-H.jpg
বিডিলাইভ ডেস্ক :

প্রাণঘাতী করোনায় বিশ্বে প্রতি মহূর্তে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা বাড়ছে লাফিয়ে লাফিয়ে। চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা এক প্রকার যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন ভাইরাসটির বিরুদ্ধে। এরইমধ্যে গণমাধ্যমে প্রকাশিত হচ্ছে এ ভাইরাসের প্রতিষেধক তৈরি নিয়ে নানা প্রতিবেদন। আর বরাত দেয়া হচ্ছে বিভিন্ন স্বাস্থ্য জার্নালের। আদতে প্রতিষেধকের কার্যকরী ফল না পাওয়া পর্যন্ত কোনো প্রতিবেদনই ভরসার স্থান নিতে পারছে না।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি কলেজ অব অস্টিওপ্যাথিক মেডিসিনের এক গবেষণায় জানানো হয়েছে, বিসিজি ভ্যাকসিন করোনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে একটি সম্ভাব্য নতুন হাতিয়ার হতে পারে। বিশ্বে বিভিন্ন দেশ থেকে করোনা আক্রান্ত রোগীদের প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে এমনটি জানানো হয়েছে।

আর সেটা যদি সত্যি হয় তবে বাহুতে বিসিজি বা ব্যাসিলাস ক্যালমেট-গুউরিন টিকার দাগ হতে পারে স্বস্তির কারণ। বাংলাদেশে বেশিরভাগ মানুষের শরীরে রয়েছে এই টিকার দাগ যা যক্ষ্মার প্রতিষেধক হিসেবে শৈশবে দেয়া হয়েছিল।

তবে যক্ষ্মার প্রতিষেধকে সুফল মিলতে পারে করোনা চিকিৎসার। বিভিন্ন দেশে করোনা যেভাবে প্রভাব ফেলেছে তা পরীক্ষা করে গবেষকরা দেখতে পেয়েছেন বিসিজি বা ব্যাসিলাস ক্যালমেট-গুউরিন যা যক্ষ্মা রোগের (টিবি) ভ্যাকসিন হিসাবে মূলত ব্যবহৃত হয় তা করোনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে একটি সম্ভাব্য নতুন হাতিয়ার হতে পারে।

এ বিষয়ে নিউইয়র্ক ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি কলেজ অব অস্টিওপ্যাথিক মেডিসিনের পক্ষ থেকে বলা হয়, পৃথিবীর যে সব দেশে বিসিজি টিকাদান কর্মসূচি নেই যেমন ইতালি, নেদারল্যান্ডস ও যুক্তরাষ্ট্রের মানুষের করোনায় আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বেশি। তবে দীর্ঘস্থায়ী টিকাদান কর্মসূচি যে সব দেশে চালু আছে ওইসব দেশের মানুষের করোনায় আক্রান্ত হওয়ার প্রবণতা কম।

গবেষণায় দাবি করা হয়, বিসিজি টিকা আসার পর থেকে বিশ্বে মৃত্যুর হার উল্লেখযোগ্য হারে কমে গেছে। উদাহরণ স্বরূপ বলা হয়, মৃত্যুর হার বেশি হওয়ায় ১৯৮৪ সালে বিসিজি কার্যক্রম শুরু করে ইরান। দেশটিতে বিসিজি টিকা দেয়া মানুষের মধ্যে করোনা ভাইরাসের উপস্থিতি তেমন একটা পাওয়া যায়নি।

অস্ট্রেলিয়া এবং ইউরোপের কিছু দেশ এটির ক্লিনিক্যাল পরীক্ষা করে দেখতে চাচ্ছে যে, এটি কোভিড-১৯ এর উপসর্গের বিস্তার ও তীব্রতা হ্রাসে সাহায্য করতে পারে কিনা।

মার্কিন সাময়িকী টাইম এ নিয়ে একটি নিবন্ধ প্রকাশ করেছে। এতে বলা হয়েছে, অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নে অবস্থিত মাডক চিলড্রেন রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (এমসিআরআই) গবেষকরা দেশটির বিভিন্ন হাসপাতালের চার হাজার স্বাস্থ্যকর্মীকে তালিকাভুক্ত করে এ নিয়ে বর্তমানে একটি গবেষণা করছেন।

শুধু অস্ট্রেলিয়ায় নয়, জার্মানিতেও এ নিয়ে বড় ধরনের গবেষণা চলছে। তারা এই গবেষণায় বয়স্ক রোগীসহ বিভিন্ন হাসপাতালের স্বাস্থ্যসেবা কর্মীদের অন্তর্ভুক্ত করছে। যুক্তরাজ্য, নেদারল্যান্ডস এবং গ্রিসও এমন ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল করার কাজ শুরু করেছে।

নিউইয়র্ক ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির কলেজ অব অস্টিওপ্যাথিক মেডিসিন বলছে, যেসব দেশে বিসিজি টিকাদান কর্মসূচি নেই যেমন ইতালি, নেদারল্যান্ডস ও যুক্তরাষ্ট্র; এসব দেশে করোনায় আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বেশি। তবে টিকাদান কর্মসূচি যেখানে আছে সেখানে করোনায় আক্রান্তের প্রবণতা কম।

বিসিজি টিকা আসলে কী:

বিসিজি টিকার পূর্ণরূপ হলো ব্যাসিলাস ক্যালমেট গুয়েরিন। এটি এমন টিকা যা প্রধানত যক্ষ্মার বা টিবির বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হয়। যে সব দেশে যক্ষ্মার প্রাদুর্ভাব আছে, সেখানে সুস্থ শিশুদের জন্মের সময়ের যতটা সম্ভব কাছাকাছি সময়ে একটি ডোজ দেয়ার সুপারিশ করা হয়। তবে এক্ষেত্রে এইচআইভি-এইডস থাকা শিশুদের এই টিকা দেয়া উচিত নয়। যে সব অঞ্চলে শিশুরা উচ্চ ঝুঁকিতে থাকে তাদেরই সাধারণত এ টিকা দেয়া হয়। যক্ষ্মার সন্দেহজনক ঘটনাগুলোকে পরীক্ষা করা হয় এবং চিকিৎসা করা হয়। যেসব প্রাপ্তবয়স্কদের যক্ষ্মা নেই এবং পূর্বে টিকা দেয়া হয়নি কিন্তু ঘন ঘন ওষুধ প্রতিরোধী যক্ষ্মার সংস্পর্শে আসেন, তাদেরও এ টিকা দেয়া যেতে পারে।

সুরক্ষার হারের অনেক পার্থক্য হতে পারে এবং তা দশ থেকে কুড়ি বছর পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে শিশুদের মধ্যে এটা প্রায় ২০%-কে সংক্রমণের থেকে রক্ষা করে এবং যারা সংক্রামিত হয় তাদের মধ্যে এটি অর্ধেককে রোগে আক্রান্ত হওয়া থেকে রক্ষা করে এই টিকাটি ত্বকে ইনজেকশনের মাধ্যমে দেয়া হয়।

এ টিকার গুরুতর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াগুলো বিরল। প্রায়ই ইনজেকশনের জায়গায় লালভাব, ফোলাভাব ও হালকা ব্যথা থাকে। একটা ছোট ঘা তৈরি হতে পারে যা সেরে যাওয়ার পরে কিছুটা ক্ষতচিহ্ন থাকতে পারে। দুর্বল রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা থাকা মানুষদের মধ্যে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াগুলো বেশি সাধারণ, এবং তা সম্ভাব্যরূপে বেশি তীব্র হয়। এটা গর্ভাবস্থায় ব্যবহার করা নিরাপদ নয়। টিকাটি মূলত প্রস্তুত করা হয়েছিল মাইকোব্যাক্টেরিয়াম বোভিস থেকে যা সাধারণভাবে গরুর মধ্যে পাওয়া যায়। এটা দুর্বল হয়ে গেলেও এখনও জীবিত আছে।

বিসিজি টিকা প্রথম ১৯২১ সালে চিকিৎসামূলকভাবে ব্যবহৃত হয়েছিল। এটি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অপরিহার্য ওষুধগুলোর তালিকায় আছে, যেগুলো মৌলিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ওষুধ। ২০১৪ সালে একটি ডোজের পাইকারি দাম হলো ০.১৬ মার্কিন ডলার। আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রে এর দাম হলো ১০০ থেকে ২০০ মার্কিন ডলার। প্রতি বছর টিকাটি প্রায় ১০০ মিলিয়ন শিশুকে দেয়া হয়।


ঢাকা, শুক্রবার, এপ্রিল ৩, ২০২০ (বিডিলাইভ২৪) // পি ডি এই লেখাটি ৬৪৭ বার পড়া হয়েছে


মোবাইল থেকে খবর পড়তে অ্যাপস ডাউনলোড করুন