সর্বশেষ
বৃহঃস্পতিবার ২২শে শ্রাবণ ১৪২৭ | ০৬ আগস্ট ২০২০

ঘূর্ণিঝড় আম্ফানে ক্ষতি ১১০০ কোটি টাকা: দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা প্রতিমন্ত্রী

শুক্রবার, মে ২২, ২০২০

image20200521184007.jpg
বিডিলাইভ ডেস্ক :

ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের তান্ডবে বিভিন্ন খাতে ১ হাজার ১শ’ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. এনামুর রহমান।

শক্তিশালী এই ঘূর্ণিঝড় কেটে যাওয়ার পর বৃহস্পতিবার বিকেলে সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান। খবর বাসসের।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ, পানিসম্পদ, কৃষি মন্ত্রণালয় এবং স্থানীয় সরকার বিভাগ ক্ষয়ক্ষতির প্রাথমিক হিসাব দিয়েছে। প্রায় ১ হাজার ১শ’ কোটি টাকা ক্ষতির প্রাথমিক হিসাব আমরা পেয়েছি। অন্য যেসব মন্ত্রণালয় আছে তারাও রিপোর্ট দিয়েছেন, তেমন কোনো ক্ষয়ক্ষতির বিবরণ তারা দেয়নি। সারাদেশে মোট ক্ষয়ক্ষতির তথ্য জানতে অন্তত সাতদিন সময় লাগবে।’

ঘূর্ণিঝড় আম্ফান এর আঘাতে উপকূলীয় জেলায় অন্তত ১০ জনের প্রাণহানি হয়েছে জানিয়ে এনামুর রহমান বলেন, দেশের উপকূলীয় ২৬ জেলায় ঘূর্ণিঝড় আম্ফান আঘাত হেনেছে। নিহতদের মধ্যে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের একজন সেচ্ছাসেবীও রয়েছেন। পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার ধানখালী গ্রামের সিপিপি ইউনিট লিডারের মা সাহারা খাতুন জনগণকে সচেতন করতে গিয়ে নৌকা ডুবিতে মারা যান। তার পরিবারকে ৫ লাখ টাকা সহায়তা দেয়া হবে।

তিনি বলেন, ঘূর্ণিঝড় প্রবন এলাকায় ২শ ব্রিজ কালভার্ট, ২৩৩ টি স্থানীয় সরকার কার্যালয়েরও ক্ষতি হয়েছে। তবে বাগেরহাট, সাতক্ষীরা খুলনায় ক্ষতি হয়েছে বেশি। এসব এলাকায় টিউবওয়েলের ক্ষতি হওয়ায় পানি সংকট তীব্র হয়েছে। সেসব জায়গায় পানি সরবরাহ করা হচ্ছে। পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট দেয়া হয়েছে।

এনামুর রহমান বলেন, কৃষির মধ্যে চলতি মৌসুমে বোরো ধানে তেমন ক্ষতি না হলেও মৌসুমি ফলে ক্ষতি হয়েছে ব্যাপক। আম, লিচু, কাঁঠাল সব ঝরে পড়েছে। আমের ক্ষতি হয়েছে ১৫০ কোটি টাকার সমান। তবে এই আম মানুষকে ত্রাণ হিসেবে দেয়ার চিন্তা করছে সরকার।

তিনি বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতায় ১৫০ কিলোমিটার বাঁধ ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। ৮৪ টি জায়গার বাঁধে ফাটল ধরেছে। ২শ’ থেকে ৩শ’ কোটি টাকা লাগবে সেসব মেরামত করতে। সেজন্য ৪ লাখ ব্যাগ প্রয়োজন হবে। বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বন্ধ অনেক জায়গায়। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়ার কথা বলেছে বিদ্যুৎ বিভাগ। তখন ডাক ও টেলিযোগাযোগ চালু হবে।

সাতক্ষীরা, বরগুনা, পটুয়াখালী ১ লাখ ৮০ হাজার ৫০০ চিংড়ি ঘেরে পানি বেড়ে ৩৪০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। প্রাণিসম্পদে ১৪০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলেও জানান দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ঘূর্ণিঝড়ে কতো সংখ্যক ঘরবাড়ি ভেঙেছে তা এখনো জানা যায়নি। তবে সংখ্যা নিরূপণ চলছে। সে কাজে এক সপ্তাহ সময় লাগবে বলে জানান তিনি। যেসব ঘরবাড়ি ভেঙেছে তা তৈরি করতে প্রতি জেলায় ৫ শ বান্ডেল টিন ও ১৫ লাখ টাকা নগদ এবং চাল ও নগদ টাকাও বরাদ্দ রাখা হয়েছে।


ঢাকা, শুক্রবার, মে ২২, ২০২০ (বিডিলাইভ২৪) // পি ডি এই লেখাটি ৩১৮ বার পড়া হয়েছে


মোবাইল থেকে খবর পড়তে অ্যাপস ডাউনলোড করুন