সর্বশেষ
শুক্রবার ২৬শে আষাঢ় ১৪২৭ | ১০ জুলাই ২০২০

করোনাকে হার মানিয়ে জয়পুরহাটের সাবরিনা ও পাকিস্তানের উমের বিয়ে

শুক্রবার, মে ২২, ২০২০

2.jpg
জয়পুরহাট প্রতিনিধি :

করোনা ভাইরাস ওলট পালট করেছে সারা পৃথিবী। ভালবাসার কাছে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি জয়পুরহাট ও পাকিস্তানের প্রেমিক যুগলের প্রেম। অবশেষে অনলাইনে বিয়ে সম্পন্ন করা হয়।

বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টায় জয়পুরহাট পৌর শহরের কাশিয়াবাড়ি এলাকার ব্যাংক কর্মকর্তা মোজাফফর হোসেন বাড়িতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম অনলাইন মোবাইল ফোনে বিয়ে সম্পন্ন হয়। পাকিস্তানের বর ও বাংলাদেশের জয়পুরহাটে কনের এ বিয়ে নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানায়ায়, জয়পুরহাট শহরের কাশিয়াবাড়ি এলাকার ব্যাংক কর্মকর্তা মোজাফফর হোসেনের মেয়ে মুরসালিন সাবরিনা আমেরিকান অনলাইন বিশ্ববিদ্যালয় ‘ইউনিভার্সিটি অফ দ্য পিপল’ এ কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং এ লেখাপড়া করছেন ২০১৮ সাল থেকে। একই বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়ন করা অবস্থায় ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টুডেন্টদের নিজস্ব ওয়েবসাইট ইয়েমার এর মাধ্যমে পরিচয় ঘটে পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের মুলতান শাহরুখনে আলম কলোনীর যুবক মুহাম্মদ উমের এর সাথে। উমের এর বাবা বিলাল আহম্মেদ একজন ব্যবসায়ী।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম অনলাইনে তাদের পরিচয় থেকে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ২০১৯ সালে তাদের এই প্রেমের সম্পর্ক জানাজানি হয় উভয় পক্ষের অভিভাবকদের মাঝে। এরপর উভয় পরিবারের অভিভাবকরা আলোচনা করে তাদের বিবাহ সম্পন্নের সিদ্ধান্ত নেয়। সিদ্ধান্ত মোতাবেক উমের এবং তার পরিবার বাংলাদেশে আসার জন্য ২০২০ সালের ৭ ফ্রেবুয়ারি মাসে ভিসার জন্য আবেদন করেন। তাদের আবেদনের প্রেক্ষিতে জয়পুরহাটে সাবরিনা এবং তার পরিবারের খোঁজখবর নেয় স্থানীয় গোয়েন্দা সংস্থা। ভিসা নিয়ে মার্চ মাসেই উমের এর পরিবার পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশে এসে বিয়ে সম্পন্ন করার কথা ছিল। কিন্তু হঠাৎ বাধাঁ হয়ে দাঁড়ায় করোনা ভাইরাসের পরিস্থিতি। করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে স্থগিত হয়ে যায় তাদের ভালবাসার বিয়ে। বিয়ে স্থগিত হলেও সাবরিনা এবং উমের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম অনলাইনে তাদের প্রেমের সম্পর্ক অব্যাহত ছিল।

তাদের প্রেমের এই সম্পর্ক উভয় পরিবার মেনে নিলেও মুসলিম শরিয়ত মতে অবৈধ হওয়ায় আপত্তি তোলেন উমের এর বাবা বিলাল আহম্মেদ। তিনি তাদের যোগাযোগের বৈধতা দিতে সাবরিনার বাবার সাথে যোগাযোগ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম অনলাইনে বিয়ে সম্পন্নের প্রস্তাব করেন। বিষয়টি মেনে নিয়ে উভয় পরিবারের সম্মতিতে বৃহস্পতিবার বিকাল ৫টার দিকে অনলাইনে তাদের বিয়ে সম্পন্ন করার সিদ্ধান্ত নেন। সে অনুযায়ী ওইদিন বিকেল ৫টায় সাবরিনার বাড়িতে স্বজন ও স্থানীয় প্রতিবেশীদের নিয়ে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে বিয়ের আয়োজন করা হয়। অনলাইনে তাদের বিয়ে পড়ান মওলানা মোস্তাফিজুর রহমান। এ সময় অনলাইনে সাবরিনার কবুল পড়া শোনানো হয় বর উমের এবং তার বাবা বিলাল অহম্মেদকে। একইভাবে উমেরও মুরসালিন সাবরিনাকে স্ত্রী হিসেবে কবুল করে নেন।

মুরসালিন সাবরিনার বাবা ব্যাংক কর্মকর্তা মোজাফফর হোসেন বলেন, মেয়ের সাথে পাকিস্তানি ছেলের প্রেমের সম্পর্ক প্রথমে সম্মতি ছিলাম না । কিন্তু পরে তাদের পরিবারের খোঁজ খবর নিয়ে খুব ভাল লেগেছে। তাদের পরিবার খুবই ভাল। তাই মেয়ের বিয়ে দিতে সম্মত হয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেই বিয়ে সম্পন্ন করেছি।

তিনি আরও বলেন, করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেই জামাই এবং তার পরিবার দেশে এসে বিয়ের অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে মেয়েকে পাকিস্থানে নিয়ে যাবেন। তিনি মেয়ে-জামাইয়ের জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া প্রার্থনা করেন।


ঢাকা, শুক্রবার, মে ২২, ২০২০ (বিডিলাইভ২৪) // উ জ এই লেখাটি ১২৮৮ বার পড়া হয়েছে


মোবাইল থেকে খবর পড়তে অ্যাপস ডাউনলোড করুন