সর্বশেষ
মঙ্গলবার ৩০শে আষাঢ় ১৪২৭ | ১৪ জুলাই ২০২০

চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে ঢাকা গেল মালবাহী বিশেষ ট্রেন ‘ম্যাংগো ষ্পেশাল-২’

শুক্রবার, জুন ৫, ২০২০

9.jpg
জাকির হোসেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে :

চাঁপাইনবাবগঞ্জ-ঢাকা রুটে উদ্বোধন করা হয়েছে আম,কাঁচামাল ও পার্শ্বেলবাহী বিশেষ ট্রেন সার্ভিস ‘ম্যাংগো ষ্পেশাল-২’।

শুক্রবার (৫’জুন) বিকেল ৪টার সময় চাঁপাইনবাবগঞ্জ রেলষ্টেশনে আনুষ্ঠানিকভাবে ট্রেনযাত্রা উদ্বোধন করেন চাঁপাইনববাবগঞ্জে মহিলা আসনের সাংসদ ফেরদৌসী ইসলাম জেসী। এসময় সদর আসনের সাবেক সাংসদ ও জেলা আ’লীগ সেক্রেটারী আব্দুল ওদুদ,জেলা প্রশাসক এজেডএম নূরুল হক,জেলার শিবগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান সৈয়দ নজরুল ইসলাম,অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইকবাল হোছাইন,চাঁপাইনবাবগঞ্জ চেম্বার সভাপতি এরফান আলী, পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের পাকশী বিভাগের ম্যানেজার আসাদুল হক,বিভাগীয় বানিজ্যিক কর্মকর্তা ফুয়াদ হোসেন আনন্দ,বিভাগীয় প্রকৌশলী আব্দুর রহিম,চাঁপাইনবাবগঞ্জ রেলওয়ে ষ্টেশন ম্যানেজার মনিরুল ইসলাম সহ কর্মকর্তাগণ ও সংশ্লিষ্টরা।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ ছেড়ে যাওয়া প্রথম দিনের ট্রেনে ঢাকার জন্য ৪০টি আম ও ৭টি ঘি এর প্যাকেট বহন করা হয়। যার ওজন ১ হাজার কেজি ও ভাড়া আদায় হয় ১ হাজার ৩ শত টাকা।  রেল কর্মকর্তারা জানান, রাজশাহীসহ সামনের ষ্টেশনগুলিতে আরও মাল উঠবে। তারা বলেন, এখনও অনেকই এই ট্রেনের খবর জানেন না। প্রচার হলে ট্রেনে প্রচুর মাল পরিবহন হবে। তবে অনেক ব্যবসায়ী এরই মধ্যে ট্রেনের ব্যাপারে খোঁজ নিয়েছেন বলেও জানান তারা। তারা বলেন, মূলত: আমের কথা চিন্তা করে এটি সরকারের বিশেষ উদ্যোগ। চাঁপাইনবাবগঞ্জে আম ব্যবসা জমে উঠলে এই ট্রেনের কদর বাড়বে।

রেল কর্মকর্তারা আরও জানান, করোনাজনিত পরিস্থিতিতে রেলওয়ে এই যুগান্তকারী উদ্যোগ নিয়েছে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মত এমন ট্রেন সার্ভিস চালু করা হয়েছে। এটি আমের রাজ্য চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলাবাসীর জন্য অত্যন্ত সুখবর। শুক্রবার চালু হওয়া ট্রেনটি প্রতিদিন আম,সব্জি,দেশী ফলমুল,ডিমসহ রেলওয়ে আইনে পার্শ্বেল হিসেবে গন্য সকল পণ্য হ্রাসকৃত ভাড়ায় পরিবহন করবে। প্রতি কেজি পন্যের জন্য চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে ঢাকা কমলাপুর ষ্টেশন পর্যন্ত ভাড়া নির্ধারিত হয়েছে ১টাকা ৩০ পয়সা। আবার রাজশাহী থেকে ঢাকা পর্যন্ত প্রতি কেজি ভাড়া পড়বে ১ টাকা ১৭ পয়সা। এভাবে ঢাকার সাথে দূরত্ব অনুযায়ী ভাড়া নির্ধারিত হয়েছে।

রেল কর্তারা জানান, ট্রেনটি আমনুরা বাইপাস, কাঁকনহাট,রাজশাহী,সরদহ রোড, আড়ানী, আব্দুলপুর, ঈশ্বরদী, বঙ্গবন্ধু সেতু পশ্চিম,টাঙ্গাইল,মির্জাপুর,হাইটেক সিটি,টঙ্গি,বিমানবন্দর,ক্যন্টনমেন্ট ও তেজগাঁও ষ্টেশনে মাল ওঠানামা করবে। প্রয়োজনে ষ্টেশন সংযোজন হতে পারে। প্রতিদিন বিকেল চারটায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ ছেড়ে যাওয়া ট্রেনটি প্যাসেঞ্জার ট্রেনের মত সময়সূচী ঠিক রেখে রাত ১টা ১০ মিনিটে ঢাকা পৌঁছুবে। আবার রাত ২টা ১৫ মিনিটে ‘ম্যাংগো ষ্পেশাল-১’ ট্রেন নামে ঢাকা ছেড়ে সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে চাঁপাইনবাবগঞ্জ ষ্টেশনে পৌঁছবে। কাজেই ট্রেনে কাঁচামাল পঁচে যাবার আশংকা নেই। স্বাস্থ্যবিধি মেনে ট্রেনটি পরিচালনা করা হবে। প্রতিদিন জীবানুনাশক দিয়ে ট্রেন পরিস্কার করা হবে। ট্রেনে ৫টি মালগাড়ী (প্রতিটি ৪৫ টন বা ৪ হাজার ৫০০ কেজি ক্যাপাসিটির) ও একটি প্যাসেঞ্জার গাড়ী(গার্ড ব্রেক/এসআর ভ্যান) সহ ৬টি ওয়াগন রয়েছে। প্রয়োজনে লোকাল ট্রেনের ভাড়া দিয়ে পন্যের সাথে থাকা ব্যবসায়ীরা ওই গাড়িতে ভ্রমণ করা হতে পারে। চাহিদা বাড়লে ট্রেনের ওয়াগন সংখ্যা বাড়ানো হতে পারে বলেও জানান কর্মকর্তারা। ট্রেনে মাল ওঠানো নামানোর জন্য রেলের নির্ধারিত কুলির ভাড়া দিতে হবে।(১-২০ কেজি পর্যন্ত ২০ টাকা হারে শুরু)। রেলের নিজস্ব কুলিরা এই কাজটি করবে।


ঢাকা, শুক্রবার, জুন ৫, ২০২০ (বিডিলাইভ২৪) // উ জ এই লেখাটি ৪১৩ বার পড়া হয়েছে


মোবাইল থেকে খবর পড়তে অ্যাপস ডাউনলোড করুন