সর্বশেষ
বৃহঃস্পতিবার ২২শে শ্রাবণ ১৪২৭ | ০৬ আগস্ট ২০২০

সবাই মাস্ক পরলে ৯০ ভাগ করোনা নিয়ন্ত্রণ সম্ভব

সাবেক রাষ্ট্রপতি ডা. এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী

শনিবার, জুলাই ৪, ২০২০

4.jpg
বিডিলাইভ ডেস্ক :

দেশের সবাইকে বাধ্যতামূলক মাস্ক পরাতে পারলে অন্তত ৯০ ভাগ করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব বলে মনে করেন রোগবিজ্ঞানের বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ও সাবেক রাষ্ট্রপতি ডা. এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী।

তিনি বলেন, চীন এটাই বারবার বলেছে, সবাই মাস্ক ব্যবহার করতে হবে। এটা করলে শতকরা ৯৫ ভাগ করোনা নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব। বিভিন্ন গবেষণায়ও দেখা গেছে, ৯৫ ভাগ না হলেও অন্তত ৯০ ভাগ করোনা সমস্যার সমাধান হয় মাস্ক ব্যবহারে। বাংলাদেশ এখনো এ ব্যাপারে গুরুত্ব দেয়নি। দেশে করোনার বিস্তৃতি ও মৃতের হার ক্রমেই বাড়ার এটাই কারণ। এটি লজ্জার। আমি মনে করি, সরকারকে এ ব্যাপারে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে। পর্যবেক্ষণে প্রয়োজনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে এ ব্যাপারে বিশেষ দায়িত্ব দিতে হবে।

বিকল্পধারার এই প্রেসিডেন্ট বলেন, কেউ মাস্ক ব্যবহার না করলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। প্রথমবার ভুল করলে ১০০ টাকা, দ্বিতীয়বার ভুল করলে ১ হাজার টাকা, তৃতীয়বার ভুল করলে ১০ হাজার টাকা জরিমানার বিধান চালু করতে হবে। এরপর কেউ মাস্ক ব্যবহার না করলে তাকে জেলে পাঠাতে হবে। ছয় মাসের জন্য রাষ্ট্রপতি এ ধরনের একটি অধ্যাদেশও জারি করতে পারেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও নির্বাহী মেজিস্ট্রেটকে এ ব্যাপারে ক্ষমতা দেওয়া উচিত। প্রয়োজনে সেনাবাহিনীকেও এ কাজে যুক্ত করা যেতে পারে।

তিনি বলেন, এখনো রাস্তাঘাটে লোকজন মাস্ক ছাড়া ঘোরাফেরা করছে। অনেকে কথা বলেন মাস্ক মুখ থেকে নামিয়ে। এটা কোনোভাবেই স্বাস্থ্যবিধি অনুযায়ী মাস্ক ব্যবহার হলো না। নিঃশ্বাসের রাস্তা দিয়ে সবচেয়ে বেশি করোনা প্রবেশ করে। এটাই হয় মৃত্যুর কারণ। কাজেই সবাইকে নাক-মুখ ঢেকে মাস্ক ব্যবহার করতে হবে। আমার মতে এটা কেউ অমান্য করলে সঙ্গে সঙ্গে জরিমানা করতে হবে।

সাবেক এই রাষ্ট্রপতি বলেন, বেশি বেশি হাত ধুতে হবে এবং হাতে পলি গ্লাভস পরতে হবে। যাদের বয়স ৫০-এর ঊর্ধ্বে তাদের ঘর থেকে বেরোতে দেওয়া যাবে না। বিশেষ করে যারা সরকারি-বেসরকারি চাকরিতে ৫০ বছর বয়সের ঊর্ধ্বে, তাদের কারোই অফিস করা উচিত নয়। বিশেষ করে যাদের ডায়াবেটিস, হার্টে সমস্যা, কিডনি, হাঁপানি, কাশি বা ক্যান্সার রোগ আছে, তারা অবশ্যই ঘরে থাকবেন। কারণ তাদের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কম। তাদের করোনা হওয়ার আশঙ্কা বেশি। বর্তমানে এদেরই মৃত্যুর হার বেশি। এ কারণে তাদের ঘরের বাইরে যাওয়া উচিত নয়। তাদের ঘরে রাখতেই হবে। সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ছাড়াও দোকানদার হোক, মাছ ব্যবসায়ী হোক, পান বিক্রেতা বা যা-ই হোক না কেন, তাদের ঘরের বাইরে বেরোনো যাবে না। তাদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারলে এবং ঘরে-বাইরে মাস্ক ব্যবহার করলে করোনা অনেকাংশেই নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে।

সামনে ঈদুল আজহায় পশু কোরবানি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কোরবানির জন্য হাট বসানো ঠিক হবে না। প্রয়োজনে কোরবানির পশু অনলাইনে কিনতে হবে। যারা কোরবানি দিতে যান তাদের অবশ্যই স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। হাটে না গিয়ে অনলাইনেও গরু বা খাসি কেনা যায়। কোরবানির গরু যিনি জবাই করবেন, তাকে অবশ্যই স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে। মুখে মাস্ক ব্যবহার করতে হবে। হাতে গ্লাভস ও মাথায় চুল ঢেকে পশু জবাই করতে হবে। যারা মাংস কাটবেন তাদেরও যথাযথভাবে স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে। মাস্ক নিজে পরতে হবে, পরিবারের সবাইকে পরাতে হবে।

করোনার জন্য ফি নির্ধারণ প্রসঙ্গে এই মেডিসিন বিশেষজ্ঞ বলেন, যারা দরিদ্র শ্রেণির, তাদের ফ্রি করোনা পরীক্ষার সুযোগ দিতে হবে। যারা বড়লোক তাদের কাছ থেকে ফি নেওয়া যেতে পারে। তবে গরিব মানুষের জন্য শুধু এটাই নয়, মাসিক রেশনিং পদ্ধতি চালু করতে হবে। বিশেষ করে চাল, ডাল, লবণ ও তেল বাজারদরের অর্ধেকে তাদের দিতে হবে। যত দিন করোনা থাকবে তত দিনই সরকারকে এটা বহন করতে হবে। এক মাস পরপর এ ধরনের রেশনিং দিতে হবে।

প্লাজমা থেরাপি প্রসঙ্গে বি চৌধুরী বলেন, এটা একটা ভালো উদ্যোগ। এটা সারা বিশ্বেই পরিচিত একটি চিকিৎসা পদ্ধতি। যার করোনা হয়, তার যে প্লাজমাটা অন্যের শরীরে যায়, তা অ্যান্টিবডি হিসেবে কাজ করে। তারও কোনো সমস্যা হয় না। এটা অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। করোনা শনাক্তে পরীক্ষার সংখ্যা আরও বাড়ানো উচিত বলেও দাবি করেন রোগবিজ্ঞানের এই বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক। তিনি বলেন, সম্ভব হলে ১ লাখ করোনা শনাক্তকরণ পরীক্ষা করা উচিত। উন্নত বিশ্বে লাখ লাখ করোনা পরীক্ষা করা হচ্ছে। আমেরিকায়ও প্রতিদিন অন্তত ২ লাখ করোনা পরীক্ষা করা হয়। যেহেতু আমাদের কিটসহ নানা সংকট আছে এজন্যই সবাইকে বাধ্যতামূলকভাবে মাস্ক ব্যবহার করাতে হবে। আশার কথা হলো, সরকারি হিসাবে এখনো আমাদের দেশে করোনায় মৃতের হার অনেক কম। ১.৩ থেকে ১.৭-এর মধ্যেই আছে। তিনি বলেন, কিছুটা আবার বাড়তেও পারে। কারণ, নানা উপসর্গের মৃত্যু, ব্রেইন স্ট্রোক, নিউমোনিয়া বা হার্টের রোগীরাও করোনা আক্রান্ত হতে পারে। এগুলো হয়তো সঠিকভাবে শনাক্ত করা হচ্ছে না। সে ক্ষেত্রে করোনায় মৃতের হার আরও বাড়তে পারে। বড় বড় দেশগুলোয় শতকরা ৫ ভাগ মৃতের হারও আছে। সে তুলনায় আমাদের মৃতের হার কম।

বি চৌধুরী আরও বলেন, বাংলাদেশে স্বাস্থ্যব্যবস্থায় সবকিছুই এখনো অপ্রতুল। এ নিয়ে সবাই কথা বলছেন। তবে আমরা জনগণকে মাস্ক পরাতে বাধ্য করতে পারিনি, এটা কিন্তু লজ্জার। যে কোনো পরিস্থিতিতেই মাস্ক পরাতেই হবে। করোনায় মেয়েরা কম মারা যাচ্ছেন। এর কারণ, তারা অনেকেই ঘর থেকে কম বের হন এবং মুখে নেকাব বা কাপড় ব্যবহার করেন। এটা মাস্কের মতোই ব্যবহার হয়। সবারই একটি ভালোমানের মাস্ক পরা উচিত। প্রয়োজনে দুটোই ব্যবহার করা যেতে পারে।

সূত্র বাংলাদেশ প্রতিদিন 


ঢাকা, শনিবার, জুলাই ৪, ২০২০ (বিডিলাইভ২৪) // রি সু এই লেখাটি ৪৬৬ বার পড়া হয়েছে


মোবাইল থেকে খবর পড়তে অ্যাপস ডাউনলোড করুন