সর্বশেষ
শনিবার ৩১শে শ্রাবণ ১৪২৭ | ১৫ আগস্ট ২০২০

ফরিদপুরে পদ্মার চরে পানিতে ভাসছে সাড়ে ৩শ’ পরিবার

সোমবার, জুলাই ৬, ২০২০

3.jpg
ফরিদপুর প্রতিনিধি :

ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলায় পদ্মা নদীর পানি শনিবার বিপদ সীমার প্রায় ৫০ সে.মি. ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। এতে উপজেলার চরঝাউকান্দা ইউনিয়নের প্রায় সাড়ে ৩শ’ বসত বাড়ী পানিতে ভাসছে বলে জানা গেছে।

উক্ত ইউনিয়নের চর কালকিনিপুর মৌজার ছাহের মোল্যার ডাঙ্গী গ্রাম, শহর মোল্যার ডাঙ্গী, রেজু চৌকদার ডাঙ্গী, উত্তর নবাবগঞ্জ ও চৌধুরী ডাঙ্গী গ্রামের প্রায় সবগুলো বসতি পরিবারের উঠান আঙিনা ও ঘরের মধ্যে পানিতে ছয়লাব হয়ে পড়েছে। বন্যা কবলিত পরিবারগুলো দুয়োরের মাঝ দিয়ে বাঁশের সাকো নির্মান করে এবং নৌকা বা ভেলা দিয়ে যাতায়াত করছে। এছাড়া উক্ত গ্রামগুলোর অধিকাংশ বসতঘরের মধ্যে বন্যার পানি ঢুকে পড়ার কারণে বাঁশের মাচাল তৈরী করে বা উচু করে চৌকি বসিয়ে পরিবার পরিজন নিয়ে খেয়ে না খেয়ে অতি কষ্টে জীবন যাপন করে চলেছে বন্যা কবলিতরা। এছাড়া গৃহস্থালী পরিবারের গোয়ালঘরগুলো প্লাবিত হওয়ার ফলে কাশবন কেটে এনে গরু রাখার স্থানে ডিবি তৈরী করে চরম ঝুঁকির মধ্যে গবাদী পশুগুলো রাখা হয়েছে।

শনিবার দুপুরে বন্যা কবলিত এলাকা পরিদর্শনে গেলে জানা যায়, উপজেলার চরঝাউকান্দা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ ফরহাদ হোসেন মৃধা বন্যা দুর্গতদের পরিদর্শন করে ব্যক্তি তহবিল থেকে বন্যা কবলিত প্রতি বাড়ীতে একটি করে সাবান ও কিছু শিশু খাদ্য বিতরন করছেন।তিনি জানান, “এ বছর আগ মৌসুমে বন্যা কবলিত হওয়ার ফলে ইউনিয়নের ৫ নং, ৬নং, ৮নং ও ৯ নং ওয়ার্ডের সবক’টি গ্রামের আবাদী অর্ধপাকা আউশ ধান, তিল ও বাদাম ফসল পানিতে ডুবে গেছে। এছাড়া চরাঞ্চলে বন্যার পানি প্রতিরোধক কোনো বেড়িবাঁধ না থাকার ফলে গত এক সপ্তাহ ধরে উক্ত পাঁচটি গ্রামের সাড়ে ৩শ’ পরিবার পদ্মা নদীর পানির সাথে একাকার হয়ে প্রায় সহস্রাধিক লোক চরম ঝুঁকির মধ্যে বসবাস করছে”।

এ সময় বন্যা কবলিত হিরন শেখ (৫৫) জানায়, “ অত্র চরের সবগুলো কাচা রাস্তা, মসজিদ, মাদ্রাসা মেঠোপথ ও বসতবাড়ী পানিতে ভেসে যাওয়ার ফলে বাড়ছে সাপের উপদ্রব এবং পদ্মা নদীর বানের পানির সাথে একাকার থাকার ফলে চোর ডাকাতের শঙ্কা নিয়ে রাত কাটাচ্ছে বন্যা দুর্গতরা । সবমিলে রুদ্রমূর্তি এক প্রকৃতির সাথে লড়াই করে উক্ত এলাকার বানভাসিরা বেঁচে আছে বলে সে জানায়”।

এ ব্যপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার জেসমিন সুলতানা বলেন, “আমরা ইতিমধ্যে ওই বন্যা দুর্গত পরিবারগুলোর মধ্যে ত্রাণ সামগ্রী বিতরনের জন্য প্রস্তুতি নিয়েছি। রবিবার থেকে ত্রাণ সামগ্রী বিতরন শুরু হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন”।

আর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোঃ এমদাদুল হক জানান, “দুর্গত পরিবারগুলোকে সরকারিভাবে যতদূর সাহায্য সহযোগীতা করা যায় আমরা তা সবটুকু করার চেষ্টা করছি”।


ঢাকা, সোমবার, জুলাই ৬, ২০২০ (বিডিলাইভ২৪) // উ জ এই লেখাটি ২২৪ বার পড়া হয়েছে


মোবাইল থেকে খবর পড়তে অ্যাপস ডাউনলোড করুন