সর্বশেষ
মঙ্গলবার ১৪ই আশ্বিন ১৪২৭ | ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০

করোনা সংক্রমণের গতি কম করে যক্ষ্মার প্রতিষেধক, প্রকাশ গবেষণায়

মঙ্গলবার, আগস্ট ৪, ২০২০

13.jpg
বিডিলাইভ ডেস্ক :

এবার করোনা রুখতে বিসিজি নিয়ে আশার আলো শোনালেন বিজ্ঞানীরা। যুক্তরাষ্ট্রে হওয়া একটি গবেষণায় দাবি করা হয়েছে, বিসিজি প্রতিষেধক করোনায় সংক্রমণের গতি অনেকটাই কমিয়ে দেয়। অন্তত প্রথম ৩০ দিনে তা সম্ভব।

যক্ষ্মা প্রতিরোধে ব্যবহৃত ব্যাসিলাস ক্যালমেট গুয়েরিন বা বিসিজি ভ্যাকসিন করোনাভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে এবং আক্রান্তের পর মৃত্যুর সংখ্যা কমিয়ে দিতে পারে বলে দাবি করেছে ‘আমেরিকান অ্যাসোসিয়েশন ফর দ্য অ্যাডভান্সমেন্ট সায়েন্স’ নামের এক দাতব্য সংস্থা।

করোনার বিরুদ্ধে বিসিজি প্রতিষেধক কার্যকরী কি না তা নিয়ে করা গবেষণায় ভাইরাস সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে প্রথম ৩০ দিনে ১৩৫টি দেশে দৈনিক আক্রান্তের সংখ্যা এবং ১৩৪টি দেশে দৈনিক মৃতের সংখ্যার তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা হয়েছে। তা থেকেই এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন গবেষকরা।

তবে করোনা রুখতে বিসিজি-কে যে ‘ম্যাজিক বুলেট’ বলা যায় না, তাও স্পষ্ট করে দিয়েছেন গবেষকরা। তারা সতর্ক করে বলছেন, এই বিষয়ে আরও পর্যালোচনার প্রয়োজন রয়েছে। তাদের বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, বিসিজি বাধ্যতামূলক দেশগুলোতেও করোনার সংক্রমণ বৃদ্ধিতে ভিন্নতা ছিল। এর অর্থ হলো, করোনা ঠেকাতে বিসিজি ভ্যাকসিনের কার্যকারিতায় অতিরিক্ত সামাজিক ভ্যারিয়েবলের প্রভাব রয়েছে।

এতে বলা হয়, যে দেশগুলোতে বিসিজি টিকা দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে, সেই দেশগুলোতে করোনা হানা দেওয়ার পর অন্তত প্রথম ২০ দিন সংক্রমণ এবং মৃত্যুর হার কম থাকে।

যক্ষ্মাসহ অন্যান্য সংক্রমক রোগের বিরুদ্ধে শরীরের প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে শিশুর জন্মের ১৫ দিনের মধ্যে তাদের বিসিজি টিকা দেওয়া হয়। এশিয়া, দক্ষিণ আমেরিকা এবং আফ্রিকায় শিশুদের এই টিকা দেওয়া বাধ্যতামূলক।

করোনা সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে গত ২৯ মার্চ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে ২ হাজার ৪৬৭ জনের মৃত্যু হয়। গবেষকরা দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রে যদি কয়েক দশক আগেই বিসিজি টিকা নেওয়া বাধ্যতামূলক থাকত, তাহলে সেই সংখ্যাটা কমে ৪৬৮-এর আশেপাশে থাকতে পারত।

এ বিষয়ে ইন্ডিয়ান কলেজ অফ ফিজিশিয়ানস-এর ডিন শশাঙ্ক যোশী একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ‘প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে বিসিজি নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ এবং করোনার সংক্রমণকে দমিয়ে রাখতেও এর ভূমিকা রয়েছে বলে মনে করা হয়৷’

শশাঙ্ক যোশী আরও জানিয়েছেন, করোনা আক্রান্তদের শারীরিক অবস্থার অবনতি রুখতে তাদের শরীরে বিসিজি প্রতিষেধক পুনরায় প্রয়োগ করা যায় কি না, সেটাই খতিয়ে দেখা হচ্ছে৷ ইতিমধ্যেই মহারাষ্ট্রে ২৫০ জন করোনা আক্রান্তের উপরে এই ভ্যাকসিন প্রয়োগ করে মৃত্যু হার কমে কি না, তার ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল শুরু হয়েছে৷ আগামী তিন মাসের মধ্যে এই পরীক্ষার ফলাফল চলে আসতে পারে৷


ঢাকা, মঙ্গলবার, আগস্ট ৪, ২০২০ (বিডিলাইভ২৪) // এস বি এই লেখাটি ৪২০ বার পড়া হয়েছে


মোবাইল থেকে খবর পড়তে অ্যাপস ডাউনলোড করুন