সর্বশেষ
শনিবার ১৪ই অগ্রহায়ণ ১৪২৭ | ২৮ নভেম্বর ২০২০

রায়হানের দেহে ১১১ আঘাতের চিহ্ন

রবিবার, অক্টোবর ১৮, ২০২০

18.jpg
বিডিলাইভ ডেস্ক :

সিলেটের বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে নির্যাতনে মারা যাওয়া রায়হান উদ্দিনের (৩০) শরীরে ১১১টি আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। এসব আঘাতের মধ্যে ৯৭টি নীলা ফোলা আঘাত ও ১৪টি জখমের চিহ্ন ছিলো। ফরেনসিক রিপোর্টে এসব আঘাতের চিহ্ন উঠে এসেছে।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান ডা. শামসুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, আঘাতগুলো লাঠি দ্বারাই করা হয়েছে। আর অতিরিক্ত আঘাতের কারণে দেহের ভেতর রগ ফেটে গিয়ে রক্তক্ষরণে রায়হানের মৃত্যু হয়। আঘাতে দেহের মাংস থেতলে যায়। রগ ফেটে গিয়ে আন্তঃদেহে রক্তক্ষরণ (ইন্টারনাল ব্লিডিং) হয়। আর অতিরিক্ত আঘাতে মুর্ছা যান রায়হান। আঘাত করার সময় রায়হানের স্টমাক খালি ছিল। স্টমাকে ছিল কেবল এসিডিটি লিকুইড। ফরেনসিক রিপোর্টটি পিবিআই’র কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। রোববার (১১ অক্টোবর) সকাল ৭টা ৫০ মিনিটে রায়হান মারা যান।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) দ্বিতীয় ময়নাতদন্ত শেষে ডা. শামসুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, রায়হানের শরীরে অসংখ্য আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। তাকে প্রচণ্ড মারধর করা হয়েছে। এ কারণেই অতিরিক্ত আঘাতে তার মৃত্যু হয়। ওইদির রায়হানের মরদেহ কবর থেকে তুলে দ্বিতীয়বার ময়নাতদন্ত শেষে বিকেলে আখালিয়া নবাবী মসজিদ সংলগ্ন কবরস্থানে ফের দাফন করা হয়।

রোববার (১১ অক্টোবর) রাতে সিলেট কোতোয়ালি থানায় রায়হানের স্ত্রী তানিয়া আক্তার তান্নি বাদী হয়ে মামলা হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় বন্দরবাজার ফাঁড়ির পুলিশের বিরুদ্ধে তার স্বামীকে নির্যাতন করে মেরে ফেলার অভিযোগ করেন তিনি। মামলাটি ২০১৩ সালের ‘নির্যাতন এবং হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইনে’ এর ধারায় দায়ের করা হয়।

মামলাটি পুলিশ সদর দফতরের নির্দেশে পিবিআইতে স্থানান্তর হয়। তদন্তভার পাওয়ার পর পিবিআই’র টিম ঘটনাস্থল বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়ি, নগরীর কাস্টঘর, নিহতের বাড়ি পরিদর্শন করে।


ঢাকা, রবিবার, অক্টোবর ১৮, ২০২০ (বিডিলাইভ২৪) // এস বি এই লেখাটি ৫৭৫ বার পড়া হয়েছে


মোবাইল থেকে খবর পড়তে অ্যাপস ডাউনলোড করুন