সর্বশেষ
মঙ্গলবার ১০ই আশ্বিন ১৪২৫ | ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮

'আশা করি ভদ্রলোকের মতো সারেন্ডার করবেন'

বৃহস্পতিবার, মার্চ ১২, ২০১৫

1154929647_1426156229.jpg
বিডিলাইভ রিপোর্ট :
বৃহস্পতিবার দুপুরে নিজ কার্যালয়ে বিএনপি-জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটের হরতাল-অবরোধে ক্ষতিগ্রস্থদের আর্থিক অনুদান দেওয়ার সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘আমি আশা করি উনি (খালেদা) আইন-আদালত মানবেন, উনার বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট ইস্যু হয়েছে, উনি ভদ্রলোকের মতো কোর্টে সারেন্ডার করবেন। এটাই ভদ্র লোকের নিয়ম।’

খালেদা জিয়ার প্রতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘উনি যদি কিছুই না মানতে চান, তাহলে কিন্তু এদেশের মানুষ তাকে ছেড়ে দেবে না।’

‘উনি আইন মানেন না, আদালত মানেন না, কিছুই মানেন না। উনার মামলায় ৬৭টি তারিখ চলে গেছে। উনি আদালতে যান না, আর গেলেও লাঠি-সোটা, অস্ত্র-ক্যাডার বাহিনী নিয়ে যান, কোর্টকে অবমাননার জন্য,’—খালেদা জিয়ার সমালোচনা করে বলেন শেখ হাসিনা।

খালেদা জিয়া বাংলাদেশকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যেতে চাইছেন বলেও অভিযোগ করে প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘বিএনপি-জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটের ধ্বংসত্মক কার্যকলাপের কারণে দেশে বহুমানুষ নিঃস্ব হয়ে যাচ্ছে।’

‘বিএনপি-জামায়াত মিলে দেশের মানুষের জীবনকে অতিষ্ঠ করে তুলেছে। তাদের কোনো মনুষ্যত্ব নেই। তারা জনগণের জন্য নয়, নিজেদের স্বার্থ রক্ষার জন্যই রাজনীতি করে,’—যোগ করেন শেখ হাসিনা।

খালেদার উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজকে পত্রিকায় দেখলাম একটি ছোট্ট শিশু ৩৫ দিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে মারা গেছে। এই শিশুর মৃত্যুর জন্য তিনি (খালেদা জিয়া) কী জবাব দেবেন? এই সাধারণ মানুষ, দরিদ্র্য মানুষ তাদের ওপর কেন এই জুলুম?’

এ ধরনের কর্মকাণ্ডের জন্য মানুষের অভিশাপেই বিএনপি-জামায়াত শেষ হয়ে যাবে বলেও মন্তব্য করেন বঙ্গবন্ধু কন্যা।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘মানুষ যখন আর্থিকভাবে সচ্ছল, শান্তিতে বসবাস করছে, যখন তারা সুন্দর ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখছে তখনই তাণ্ডব চালাচ্ছে বিএনপি-জামায়াত।

‘আমি জানি না, এই মানুষের অভিশাপেই শেষ হয়ে যাবে তারা। আর আইনগত যে ব্যবস্থা নেওয়া দরকার সেটা আমরা নেবো,’—বলেন তিনি।

গুলশান কার্যালয়ে খালেদা জিয়ার অবস্থানের কড়া সমালোচনা করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘উনি বাড়ি ছেড়ে অফিসে গিয়ে বসে থাকলেন। অফিসে কী মধু আছে জানি না। তিনি অফিস থেকে বের হন না। ওখানে বসে বসে হুকুম দেন আর তার ছেলে লন্ডনে বসে হুকুম দেয়-এই হুকুমে তাদের ক্যাডার বাহিনী, সন্ত্রাসী বাহিনী মানুষ পোড়ায়। ধ্বংস করাই তাদের কাজ।’

সহিংসতার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে দেশবাসীর প্রতি আবহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জ্বালাও-পোড়াও কখনও গ্রহণযোগ্য নয়। পাশাপাশি দেশবাসীকে এই আহ্বানই জানাবো-মানুষের শক্তিই সবচেয়ে বড় শক্তি। যারাই এ ধরনের জ্বালাও-পোড়াও করবে সঙ্গে সঙ্গে তাদের ধরতে হবে। এভাবেই থামাতে হবে তাদের।’

চলমান পরিস্থিতি মোকাবেলায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রশংসা করে তিনি বলেন, ‘তারা (আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী) দিন-রাত পরিশ্রম করে যাচ্ছে।’

২০ দলীয় জোটের হরতাল-অবরোধে ২৩৬জন ক্ষতিগ্রস্থের হাতে বৃহস্পতিবার মোট ৫ কোটি ৪২ ল‍াখ ৮ হাজার টাকার চেক তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এরমধ্যে হরতাল-অবরোধের সহিংসতায় নিহত ৪ জনের পরিবার এবং পেট্রোল বোমায় আহত ৩৩ জনকে পারিবারিক সঞ্চয়পত্র বাবদ মোট ৩ কোটি ৮৫ লাখ টাকা অনুদান দেওয়া হয়।

পেট্রোল বোমায় নিহত সোহাগের মা দৃষ্টিহীন সেলিনা বেগমকে পারিবারিক সঞ্চয়পত্রের পাশাপাশি প্রতি মাসে প্রধানমন্ত্রীর তহবিল থেকে ৫ হাজার টাকা করে আজীবন মাসোহারা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

এছাড়া হরতাল-অবরোধে ক্ষতিগ্রস্থ ২৭০টি গাড়ির ১৯৯ জন মালিককে ১ কোটি ৫৭ ল‍াখ টাকা ৮ হাজার টাকার আর্থিক অনুদানের চেক তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী।

এ পর্যন্ত বিএনপি-জামায়াতের সহিংস কর্মসূচিতে হতাহত ও ক্ষতিগ্রস্থ গাড়ি মালিকদের সহায়তা বাবদ প্রধানমন্ত্রীর তহবিল থেকে ১৪ কোটি ৬২ লাখ ৭৩ হাজার টাকার আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়।

এ সময় নৌপরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মশিউর রহমান রাঙা, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এ কে এম শহীদুল হক প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।


ঢাকা, বৃহস্পতিবার, মার্চ ১২, ২০১৫ (বিডিলাইভ২৪) // আর কে এই লেখাটি ১৬৭৮ বার পড়া হয়েছে


মোবাইল থেকে খবর পড়তে অ্যাপস ডাউনলোড করুন