সর্বশেষ
শনিবার ৩রা অগ্রহায়ণ ১৪২৫ | ১৭ নভেম্বর ২০১৮

পে-স্কেল বিতর্কে শিক্ষকের বস্ত্রহরণ এবং আত্মপক্ষ সমর্থনের স্বগতোক্তি

মাহবুবুল হক

শুক্রবার, জানুয়ারী ৮, ২০১৬

593461033_1452266094.jpg
বিডিলাইভ ডেস্ক :
পে-স্কেল ২০১৫ কে কেন্দ্র করে দেশের প্রতিটি স্তরের শিক্ষকদের আন্দোলন অনেকদিন ধরেই চলছে। তন্মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের আন্দোলন ভিন্নমাত্রা পেয়েছে সরকারের সচিবদের সাথে সরাসরি বাদানুবাদের জড়িয়ে যাওয়ায়। এই বাদানুবাদ বর্তমানে এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে- চাকুরির সম্মান, সুযোগ-সুবিধা, প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তি, আসা-যাওয়া, কর্মঘণ্টা ইত্যাদি নানা অস্বস্তিকর তুলনার মধ্যে জড়িয়ে গেছে। স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী সমাধানের কথা বললেও তিঁনি উষ্মা প্রকাশ করে এই বিতর্কে নিজকে জড়িয়ে ফেলেছেন।

বিতর্কের অপেক্ষাকৃত দুর্বল পক্ষ শিক্ষকদের বিপক্ষে এবং প্রবল পক্ষ প্রশাসনের আমলাদের পক্ষে সরাসরি অবস্থান নিয়ে তিনি বাহ্যত দেশের কয়েক লক্ষ শিক্ষককে আরও হতাশার মধ্যে ঠেলে দিয়েছেন। উল্লেখ্য, বাংলাদেশে সবলতা-দুর্বলতা নিরূপিত হয় কে কতখানি ক্ষমতা চর্চা করতে পারে, বা ক্ষমতা-কেন্দ্রের নিকটে থাকে অথবা কতটা অর্থ-বিত্তের প্রভাব তার আছে সেসব পরিমাপকের উপর। সেই হিসেবে শিক্ষক দুর্বল পক্ষ তো বটেই! আর যে সমাজে শিক্ষক দুর্বল পক্ষ, সে-সমাজ ঠিক কীভাবে উড্ডয়ন আকাঙ্ক্ষায় বিশ্ব-সমাজে ডানাঝাপটাবে তা গভীর চিন্তার বিষয়।
 
বর্তমান পে-স্কেল ঘোষণার অনেক আগে থেকেই বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের প্রধান দাবি ছিল দুটি- স্বতন্ত্র পে-স্কেল এবং উচ্চ-শিক্ষাকমিশন। কিন্তু শিক্ষকের গায়ের কাপড় বিবর্ণ এবং মুখ মলিন দেখেই ক্ষমতাধরেরা অভ্যস্ত। ফলে আন্দোলনের নামে ফোঁসফাঁস করাটা তাদের একদম পছন্দ হয়নি। পে-স্কেল ঘোষণার পর অবস্থা এখন এমন যে- এসব দাবি অপসৃত হয়ে ‘ভিক্ষা চাই না মা, কুত্তা সামলা’র পর্যায়ে গিয়ে ঠেকেছে। মূল দাবির তো খবরই নেই, যেটুকু প্রাপ্তি আগে ছিল সেটাই যাবার জোগাড়। ফলে আন্দোলন এখন আম-ছালার বদলে অন্তত ছালা রাখবার আন্দোলন। অথচ বেতন কমিশনে পাঁচজন ছিলেন পেশাজীবী-শিক্ষক। খণ্ডকালীন সদস্যরা হলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের চক্ষুবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক জাফর খালেদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মমতাজউদ্দিন আহমেদ, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আবু বোরহান মোহাম্মদ বদরুজ্জামান, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক লুৎফুল হাসান, বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) জ্যেষ্ঠ গবেষণা ফেলো বিনায়ক সেন।

পে-স্কেল ঘোষণার আগ থেকেই শিক্ষকতা পেশাকে হেয় করার জন্য নানরকম তুলনা প্রতিতুলনার বস্ত্রবয়ন হয়েছে। ঘোষণার পর যখন শিক্ষকরা দেখলেন প্রাপ্তির খাতায় অশ্বডিম্ব, আবারও আন্দোলনে যাবার হুমকি দিলেন তারা। এপর্যায়েও থেমে নেই শিক্ষকতাকে সমাজের কাছে অগ্রহণযোগ্য চাকুরিতে পরিণত করার বহুমুখী আক্রমণ। অবশ্য তেমনটা হতেও বেশি বাকি নেই। সম্ভবত কোন শিক্ষকও এখন আর তার সন্তানকে শিক্ষক হতে প্রেরণা দেবেন না। শিক্ষকতার বস্ত্রহরণ পর্বে যারা অংশ নিয়েছেন এবং এখনও তাড়িয়ে তাড়িয়ে সেই সুখ উপভোগ করছেন। তারা যেসব প্রশ্ন তুলেছেন আমি কিছুটা আত্মরক্ষা, কিছুটা দায় থেকে সেগুলোর স্বগত-উত্তর তৈরি করেছি, কোন পাল্টা জবাব এগুলো নয়।
 
ক। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে শিক্ষকেরা উচ্চতর বেতন স্কেল পান, তাই আমাদের দেশেও তদ্রূপ দিতে হবে এমন দাবিকে খোঁড়া যুক্তি বলে যারা তাচ্ছিল্য করেন সে-সম্পর্কে বলতে পারি -

এটা যুক্তি নয় তথ্য ও উপাত্তের তুলনামূলক বিশ্লেষণ করে নিজের অবস্থান যাচাই। তবে কেউ যদি যুক্তি হিসেবে উপস্থাপন করে সেটা অন্যায়ও নয়। কারণ যৌক্তিক তুলনা প্রতি-তুলনার মাধ্যমেই প্রকৃত পরিস্থিতি চিহ্নিত হয়। বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থার সাথে যুক্তরাজ্যের বা যুক্তরাষ্ট্রের তুলনা করে আমরা করণীয় নির্ধারণ করতে পারি, তবে আামাদের অর্থনৈতিক সক্ষমতা যে তাদের মত নয়, তা যে কেউ বোঝেন। কিন্তু তুলনাটি যখন পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা বা ভারতের সাথে হয় তখন গুরুত্ব পায়, আর্থ-সামাজিক-রাজনৈতিক সববিবেচনায়। সেটি তখন যুক্তি হিসেবে গণ্য হতে বাধা কোথায়? জ্ঞান-বিজ্ঞানে পৃথিবীর উন্নত দেশগুলো যেসব কারণে সভ্যতাকে নিয়ন্ত্রণ করছে তার অন্যতম হল শিক্ষাকে সর্বাধিক গুরুত্ব প্রদান। এটি কোন গালগল্প নয়, ইতিহাসের সাক্ষ্য। এর জন্য তথ্য প্রমাণ উপস্থাপনের প্রয়োজন নেই। সুতরাং শিক্ষার প্রধান অংশ শিক্ষক এক্ষেত্রে গুরুত্ব পাবেন সেটাই স্বাভাবিক, কীভাবে পাবেন শুধু সেটাই বিশ্লেষণের বিষয় হতে পারে।
 
খ। শিক্ষকদেরকে কেন উচ্চতর বেতন স্কেল দিতে হবে সে বিষয় আলোকপাত করার প্রয়োজনীয়তা কেউ কেউ বোধ করেছেন। এজন্য শিক্ষকতা পেশার কয়েকটি মৌলিক বিষয়, তথা মূলগত বৈশিষ্ট্য স্মরণ রাখতে হবে :
 
এক
আলোচ্য বিষয়ে শিক্ষকতা পেশার ব্যাপ্তি চিহ্নিত করতে হবে প্রথমে। নিয়মিত ও আনুষ্ঠানিক শিক্ষাকেই এক্ষেত্রে বিবেচনায় আনা হয়েছে, সাধারণভাবে আমরা যাকে প্রাক-প্রাথমিক স্তর থেকে উচ্চশিক্ষা স্তর পর্যন্ত বিবেচনা করে থাকি। এছাড়া অনানুষ্ঠানিক শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ইত্যাদি শিক্ষকতা পেশার সাথে সম্পর্কিত হলেও এসব শিক্ষার সাথে রাষ্ট্রের সাংবিধানিক মৌলিক শিক্ষার কোন সম্পর্ক নেই। এই শিক্ষকগণ রাষ্ট্র ও জাতির নেতৃত্ব দানের জন্য প্রজন্ম গঠনের দায়িত্ব নিয়ে থাকেন।
 
দুই
শিক্ষক আর সরকারি (অথবা বেসরকারি) কর্মকর্তা বা কর্মচারীর চাকুরি একইরকম কি না। প্রশ্নটি সরাসরি করা যায়- শিক্ষকতা কি কোনো চাকুরি? উত্তরে বলতে পারি, প্রাচীনকাল থেকেই আমাদের সমাজে পিতা-মাতার পরই শিক্ষকের স্থান নিধারিত। সেটা মানবসমাজের প্রথায় পরিণত হয়েছে, ধর্মের বিধিবিধানেও তা গ্রহণ করা হয়েছে দেখতে পাই। ইউরোপে সক্রেতিস, ডায়ানসিস অথবা বঙ্গে সেই গৌতম বুদ্ধের কাল থেকেই, যখন থেকে গাছতলায় বসে আনুষ্ঠানিক শিক্ষার ধারা শুরু, শিক্ষকের কাজকে অত্যন্ত সম্মানের চোখে দেখা হত। প্রথম দিকে শিক্ষকের জীবন-জীবিকার দায়িত্ব নিতো সমাজ, পরে তা রাজপৃষ্ঠপোষকতায় রূপ পায়। বলা বাহুল্য শিক্ষার বিষয় তখন মূলত ধর্মীয়; বড়জোর নীতি বা ভাষা হয়তো থাকতো। সংখ্যা এবং চিকিৎসাও যুক্ত হয় কিছুকাল পরে। শিক্ষক তখন পাঠদান করতেন ঈশ্বরের সন্তুষ্টির জন্য। সেই অবস্থার বদল হয়েছে সমাজ ও রাষ্ট্রব্যবস্থার পরিবর্তনের সাথে সাথে। শিক্ষককে বেতন নিতে হয় এখন, তবে কাজটি সমাজের চোখে এখনও চাকুরির চেয়ে বেশি কিছু ।
 
তিন  
শিক্ষকতা পেশার মৌলচেতনা কেবল ক্ষুন্ণিবৃত্তি নয়। এর সাথে নিঃস্বার্থ সেবার একটি সুপ্রাচীন পরম্পরা জড়িয়ে আছে। শিক্ষাদান বা জ্ঞানদান পদ্ধতির মধ্যেই নিঃস্বার্থপরতার চেতনা সংগুপ্ত থাকে। জ্ঞান যদি এভাবে পাত্র থেকে পাত্রে নিঃস্বার্থভাবে বিতরিত না হতো তাহলে সভ্যতার এই উৎকর্ষ মানুষ দেখতো না। শিষ্যকে প্রকৃত মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার স্বপ্নের মধ্যে, সফল-শ্রেষ্ঠ-উজ্জ্বল মানুষ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত দেখার মধ্যে, গুরুর তথা শিক্ষকের যে আনন্দ সেখানেই মানবজাতির সভ্যতার মৌলপ্রেরণা নিহিত।

আজকের পৃথিবীতে মূল্যচেতনার ব্যাপক পরিবর্তনের পরও সেই গূঢ় চেতনাটি অক্ষত আছে বলেই এখনও, শিক্ষিত বা অশিক্ষিত সকল পরিবারের মধ্যেই, শিক্ষককে ভক্তি ও সম্মান দেওয়ার শিক্ষাটি শিশুর জন্য একেবারে শুরুর দিকের চর্চা। এই পরম্পরাই সমাজে পরবর্তী প্রজন্মের জন্য জ্ঞানভাণ্ডার সমৃদ্ধ করে নতুন শিক্ষক গড়ে তোলার প্রেরণা জাগিয়ে রাখে। যদি এই পরম্পরা রক্ষিত না হয়, পুরো জাতির জন্য সেটি এক মহাবিপদ সংকেত হিসেবে গণ্য হতে বাধ্য।
 
চার
জাতি ও রাষ্ট্র তার প্রজন্ম বা নাগরিককে আধুনিক বিশ্বের ‍উপযোগী করে গড়ে তুলতে চায়। এজন্য উন্নত ও প্রাতিযোগিতামূলক শিক্ষার বিকল্প নেই। সেটা একমাত্র শিক্ষা ব্যবস্থার যুগোপযোগী উন্নয়নের মাধ্যমে সম্ভব। একাজে শিক্ষক প্রধান উপাদান। বলা বাহুল্য, উপযুক্ত নাগরিক বলতে রাষ্ট্রের অনুগত সব শ্রেণি-পেশার যোগ্যতাসম্পন্ন মানুষকেই বোঝায়।
 
গ। বাংলাদেশের শিক্ষকেরা অন্য পেশাজীবীর তুলনায় কি এমন বেশি কিছু করছেন অথবা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, এমন জিজ্ঞাসাও কোথাও কোথাও দেখেছি। এ ধরনের প্রশ্নের উত্তর অনেক দৃষ্টিকোণ থেকে দেয়া যায়। কোনো দৃষ্টিকোণে আটকে না থেকে যদি বলি, কে কি বেশি করছে বা কম করছে এভাবে বিবেচনা করে বেতন নির্ধারিত হলে রাস্তায় রোদে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাফিক পুলিশের বেতন সবচেয়ে বেশি হত। কিংবা ব্যাংকের ভল্ট পাহারা দেয়া নাইটগার্ড বেতন পেত সর্বোচ্চ স্কেলে। এসব কথা নেহাত তর্কের খাতিরে যেহেতু উত্থাপন করা হয়েছে এসবের জবাবের মধ্যে একধরনের যুক্তিখণ্ডনের ব্যাপার প্রাধান্য পায়। কিন্তু কিছু বিতর্ক কখনও দেশ বা দশের জন্য শুভ হয় না, তন্মধ্যে শিক্ষকের পেশাকে হেয় করে এমন কূটতর্ক প্রধান। শিক্ষকতাকে নষ্ট হতে দিলে সবার অলক্ষ্যে একের পর এক প্রজন্ম ধ্বংস হয়ে যাবে। একটা উদাহরণ দেয়া যাক- মূল বইয়ের ফটোকপি যতটুকু মান রক্ষা করে, ফটোকপির ফটোকপি তা-ও পারে না। এরপর যত ফটোকপি হবে মূল থেকে তার গুণাগুণ আরও দূরে সরে যাবে। একসময় ফটোকপিটা কোন্ বইয়ের সেই পরিচয়ই উদ্ধার করা যাবে না। শিক্ষকের মেরুদণ্ড বাঁকা থাকলে ছাত্রছাত্রীদের মেরুদণ্ড ঋজু হবে এমনটা অসম্ভব।
 
ঘ। সচিবদের সাথে তুলনা করে শিক্ষকদের বেতনস্কেল দাবি করার যৌক্তিকতা নিয়ে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী এবং আরো অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন। বলা বাহুল্য তারা সবাই সেই তুলনার ক্ষেত্রে শিক্ষককে ‘অতুলনীয়’ রাখতে চান এমনটা নয়। বরং প্রশ্নটি এমনভাবে করা হয় যেন কোথায় সচিব কোথায় শিক্ষক! চাকুরির হিসেবে কোন তুলনাই চলে না! অধ্যাপক আনিসুজ্জামান জাতীয় অধ্যাপক, তিনি চাকুরি বা পেশার সুযোগসুবিধা গ্রহণ করেন না। তবু তাঁর সম্মান নিয়ে টানাটানিকে যখন ‘ভুল’ হিসেবে চিহ্নিত করে ‘ঠিক করা হবে’ মর্মে ফুটনোটে ফেলে দেয়া হয় তখন শিক্ষকদের আরেক দফা বস্ত্রহরণ সম্পন্ন হয় এটা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রিয় শিক্ষকও বোঝেন কিনা জানি না, আমরা যারা তাঁকে পাহাড়সম উচ্চতায় দেখি তারা লজ্জায় পড়ি। তাছাড়া বেতনের গ্রেডকে যখন চাকুরির পদমর্যাদার প্রতিফলক হিসেবে ঘোষণাই করা হয় তখন খামোখা এই সম্মান-সম্মান খেলা খেলবার দরকার কী ?
 
শেষমেশ বলতে চাই, এসব স্বগতোক্তি ফলদায়ক নয় জানি। এখন মানে-মানে আত্মসম্মান নিয়ে চাকুরিজীবন শেষ করতে পারলেই বাঁচি। তবু পরবর্তী প্রজন্ম যারা শিক্ষকতায় এসে পড়েছে, বা নিরূপায় হয়ে আসবে, তাদের কাছে অপরাধী হয়ে থাকতে চাই না বলেই এই আত্মকথন। কারো কাছে প্রতিকার চাই না, সমাধান চাই না, দয়া চাই না, দাবি নাই তবে আশা আছে- একদিন সব ঠিক হয়ে যাবে, কেউ না কেউ তা করবে। সেটা না থাকলে চলে না।

লেখক: সহকারী অধ্যাপক, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

ঢাকা, শুক্রবার, জানুয়ারী ৮, ২০১৬ (বিডিলাইভ২৪) // আর কে এই লেখাটি ১১৫৭ বার পড়া হয়েছে


মোবাইল থেকে খবর পড়তে অ্যাপস ডাউনলোড করুন