সর্বশেষ
রবিবার ৮ই আশ্বিন ১৪২৫ | ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮

প্রথম সবাক চলচ্চিত্র 'মুখ ও মুখোশ'-এর ৬০ বছর

বুধবার, আগস্ট ৩, ২০১৬

149078219_1470216400.jpg
বিডিলাইভ ডেস্ক :

'প্রথম' দিয়েই শুরু হয় সকল প্রথম কিছু। সবার মনে গাঁথা থাকে সেই 'প্রথম'টিই। বাংলাদেশও মনে রাখবে আজকের এই দিনটিকে। ১৯৫৬ সালের আজকের দিনে বাংলাদেশ 'প্রথম' সবাক চলচ্চিত্রে মুখ খুলেছিল মুখ ও মুখোশ মুক্তির মাধ্যমে।

প্রথম সবাক চলচ্চিত্র মুখ ও মুখোশ রূপমহল সিনেমা হলে উদ্বোধন করেছিলেন পূর্ব পাকিস্তানের তৎকালীন গভর্নর শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হক। ছবিটি পরিচালনা করেছিলেন আবদুল জব্বার খান।

১৯৫৩ সালের মার্চ মাসে ড. সাদেক একটি সভা ডেকেছিলেন। তখনকার পূর্ব পাকিস্তানে চলচ্চিত্র নির্মাণ নিয়েই ছিল সেই সভা। তখন এখানে চলত ভারতীয় বাংলা, হিন্দি, পশ্চিম পাকিস্তান ও হলিউডের ছবি।  তখনও বাংলাদেশে ছবি নির্মাণ করা হয় নি। সভায় গুলিস্তান সিনেমা হলের মালিক অবাঙালি খানবাহাদুর ফজল আহমেদ বললেন, পূর্ব পাকিস্তানের আর্দ্র আবহাওয়ায় চলচ্চিত্র নির্মাণ করা সম্ভব নয়।

এ কথার প্রতিবাদ করলেন আবদুল জব্বার খান। তিনি বললেন, এখানে তো ভারতীয় ছবির শুটিং হয়েছে। তবে কেন পূর্ণাঙ্গ একটি ছবি করা যাবে না?বললেন, ছবি করে দেখাবেন।

এ চলচ্চিত্রের ‘চ’ও জানেন না আবদুল জব্বার খান। ১৯৫৩ সালে নিজের লেখা ডাকাত নাটক নিয়েই তৈরি করলেন চিত্রনাট্য। পাঁচ হাজার টাকা দিয়ে কলকাতা থেকে আনালেন পুরোনো এক ‘আইমো’ ক্যামেরা। একটি সাধারণ ফিলিপস টেপরেকর্ডার ছিল শব্দ ধারণের জন্য।

নারী অভিনয়শিল্পী নেই। পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়া হলো। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্সের ছাত্রী জহরত আরা ও ইডেন কলেজের আইএর ছাত্রী পিয়ারী বেগম যোগাযোগ করলেন। কলকাতার শিল্পী পূর্ণিমা সেনগুপ্ত এলেন। তিনিই হলেন নায়িকা (কুলসুম)।

নায়ক আফজালের বোন রাশিদার চরিত্রে অভিনয় করলেন পিয়ারী, নাম নিলেন নাজমা। আফজাল নিজেই পরিচালক। অট্টহাসির জন্য বিখ্যাত ইনাম আহমেদ ছিলেন ডাকাতসর্দারের ভূমিকায়।

শুটিং হয় তেজগাঁওয়ের জঙ্গল, লালমাটিয়ার ধানখেত,  বুড়িগঙ্গার ওপারে কালীগঞ্জ, জিঞ্জিরা ও টঙ্গীর তুরাগ নদের পাড়ে। শুটিং শেষ হয় ১৯৫৫ সালের ৩০ অক্টোবর। লাহোরের শাহনুর স্টুডিওতে ছবির মুদ্রণ, পরিস্ফুটন ও সম্পাদনার কাজ হয়।

ঢাকার পরিবেশকেরা ছবিটি মুক্তি দিতে নারাজ। ‘পাকিস্তান ফিল্ম ট্রাস্ট’ ও ‘পাকিস্তান ফিল্ম সার্ভিস’ ছবিটি পরিবেশনার দায়িত্ব নেয়। উদ্বোধনী প্রদর্শনী হয় ঢাকার রূপমহলে। চারটি প্রিন্টের বাকি তিনটি দেখানো হয় চট্টগ্রামের নিরালা, নারায়ণগঞ্জের ডায়মন্ড ও খুলনার উল্লাসিনী সিনেমা হলে। দর্শক খুবই আগ্রহ নিয়ে ছবিটি দেখেন। মুখ ও মুখোশ দিয়ে যাত্রা শুরু করে বাংলাদেশের চলচ্চিত্রশিল্প।


ঢাকা, বুধবার, আগস্ট ৩, ২০১৬ (বিডিলাইভ২৪) // জে এইচ এই লেখাটি ৭৫২ বার পড়া হয়েছে


মোবাইল থেকে খবর পড়তে অ্যাপস ডাউনলোড করুন