bdlive24

কিন্তু কেন

কিন্তু কেন-২: ঝামেলা করাই অ্যাপেনডিক্সের একমাত্র কাজ কেন?

শনিবার সেপ্টেম্বর ১৭, ২০১৬, ১০:০৭ পিএম.


কিন্তু কেন-২: ঝামেলা করাই অ্যাপেনডিক্সের একমাত্র কাজ কেন?

বিডিলাইভ ডেস্ক: দৈনন্দিন জীবনে আমরা অনেক কিছুর অভিজ্ঞতা অর্জন করি। তা আমাদের কাছে এতোটাই স্বাভাবিক মনে হয় যে, সেটা নিয়ে আমাদের মনে কোনো প্রশ্ন জাগে না। অথচ একটু দূরে গিয়ে ভাবলেই হয়তো দেখা যাবে এর পেছনে লুকিয়ে আছে কোনো চমৎকার কারণ।

প্রতিদিনের জীবনের এমন কিছু 'কেন'-এর উত্তর নিয়েই আমাদের এই আয়োজন। ধারাবাহিকভাবে নতুন কিছু জানার ও জানানোর এই ক্ষুদ্র চেষ্টা- 'কিন্তু কেন?'

আজকের বিষয়টি হচ্ছে, আমাদের শরীরে অ্যাপেনডিক্স থাকে কেন? এর কাজ কি?

আমরা জানি, অ্যাপেনডিক্স আমাদের শরীরে একটি টাইম বোমার মতো, যা আমরা পেটের ভেতরে নিয়ে ঘুরে বেড়াই। ডাক্তাররা প্রায়ই বলেন এই অঙ্গটির ঝামেলা করা ছাড়া কোনো কাজ নেই। কথাটি সত্যি। এখন পর্যন্ত অ্যাপেনডিক্সের কোন কাজ আবিষ্কার করা যায়নি। তবু এই অঙ্গটি আমাদের শরীরে আছে। মাঝে মাঝে কারো অ্যাপেনডিক্সের ব্যথা হয়, কেউবা মরেও যায়। শুধু শুধু ঝামেলা বাঁধানোই কি তাহলে এই অঙ্গটির একমাত্র কাজ?

উত্তর- হ্যাঁ। আমাদের ক্ষুদ্রান্ত্র এবং বৃহদান্তের সংযোগ স্হলে থলের মত অঙ্গটির (সিকাম) শেষপ্রান্তে টিস্যু দ্বারা গঠিত চিকণ পেন্সিলাকৃতির যে অংশটি দেখা যায় তারই নাম অ্যাপেনডিক্স। অ্যাপেনডিক্সের মূল কাজ হলো ঘাসে থাকা সেলুলোজ হজমে সাহায্য করা।

কোয়ালা, খরগোশ কিংবা ক্যাঙ্গারুর মত তৃণভোজী প্রাণীদের সিকাম এবং এ্যাপেনডিক্স আমাদের তুলনায় অনেক বড় হয়ে থাকে। তৃণভোজী প্রাইমেটদের যেমন লিমার, লারিসেস, এবং স্পাইডার মাঙ্কি ক্ষেত্রেও একথাটা সত্যি। বৃহদাকৃতির এই থলে বা সিকাম প্রাণীদের ক্ষেত্রে সেলুলোজকে ভেঙ্গে শরীরের জন্য উপযোগী শর্করায় পরিণত করতে সাহায্য করে। যে সমস্ত প্রাইমেটদের খাদ্যাভাসে পাতার পরিমাণ কম থাকে যেমন ওরাং উটাং বা ম্যাকি, তাদের সিকাম এবং এ্যাপেনডিক্সের আকার অনেক ছোট হয়।

আমরা যেহেতু তৃণভোজী না বা সেলুলোজ হজম করতে পারিনা তাই আমাদের দেহে অ্যাপেনডিক্সের আকার খুবই ছোট। একটা প্রাণী যত কম তৃণভোজী হবে তার অ্যাপেনডিক্সের আকারও তত ছোট হয়ে থাকে। আমাদের দেহের অ্যাপেনডিক্স হলো আমাদের তৃণভোজী পূর্বপুরুষদের রেখে যাওয়া একটি অঙ্গ যার গুরুত্ব আমাদের পূর্ব পুরুষদের কাছে থাকলেও আমাদের কাছে এখন একেবারেই নেই।

অ্যাপেনডিক্সের আদৌ কোন গুরুত্ব কি আছে? যদি থেকেও থাকে তবে তার কোন প্রমাণ পাওয়া যায় না। এ্যাপেনডিক্স কেটে ফেললে তার কোন খারাপ প্রতিক্রিয়া আমাদের শরীরে হয় না। বরঞ্চ মলাশয়ের বিভিন্ন রকমের সমস্যার পরিমাণ অনেক কমে যায়।

সংকীর্ণতার কারণে খুব সহজেই বন্ধ হয়ে যেতে পারে যা কিনা ইনফেকশন এবং প্রদাহের কারণ হয়ে থাকে, যাকে আমরা বলি অ্যাপেনডিসাইটিস। সঠিক সময়ে সঠিক চিকিৎসা না হলে রোগীর মারা যাওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশী। উনিশ শতকে ডাক্তাররা অ্যাপেনডিক্স অপসারণের পদ্ধতি আবিস্কার করার আগে মৃত্যুর হার ছিলো ২০% এর উপরে।

যদি অ্যাপেনডিক্সের উপকার এবং অপকারের মধ্যে একটা তুলনামূলক আলোচনা করি তবে দেখা যাবে আমাদের দেহে এটা থাকার কোন যৌক্তিকতা নেই। তবে সেই আলোচনা বাদ দিয়েই বলা যায় অ্যাপেনডিক্স হলো বিবর্তনের রেখে যাওয়া একটি অঙ্গ যা কিনা যে কাজের উদ্দেশ্যে এর উদ্ভব সেই কাজ এখন আর সে পালন করেনা। তাহলে কেন এটা এখনও আমাদের দেহে রয়ে গেল? একটা কারণ হতে পারে এটা বিবর্তনের মাধ্যমে নিশ্চিহ্ন হওয়ার পথে। কিন্তু সার্জারীর কারণে প্রাকৃতিক নির্বাচনের মাধ্যমে এ্যাপেনডিক্স আছে এমন মানুষের নিশ্চিহ্ন হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা বাতিল হয়ে যাওয়ার কারণে সেটা হয়ত এখন আর সম্ভব না।

আরও জানতে পড়ুন


ঢাকা, সেপ্টেম্বর ১৭(বিডিলাইভ২৪)// ই নি
 
        print



মোবাইল থেকে অ্যাপস ডাউনলোড করুন
android iphone windows




bdlive24.com © 2010-2014
Powered By: NRB Investment Ltd.