bdlive24

মিষ্টি সম্পর্ক তৈরির বিশেষ কিছু কৌশল!

বুধবার ডিসেম্বর ০৭, ২০১৬, ০১:৪১ পিএম.


মিষ্টি সম্পর্ক তৈরির বিশেষ কিছু কৌশল!

বিডিলাইভ ডেস্ক: মানুষ একা বাস করতে পারেনা। বাবা-মা, ভাই-বোন, আত্মীয়-স্বজন এমন একাধিক সম্পর্ক নিয়েই আমাদের পথচলা। সম্পর্কের টানাপোড়েনে কখনো সম্পর্ক মধুর, কখনো তিক্ত। তবে সম্পর্কে তিক্ততা বা চিড় ধরলে তা কিভাবে সামাল দেয়া যায় তার সুন্দর কিছু উপায় রয়েছে।

দীর্ঘ চলার পথে আমরা নিজেরা যদি একটু ছাড় দিই, বোঝাপড়া করি নিজেদের মধ্যে, তাহলে শীতল সম্পর্কও উষ্ণ হয়ে ওঠে। কৌশলটা কেবল জানা চাই। কোনো কোনো মানুষের স্বভাবই থাকে অন্যের ওপর কর্তৃত্ব দেখানোর। পরিবারেই হোক, বন্ধুদের বেলাতেই হোক কিংবা কর্মক্ষেত্রে। কেউ কেউ হয়তো নেহাত সম্পর্ক রক্ষার খাতিরে এই কর্তৃত্ব মেনে নেয়। কখনো মুখ ফুটে কিছু বললেই হলো। ব্যস, ঝামেলা বেধে যায়। কিন্তু নিজেকেও বুঝতে আমার এই কতৃত্ব ফলানোতে কারো কোনো ক্ষতি হচ্ছে কিনা!

দাম্পত্য জীবনে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সম্পর্কের ওঠানামা, সম্পর্কে জট বাঁধে কখনো কখনো। ভালোবেসে কিংবা দেখে-শুনে হোক, বিয়ে মানে অনেক সময় একটি জটিল অঙ্কও। তবে বুঝতে পারলে উত্তরটা বেশ সোজা। শ্বশুরবাড়ির রসায়নটিও কম জটিল নয়। নতুন বউ, নতুন পরিবেশে নিজেকে মানিয়ে নেবে, কেবল এই মানিয়ে নেয়া যেন সেই বউটির দায়িত্ব, অন্যের কোনো দায়ই নেই। এটা করা ঠিক নয় পরিবারের সবাই যদি ঘরে আসা নতুন বউকে আদর করে মানিয়ে নেয়। তাহলে তো বিষয়গুলো সবার জন্য সহজ এ জটমুক্ত হয়।

পরিবারে সবার মতামতও সবসময় এক হয় না। একসঙ্গে থাকতে গেলে মনোমালিন্য স্বাভাবিক ব্যাপার। এমন কিছু ঘটলে দুপক্ষই সামাল দিন। সামনাসামনি মিটিয়ে ফেলুন। অযথা তিলকে তাল না করাই ভালো।

নতুন বিয়ের পর স্বামীকে চোখে হারাবেন ঠিকই। কিন্তু সংসারে সবার সঙ্গে আলাপ বাড়াতে হবে, তাদেরও সময় দিতে হবে। অনেক স্বামী বড় খুঁতখুঁতে। পান থেকে চুন খসলে মেজাজ গরম। সবকিছু নিখুঁত হতে পারে না—এই সরল সত্যটিই মানতে চান না স্বামী। এ বড় অন্যায়। আধুনিক নাগরিক জীবনের মর্মে ঢুকে গেছে দৌড় দৌড় ইঁদুরদৌড় আর টেনশন। তাই সবাই ব্যস্ত। স্বামী-স্ত্রী দুজনে কর্মজীবী হলেও সংসারের বড় দায়িত্ব যেন স্ত্রীতেই বর্তায়। এই কালচার এখনো তেমন পাল্টায়নি।

অফিস থেকে ফিরে স্বামী অফিস ফেরত স্ত্রীর কাছে দাবি করেন ধূমায়িত এক কাপ চা ও নাশতা। শেয়ারিং ও কেয়ারিং যেন একপেশে, তবে ব্যতিক্রমও আছে। স্বামী-স্ত্রীর সংসারে অবশ্য মনান্তর হবে, ঝগড়াঝাঁটি, মান-অভিমান, ভুল-বোঝাবুঝির ক্ষণগুলো আসবে, একান্ত কাছের এই সম্পর্কের এই রংও বদলায়। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে মিল-অমিলও হবে। কেউ হয়তো ‘বেড টি’ ভালোবাসেন, কেউ দাঁত না মেজে খান না। কেউ গল্পের বই পড়তে পড়তে ঘুমান, কেউ চান ঘর অন্ধকার ঘুম। আলো জ্বাললে ঘুমাতে পারেন না।

কিন্তু অমিলগুলো বড় করে দেখা কেন? কম-বেশি ছাড় দিয়ে নিজেদের মধ্যে সমঝোতা করে নিলেই হয়। পরিবারের পাঁচজনের সঙ্গে তো পথ চলতে হবে। সমস্যাকে যদি মনে করা হয় চলার পথে নিজের শক্তিপরীক্ষা—জীবন হলো কৌতুক রস বজায় রেখে চলা, ভালোবাসার মানুষকে বুঝতে শেখা। তাহলেই তো হলো উভয়ের সুখের তরী ভাসবে আরো সহজে।

একজনের অপরের উপর প্রভুত্ব বিস্তারের প্রয়াস কেন? নিজের মূল্যবোধ অন্যের ওপর চাপানো কেন? বাড়ির বাজার কী হবে, বউ কার সঙ্গে মিশবে, কোন পোশাক পরবে, সন্তানের সব ধরনের সিদ্ধান্তই চাপান স্বামী। এটি না করে দৃষ্টিভঙ্গিতে উদারতা আনতে হবে। অন্যকে ছোট করে দেখার প্রবণতা এড়িয়ে চলতে হবে। তা না হলে তিক্ততা বাড়বে।

ভালোবাসার মানুষকে জায়গা দিন, বুঝতে শিখুন, পরস্পর বোঝাপড়া দৃঢ় করুন। পরস্পর বন্ধু হয়ে উঠুন। দুজনে একসঙ্গে একান্তে কিছু সময় কাটান। বিশেষ কোনো দরকার না থাকলেও ফোন করে, এসএমএস করে খোঁজখবর নিন।

কর্তৃত্বপরায়ণ মনোভাব থাকে, এমন কিছু বন্ধুও হয় কখনো কখনো। ধরা যাক, বন্ধুরা মিলে কোথাও যাবে, সবটার মধ্যে একধরনের ছড়ি ঘোরানোর প্রবণতা থাকবে তার। এটি থেকে বন্ধুত্বেও ফাটল ধরে। আমরা যেন বুঝি মনান্তর মিটে যেতে যেতেও মিটে না যখন দুয়ার আগলে দাঁড়ায় অহং। পরস্পরকে প্রতিদ্বন্দ্বী না ভেবে একই টিমের খেলোয়াড় ভাবা সুখের চাবিকাঠি।

অফিসেও সে রকম সহকর্মীদের সঙ্গে অশান্তি হয়। অফিসের ছোট অশান্তি যেন বড় না হয়, তাও দেখতে হবে দুপক্ষকেই। প্রয়োজন নিজের মধ্যে আন্তরিক যোগাযোগ বাড়ানো। ছোটখাটো মনোমালিন্য মনে পুষে না রাখাই ভালো।


ঢাকা, ডিসেম্বর ০৭(বিডিলাইভ২৪)// জে এস
 
        print



মোবাইল থেকে অ্যাপস ডাউনলোড করুন
android iphone windows




bdlive24.com © 2010-2014
Powered By: NRB Investment Ltd.