সর্বশেষ
শনিবার ১১ই ফাল্গুন ১৪২৪ | ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৮

হাল ফ্যাশনে চলছে মেয়েদের শেরওয়ানি

মঙ্গলবার ৩১শে জানুয়ারী ২০১৭

590576080_1485855117.jpg
বিডিলাইভ ডেস্ক :
এতদিন শেরওয়ানি শুধু ছেলেদের পোশাক হিসেবে ব্যবহৃত হত। কিন্তু ইদানীং মেয়েরাও বেছে নিচ্ছেন শেরওয়ানি। বিশেষ করে বিয়ের কনে যারা যারা একটু অন্য রকম পোশাক পরতে চান, তারা শেরওয়ানির দিকে ঝুঁকছেন।

ছেলেদের শেরওয়ানির সঙ্গে মেয়েদের শেরওয়ানির কিছু পার্থক্য আছে। মেয়েদের শেরওয়ানির ভিন্নতা কাটছাঁট আর নকশার ধরনে। দৈর্ঘ্য হাঁটুর নিচে নামানো হয় না। আর নিচের দিকটা বেশিরভাগই হয় ডিম্বাকৃতির (ওভাল)।

ফিউশন করতে চাইলে সামনে খাটো দিয়ে পেছনে লম্বা ঝুলও দেওয়া যেতে পারে। মানে ছেলেদের শেরওয়ানির মতো এটি একদম সোজা থাকে না। কাঁধ চওড়াই থাকবে, কিন্তু পোশাকটি হবে কলি কাটের।

মেয়েদের শেরওয়ানিতে ওপরের দিকে ভারী কোনো নকশা থাকে না। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই নিচের দিকে নকশা করা হয়। এ ছাড়া কলারে আর হাতায় কাজ থাকে। শেরওয়ানির সঙ্গে চাপা প্যান্ট ভালো লাগে। প্যান্টটি প্রিন্টের বা নকশা করা হলেও মন্দ লাগবে না।

এছাড়া চাইলে লম্বা পোশাকের ওপরেও শেরওয়ানি পরা যেতে পারে। আর বিয়ের কনে হলে প্যান্টের বদলে স্কার্টের সঙ্গে শেরওয়ানি পরলে ভালো দেখাবে। সাধারণত বউভাত অনুষ্ঠানে এই পোশাক মেয়েরা বেশি পছন্দ করছেন।

মেয়েদের শেরওয়ানির বোতামে থাকছে কারুকাজ। বোতামের পরিবর্তে পাইপ, পুঁতি বা চেইনও ব্যবহার করা যেতে পারে। পেছনে, পিঠের কাছে ছোট করে কোনো নকশা করা যায়। তবে পেছনের পুরোটা জুড়ে কাজ না করাই ভালো।

কাতান ও মখমলের কাপড় দিয়ে তৈরি হচ্ছে মেয়েদের শেরওয়ানি। তার ওপর আবার করা হচ্ছে ভারী কাজ। পোশাক আর এর সঙ্গে মানানসই গয়না পরে নিলে ওড়না ছাড়াই এটি ভালো লাগবে। অথবা নেট বা মখমলের কাপড় দিয়ে শালের মতো কিছু বানিয়ে নেওয়া যেতে পারে। নেটের ওড়নার চারপাশে চওড়া লেস লাগালে সুন্দর দেখাবে। যদি কনের পোশাক হয়, তাহলে পুরো ওড়নায় কাজ থাকলেও খারাপ লাগবে না।



পোশাকটি জমকালো হওয়ায় সাজ বেশি গাঢ় হবে না। বরং এই পোশাকের সঙ্গে গয়নাগুলো হতে পারে ভারী ও ঐতিহ্যবাহী।

শেরওয়ানির ওপরের দিকে হালকা কাজ থাকছে এবং বেশির ভাগ ক্ষেত্রে কোনো কাজই থাকছে না। তাই কয়েক লহরের মালা বা হার এর সঙ্গে ভালো লাগবে। লম্বা আকৃতির ঝুমকা ও চ্যাপটা দুল এর সঙ্গে মানাবে। হাতে ঐতিহ্যবাহী নকশার বালা বা এক হাতে রতনচূর পরা যেতে পারে।

পোশাকের কলার ও কাঁধে নকশা থাকে বলে চুল খুলে না রেখে টান টান করে বেঁধে রাখলেই ভালো। তা না হলে শেরওয়ানির নকশাই তো দেখা যাবে না। বেণি অথবা চুল সামান্য ফুলিয়ে খোঁপা করে নিলে খুব মানাবে।

এই পোশাকের সঙ্গে চাপা প্যান্টই পরুন আর নিচে লম্বা ড্রেস, পেনসিল হিলের সঙ্গে সবচেয়ে মানানসই। জারদৌসি নকশার নাগরা যদি পোশাকের সঙ্গে মানিয়ে যায়, তাহলে সেটিও পরতে পারেন। আর হাতে ক্লাচ নেবেন নাকি বটুয়া, সেটিও নির্ভর করছে পোশাকের নকশা ও আপনার ব্যক্তিত্বের ওপর।

শেরওয়ানি মাপ দিয়ে বানিয়ে নিলেই ভালো। কারণ ফিটিং ঠিকঠাক না হলে এই পোশাকের সৌন্দর্য পুরোটাই জলে যাবে। কাটছাঁটের কৌশল সাধারণ নয় বলে এটি অভিজ্ঞ দরজির কাছ থেকে বানানোই ভালো।

শুধু বিয়ের কনেই না, বোন বা ঘনিষ্ঠ বান্ধবীর বিয়েতে এটি হতে পারে হালের স্টাইলিশ পোশাক।

ঢাকা, মঙ্গলবার ৩১শে জানুয়ারী ২০১৭ (বিডিলাইভ২৪) // টি এ এই লেখাটি 1307 বার পড়া হয়েছে