bdlive24

নিয়তি তাদের নিয়ে গেল লেগুনায়

বৃহস্পতিবার মার্চ ০২, ২০১৭, ০১:২১ এএম.


নিয়তি তাদের নিয়ে গেল লেগুনায়

কাহহার সামি: শিশু! এ যেন এক প্রস্ফুটিত ফুলের নাম। যার আলোয় আলোকিত হওয়ার কথা অনেকের। সেখানে তার নিজের আলোই যদি নিভে যায় ভয়ংকর এক পেশা শিশু শ্রমের কারণে। তাহলে ‘আজকের শিশু আগামী দিনের ভবিষ্যৎ’ কথাটার কতটা যোক্তিকতা রয়েছে তা কারোরি জানা নাই। যে শিশুর ভুবনটা হওয়ার কথা ছিল স্কুলের আঙ্গিনা এখন সে শিশুর ভুবন যেন শ্রমের মধ্যে সীমাবদ্ধ।
 
এমনি এক শিশু লেগুনার হেলফার জোবায়ের ২০১৬ সালে প্রাথমিক সমাপনী শেষ করে পড়াশুনা থেমে যায়। ‘টাকার অভাবে পড়া বাদ দিয়া দিই। এখন কামাই করে যা পাই তা বাপ মারে দিয়া দিই, কিছু নিজেও খরচ করি। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত কাজ করে ২৫০ টাকার মত পাই। পড়লে কি আর এডা পাইতাম? পড়ালেখা ভাত দেয় না টাকা ভাত দেয়। এভাবে বিষন্ন মুখে বললেন এগারো বছরের শিশু জোবায়ের।

এমন হাজারো জোবায়েরের প্রশ্ন আমাদের সমাজে দেখা মেলে। তার কতটা সমাধান আমরা দিতে পেরেছি? নিয়তি বড়ই অভাগা! কারো ঠাঁই হয় বহুতল ভবনে আর কারো ঠাঁই হয় লেগুনাতে।

অন্যদিকে পড়ার ইচ্ছা থাকা সত্যেও বাবার জন্য মুঠোফোন কিনে দিতে চায় ৮ বছরের শিশু শাকিল। অদম্য ইচ্ছা নিয়ে শাকিল বলেন, ‘বাপের জন্য ফোন কিনব বলে হেলফারি করে টাকা জমাচ্ছি। ক্লাস থ্রির পরীক্ষা শেষ করে দু’মাস হল এখানে কাজ করি। পড়ার ইচ্ছা আছে কিন্তু টাকা পয়সা পামো কই। আমাগোত আর কেউ নাই।’

কোন শিশুকেই এখানে জোর করে কাজ করানো হয় না। হয় তারা পরিবারের অভাব অনটনের কারনে, না হয় কারো বাবার পরিচয় মেলে না আবার কারো কারো বাবা-মা কারোরি দেখা মেলে না, যার কারণে এক প্রকার বাধ্য হয়ে তাদের কাজ করতে হয়।

লেগুনার মালিক সিকদার বলেন,  ‘এখানে কাউকে জোর করে আনা হয় না। তারা নিজেরাই কাজের জন্য আসে তখনই আমরা তাদের নিই। প্রতিদিন তাদের আমরা খাওয়া খরচ বাদে ২৫০/৩০০ টাকা দিই।’
    
শিশু শ্রম জরিপে উল্লেখ করা হয়েছে, দেশে সব মিলিয়ে শ্রমে নিয়োজিত ২৪ লাখ ৭০ হাজার শিশু রয়েছে গ্রামীণ অঞ্চলে। শহরে এই সংখ্যা ৫ লাখ ৭০ হাজার এবং সিটি করপোরেশন এলাকায় রয়েছে ৪ লাখ ৩০ হাজার। ২১ লাখ ছেলে শিশু শ্রম দিচ্ছে, অন্যদিকে মেয়েদের সংখ্যা হলো সাড়ে ১৩ লাখ।

কর্মে নিয়োজিত শিশুদের ৩১ ভাগ স্কুলে যাচ্ছে। পরিবারে সহযোগিতার ফলে এক-তৃতীয়াংশ শিশু কখনোই স্কুলে যেতে পারছে না। এর বাইরে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ শিশুর পরিবার পড়াশোনার খরচ জোগাড় করতে পারছে না।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, দিনে গড়ে একটি শিশু সাড়ে ৬ ঘণ্টা কাজ করছে। মাসে আয় করছে মাত্র ৫ হাজার ৯শ টাকা। সিটি করপোরেশনের অনুযায়ী গড়ে ৭ হাজার ১শ টাকা। গ্রামীণ এলাকায় গড়ে আয় করছে সাড়ে ৫ হাজার টাকা।

বাংলাদেশের শিশু শ্রমের অন্যতম কারণ হলো দারিদ্রতা আর পরিবার ভাঙ্গন। যার ফলে অধিকাংশ শিশুর ভবিষ্যৎ ‘শূ্ন্যের’ মধ্যে ঘুরপাক খায়। যা ‘শুণ্যের’ গন্ডি ফেরিয়ে আর ঐ শিশুর উজ্জল ভবিষ্যৎ পরিপূর্ণ হয় না।

এ অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে হলে অর্থাৎ শিশু শ্রম নিবারণের জন্য দরকার সরকারসহ বিভিন্ন এনজিও গুলোর সমন্বিত সুফল উদ্যোগ।



ঢাকা, মার্চ ০২(বিডিলাইভ২৪)// পি ডি
 
        print


মোবাইল থেকে অ্যাপস ডাউনলোড করুন
android iphone windows




bdlive24.com © 2010-2014
Powered By: NRB Investment Ltd.