সর্বশেষ
শনিবার ১১ই ফাল্গুন ১৪২৪ | ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৮

জীবনযুদ্ধে অদম্য রেহানা বুবু

বুধবার ৮ই মার্চ ২০১৭

688295091_1488965567.jpg
নাইমুর রহমান, নাটোর থেকে :
জীবনানন্দ দাসের বনলতা সেনের শহর নাটোর থেকে ১৭ কিলোমিটার দক্ষিণে বাগাতিপাড়া উপজেলা। পিচঢালা পথবেয়ে চলতে গিয়ে উপজেলা পরিষদের দেড় কিলোমিটার দূরে চোখে পড়বে বিহারকোল বাজার। বাগাতিপাড়া পৌরসভার অর্ন্তগত পদ্মার শাখা বড়াল নদের তীরে অবস্থিত বাজারটি। অদূরেই রয়েছে জমিদার গিরিশ রায়ের ঐতিহাসিক বাড়ি। বাজারের সাথেই গালিমপুর ব্রীজ। সেই ব্রীজে উঠতেই দেখা মেলে ছোট্ট একটি চায়ের দোকান। দোকানে চা বানাচ্ছেন মধ্য বয়সী এক নারী, নাম রেহানা। সবাই ডাকে রেহানা বুবু। বয়স ৫৫। চোখের নিচে কাল দাগ, কুচকে গেছে শরীরের চামড়া। মুখে বলি রেখা। দেখলেই মনে হয় জীবন যুদ্ধে ক্লান্ত, পরিশ্রান্ত এক নারী।

চা পান করতে গিয়ে কথা হয় তার সাথে। অকপটে জানালেন তার জীবন সংগ্রামের কাহিনী। সহায় সম্বলহীন রেহানাকে শিশুকাল থেকেই নামতে হয় জীবনযুদ্ধে। বাবার অভাব অনটনের সংসার। প্রবল ইচ্ছা থাকা সত্বেও পড়ালেখা হয়নি শিশু রেহানার। মামা কালু প্রামানিকের সংসারে সহযোগিতা করার সুবাদে আশ্রয় মেলে মামার বাড়িতে। স্বামী সংসার সর্ম্পকে কিছু বোঝার আগে পাশের আরেক সহায় সম্বলহীন সবজি ব্যবসায়ী কাদেরের সাথে বিয়ে হয় তার। রেহেনার কোল জুড়ে আসে পরপর দুই ছেলে ও এক মেয়ে।

তারপরের অবস্থাটা আরও ভয়াবহ ছিল তার জন্যে। সংসারের প্রতি উদাসীন স্বামী আর অসহায় ছোট সন্তানদের নিয়ে দিশেহারা রেহানা এখানে ওখানে কাজের সন্ধানে ছুটে বেড়িয়েছেন।

হঠাৎ পরিচয় হয় এনজিও কর্মকর্তার সাথে মিলে যায় রেহানার কাজের সুযোগ। পনেরশ’ টাকা বেতনে ওই এনজিওতেই কাজের সুযোগ হয় রেহানার শুরু হয় নতুন জীবন। সেখানেই চা বানানোর হাতেখড়ি হয় তার। আস্তে আস্তে স্বচ্ছলতা ফিরতে শুরু করে তার সংসারে। চাকরিরত অবস্থায় তার তিন সন্তানকে বিয়েও দেন রেহানা। ছয় বছর চাকরী করার পরে পারিবারিক কারণে চাকরী ছাড়তে বাধ্য হন তিনি। আবার রেহানার জীবনে নেমে আসে অন্ধকার।

তবে এবার তিনি হতাশ না হয়ে জমানো কিছু টাকা দিয়ে শুরু করেন বিহাড়কোল বাজারে চায়ের দোকান। মাঝে মাঝে দোকানের কাজে তাকে সহযোগীতা করেন তার স্বামী ও ছেলে। সহজ সরল রেহানার আচরণে মুগ্ধ সবাই। সে কারণে তার বেচা-কেনাও ভাল হয়। প্রতিদিন প্রায় ২শ’ ৫০ থেকে ৩শ’ কাপ চা বিক্রি করেন রেহানা। তাতে যা আয় হয় তা দিয়ে চলছে রেহানার সংসার। এভাবে চলছে প্রায় ১০ বছর। চা বিক্রি করে  এই সময়ে তিনি এক টুকরো বাড়ি করার মত জায়গাও কিনেছেন। সেখানে তিন রুমের একটি আধা পাকা বাড়িও তৈরি করেন রেহানা।
রেহানা স্বপ্ন দেখছেন আরো সুন্দর করে বাঁচার।







ঢাকা, বুধবার ৮ই মার্চ ২০১৭ (বিডিলাইভ২৪) // এস এ এই লেখাটি 595 বার পড়া হয়েছে