bdlive24

যে সমাজে নারীরা পরিবার প্রধানের ভূমিকায়

শনিবার মার্চ ১১, ২০১৭, ০২:৫৮ পিএম.


যে সমাজে নারীরা পরিবার প্রধানের ভূমিকায়

বিডিলাইভ ডেস্ক: যদিও এশিয়া মহাদেশে পিতৃতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থা খুব বেশি সক্রিয় বলে অনেকে মনে করেন। তবে কিছু জায়গায় মাতৃতান্ত্রিক ব্যবস্থার প্রতি শ্রদ্ধার উদাহরণও রয়েছে৷ এতে  অবাক হওয়ার কিছু নাই। এমন কয়েকটি সম্প্রদায় আছে যেখানে নারীরাই পরিবার প্রধানের ভূমিকা পালন করেন৷

মাতৃতান্ত্রিক সমাজ বলতে বোঝায় যেখানে পরিবারের দায়িত্ব থাকে একজন নারীর উপর এবং বংশের ধারাও নির্ধারিত হয় নারীর দিক থেকে৷ মোটের উপর সম্পদের দায়িত্বও মা থেকে মেয়ের উপর বর্তায় এবং বিয়ের পর পুরুষ নারীর ঘরে চলে যান৷ তবে রাজনৈতিক এবং সামাজিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের দায়িত্ব থাকে পুরুষের কাঁধে৷ আর তারা এটাকে বিবেচনা করে ক্ষমতার সুষম বণ্টন হিসেবে৷

মিনানকাবাও (ইন্দোনেশিয়া) :
চার মিলিয়ন মানুষের সম্প্রদায় মিনানকাবাও দুনিয়ার সবচেয়ে বড় মাতৃতান্ত্রিক সমাজ৷ প্রথাগতভাবে এনিমিস্ট হলেও একসময় হিন্দুধর্ম এবং বৌদ্ধধর্ম দ্বারা প্রভাবিত হয়েছে এই সম্প্রদায়৷ বর্তমানে তাদের অনেকে আবার ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন৷ এই সম্প্রদায় মনে করে, কোরআন মেনেই মাতৃতান্ত্রিক সমাজ চালু রেখেছেন তারা, কেননা কোরআনে নারীর সম্পদের মালিক হতে বা কমিউনিটির সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে কোনো বিধি নিষেধ নেই৷

মোসুও (চীন) :
মায়ের নেতৃত্বে বড় পরিবারে থাকতে অভ্যস্ত ম্যোসু সম্প্রদায়ের মানুষেরা৷ তাদের মধ্যে ‘স্বামী’ বা ‘পিতা’ বলে কিছু আসলে নেই৷ এই সম্প্রদায় ‘ওয়াকিং ম্যারেজে’ বিশ্বাসী, অর্থাৎ একজন পুরুষ চাইলে একজন নারীর বাড়িতে যেতে পারেন এবং রাতটি তার সঙ্গে কাটাতে পারেন৷ তবে স্বামী-স্ত্রী একসঙ্গে বসবাসের বিধান নেই এই সম্প্রদায়ে৷

খাসি (ভারত) :
খাসি সম্প্রদায়ের কাছে কন্যা সন্তান জন্ম নেয়া মানেই উৎসবের উপলক্ষ্য৷ আর ছেলে সন্তান এক সাধারণ ব্যাপার৷ সাধারণত পরিবারের সবচেয়ে ছোট মেয়ে সব সম্পদের উত্তরাধিকারী হন৷ কোনো দম্পতির যদি মেয়ে না থাকে, তাহলে তারা একটি কন্যা দত্তক নেয় এবং সব সম্পদ তাকে দিয়ে দেয়৷ মাতৃতান্ত্রিক ব্যবস্থার কারণে অনেক খাসি পুরুষ নিজেদের অধিকারের দাবিতে আন্দোলনেও নামেন৷

চাম (দক্ষিণপূর্ব এশিয়া) :
কম্বোডিয়া, ভিয়েতনাম এবং থাইল্যান্ডে বিস্তৃত চাম সম্প্রদায়ের মানুষরাও মাতৃতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থা অনুসরণ করেন৷ তারা মায়ের পদবি নেন এবং সম্পদের উত্তরাধিকারী হন মা থেকে মেয়ে সবাই৷ আর স্বামী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে সেই সম্প্রদায়ের মেয়েদের পূর্ণ স্বাধীনতা রয়েছে৷

গারো (ভারত, বাংলাদেশ) :
গারো সম্প্রদায়ের মানুষ তাদের মায়ের পদবী গ্রহণ করে আর পরিবারের সবচেয়ে ছোট মেয়ে মায়ের সম্পদের উত্তরাধিকারী হয়৷ অতীতে ছেলেদের বয়ঃসন্ধিকাল শুরু হলে তাদের পরিবার থেকে আলাদা করে গ্রামের ব্যাচেলর ডর্মেটরিতে নিয়ে প্রশিক্ষণ দেয়া হতো৷ কিন্তু খ্রিষ্টধর্মের প্রভাবের কারণে পরবর্তীতে এই চর্চা বাতিল হয়ে গেছে৷ বর্তমানে গারো বাবা-মায়েরা সব সন্তানকে সমানভাবে দেখার চেষ্টা করেন৷

ধারা বদলে যাচ্ছে :
তবে সময়ের সাথে সাথে মাতৃতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থায়ও পরিবর্তন আসছে৷ জীবন ধারণের অন্যান্য সুযোগের চাপ ছাড়াও বিভিন্ন সম্প্রদায়ের পুরুষদের বাঁধার মুখে মাতৃতান্ত্রিক ব্যবস্থা গুরুত্ব হারাচ্ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা৷


ঢাকা, মার্চ ১১(বিডিলাইভ২৪)// জে এস
 
        print


মোবাইল থেকে অ্যাপস ডাউনলোড করুন
android iphone windows




bdlive24.com © 2010-2014
Powered By: NRB Investment Ltd.