bdlive24

নাসার গবেষণা

বায়ু দূষণে বিশ্বে পঞ্চম ঢাকা

শনিবার মার্চ ২৫, ২০১৭, ১০:৫৪ এএম.


বায়ু দূষণে বিশ্বে পঞ্চম ঢাকা

বিডিলাইভ ডেস্ক: বিশ্বে ১৯ মেগাসিটির বায়ু দূষণ তালিকায় পঞ্চম শহর হিসেবে নাম উঠেছে ঢাকার। নাসার গবেষণায় ‘বিশ্বে ভয়াবহ দূষিত বাতাসের নগর’ হিসেবে প্রথমেই রয়েছে থাইল্যাণ্ডের রাজধানী ব্যাংকক, দ্বিতীয়স্থানে রয়েছে চীনের রাজধানী বেইজিং। তালিকায় তৃতীয় স্থানে বুনোস, চতুর্থ স্থানে ভারতের দিল্লি এবং পঞ্চম স্থানে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা রয়েছে বলে গবেষণাপত্রটির ওপর ভিত্তি করে বিজ্ঞান সাময়িকী ‘সায়েন্স’র এক প্রতিবেদনে জানানো হয়।

 শুধু অ্যামোনিয়া দূষণে বিশ্বের দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে জনবহুল শহর ঢাকা। যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার স্যাটেলাইটে বায়ু দূষণের জন্য দায়ী ওজোন, অ্যামোনিয়া, ফরমিক এসিড ও মিথানল- এই চার বিষাক্ত গ্যাসের মাত্রার তথ্যের উপর ভিত্তি করে এই তালিকা করেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, নাসা, যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানের একদল গবেষকদের তিন বছরের বেশি সময় ধরে করা ওই গবেষণাপত্র মার্চে ‘অ্যাটমোসফেরিক কেমিস্ট্রি অ্যান্ড ফিজিক্স বা এসিপিডিতে প্রকাশিত হওয়ার পর পরিবেশ বিজ্ঞানীদের জন্য নতুন দ্বার উন্মোচিত হল।

নাসার উপগ্রহ ‘অরা’য় স্থাপন করা ট্রপোসফেরিক ইমিশন স্পেকট্রোমিটার বা টিইএস যন্ত্রের মাধ্যমে ২০১৩ সালের জানুয়ারি থেকে শুরু হয় এই গবেষণার তথ্য সংগ্রহের কাজ।

কোটি মানুষের বসবাসের স্থান বিশ্বের মেগাসিটিগুলোর ১৮টির প্রতিটিকে ১৬ দিন পর পর প্রায় একই স্থানীয় সময়ে অতিক্রম করে যায় অরার ট্রপোসফেরিক ইমিশন স্পেকট্রোমিটার বা টিইএস। এই পর্যবেক্ষণে বায়ূ দূষণে চার বিষাক্ত গ্যাসের মাত্রা নির্ণয় করা হয়, যা একই সময়ে পৃথিবীর পরিবেশে সাথে সঠিকভাবে তুলনা করা হয়েছে। গবেষণা প্রতিবেদনে দেখা যায়, ফুসফুসের রোগসহ শ্বাসপ্রশ্বাসের বিভিন্ন রোগের জন্য দায়ী বিষাক্ত অ্যামোনিয়া গ্যাস সবচেয়ে বেশি দিল্লির বাতাসে; যা স্বাভাবিক ক্ষতিকর মাত্রার থেকে ৭৩ দশমিক ৩ ভাগ বেশি।

দ্বিতীয় স্থানে থাকা ঢাকার বাতাসে অ্যামোনিয়া রয়েছে স্বাভাবিক ক্ষতিকর মাত্রার থেকে ৫১ দশমিক ৬ ভাগ বেশি। আর তৃতীয় স্থানে থাকা কলকাতার বাতাসে অ্যামোনিয়ার এই মাত্রা ৪৭ দশমিক ১ ভাগ বেশি। খোলা স্থানের মলমূত্র ও কৃষিকাজে ব্যবহার করা সার থেকে সৃষ্ট অ্যামোনিয়া বাতাসে মিসে বায়ুবাহী ক্ষতিকর কণা তৈরি করে, যাতে হতে পারে ফুসফুসের রোগ।

ওজোন গ্যাস দূষণে শীর্ষে রয়েছে পাকিস্থানের করাচি, যেখানে প্রতি একক আয়তনে ৩২ দশমিক ২ পার্টস বিলিয়ন ওজোন গ্যাস রেকর্ড করেছেন গবেষকরা। ঢাকায় করাচির প্রায় অর্ধেক পরিমাণে ( ১৭.১ পার্টস পার বিলিয়ন) ওজোন রয়েছে। ওজোন গ্যাস সাধারণত ট্রপোস্পিয়ার অঞ্চলে পাওয়া যায়। গ্রিন হাউসের অন্যতম এই উপাদান বায়ুমণ্ডলের স্তর ভেদ করে সূর্যালোক সরাসরি পৃথিবীতে আসতে দেয়। ভূ-উষ্ণতার জন্য অন্যতম গ্যাস হিসেবেই ওজোনকে দেখা হয়। ‘সায়েন্স’র প্রতিবেদনে গবেষক দলের অন্যতম সদস্য ও কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের মিরিয়াম মার্লিয়ার বলেন, বায়ু দূষণের জটিল বিষয়গুলো এই গবেষণার মাধ্যমে বোঝা গেছে, যা স্বাস্থ্য ঝুঁকির ক্ষতিকর প্রভাব থেকে মানুষকে সুরক্ষার ব্যবস্থা করবে।

আরও জানতে পড়ুন


ঢাকা, মার্চ ২৫(বিডিলাইভ২৪)// আর কে
 
        print

এই বিভাগের আরও কিছু খবর







মোবাইল থেকে অ্যাপস ডাউনলোড করুন
android iphone windows




bdlive24.com © 2010-2014
Powered By: NRB Investment Ltd.