সর্বশেষ
শনিবার ৬ই শ্রাবণ ১৪২৫ | ২১ জুলাই ২০১৮

দিনাজপুরে প্রকৃতির নয়নাভিরাম সিংড়া ফরেস্ট

সোমবার, এপ্রিল ১৭, ২০১৭

1744037309_1492399731.jpg
শাহ্ আলম শাহী, দিনাজপুর থেকে :
এক সময়ে বাঘ, নীল গাইসহ বিভিন্ন বন্য জীবজন্তুর অবাধ বিচরণের অভায়ারণ্য ছিল সিংড়া ফরেস্ট। সুন্দর নিরিবিলি গাছ-গাছালির মোহনীয় প্রকৃতির নয়নাভিরাম সিংড়া ফরেস্ট। যা দর্শনার্থী, পর্যটকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সমর্থ হয়েছে।

দিনাজপুর জেলা শহর থেকে সড়ক পথে ৪০ কিঃমিঃ উত্তরে বীরগঞ্জ উপজেলার মধ্যে অবস্থিত। বীরগঞ্জ শহর থেকে সিংড়া ফরেস্ট দুরত্ব প্রায় ৫ কিঃমিঃ।

দিনাজপুর জেলা সদর থেকে বীরগঞ্জ হয়ে সড়ক পথে এখানে আসা যায়। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে মানুষ চিত্রবিনোদন বা পিকনিক করার জন্য এখানে আসে। ভ্রমণ পিপাসুদের থাকার জন্য রয়েছে ১টি ছোট পরিসরে রেস্ট হাউজ। রয়েছে দু'টি পিকনিক স্পট । বিভিন্ন স্থান থেকে বহু মানুষ পিকনিক করার জন্য বিশেষ করে শীত মৌসুমে বেশি জনসমাগম ঘটে।

এ বনকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে একেবেঁকে চলা নর্ত নদী। নদীর দু’পাড় দিয়ে যাবার সময় দেখতে পাবেন দু’পাশে বিভিন্ন প্রজাতির বাহারী গাছ।

শাল বনের ভিতরের আগর ও বাঁশ-বেত বাগানও সকলের কাছে দর্শনীয়ও বটে। বনের গভীরে যেতে চোখে পড়বে প্রাচীন পত্রঝরা সিংড়ার বনাঞ্চল শালবন। তবে শাল ছাড়াও জামরুল, তরুল, শিলকড়াই, শিমুল, মিনজিরি, সেগুন, গামার, আকাশমনি, ঘোড়ানিম, সোনালু, গুটিজাম, হরতকি, বয়রা, আমলকি. এবং বিভিন্ন ধরনের নাম না জানা উদ্ভিদ ও লতাগুল্ম গাছ রয়েছে এ বনে। এ ছাড়া খরগোশ, শেয়াল, সাপ, বেজি এবং শকুনসহ বিভিন্ন প্রজাতির পাখি ও পতঙ্গ দেখতে পাওয়া যাবে এই বনে।

প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা, বিদ্যুৎ-পানি ও পর্যটকদের নিরাপত্তার ব্যবস্থা করলেই সিংড়া ফরেস্ট হয়ে উঠতে পারে আকর্ষণীয় এক পর্যটন কেন্দ্র।

ব্যস্ততম শহরের কোলাহল থেকে মুক্তি পেতে নিরিবিলি পরিবেশে মায়াবী হাতছানির এক অনুপম দৃশ্য মহিমান্বিত দিনাজপুরের সিংড়া ফরেস্ট।

দিনাজপুর সামাজিক বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোহাম্মদ আব্দুল আউয়াল সরকার জানান, গত ২০১০ সালের ১০ অক্টোবর বীরগঞ্জের ভোগনগর ইউপির ৮৫৫.৫০ একর ভূমির উপর অবস্থিত এই বনের ৭৫৫.৫০ একর জমি জাতীয় উদ্যান হিসাবে ঘোষনা করেছে বনবিভাগ। সিংড়া মৌজার নামানুসারে বনটির নামকরণ হয়েছে সিংড়া ফরেস্ট।

১৮৮৫ সালে বনটি অধিভুক্ত করা হয় এবং বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭৪ সালে বনবিভাগের অধীনে গেজেট প্রকাশ হয়। এই গহীন অরণ্য ধীরে ধীরে লোকালয়ে পরিণত হতে থাকে। গাছ চুরিসহ সংরক্ষণের অভাবে গাছে-গাছালি কমে যায়। এর পরেই নতুন করে বন বিভাগ সিংড়া শাল বনের জীব-বৈচিত্র্য সংরক্ষণের প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে।

বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোহাম্মদ আব্দুল আউয়াল জানান, সরকার সিংড়া ফরেস্টকে আরও গহীন অরণ্যে পরিণত করতে গত জুন থেকে ৯০ হাজার গাছ লাগানোর পরিকল্পনা হাতে নেয়া হয়। এরই মধ্যে ৩০ হাজার গাছ লাগানো হয়েছে। এ ছাড়া এই বনের চারপাশে আদিবাসীদের নিয়ে ৯টি বনরক্ষা কমিটি গঠন করা হয়েছে।

এই বনের মনোরম প্রাকৃতিক দেখতে আসা দর্শনার্থীর সংখ্যা প্রতি দিন গড়ে ১৮০-২০০ জন। রাবার ড্যামের মাধ্যেমে বারোমাস নর্ত নদীকে সজীব রাখা, একটি টাওয়ার স্থাপন, শিশু পার্ক তৈরি, দর্শনার্থীর বসার চেয়ার তৈরি ও সুন্দর একটি ফটক নির্মাণসহ কিছু সংস্কারমূলক কাজ শুরু হলেই এখানে দর্শনার্থীর সংখ্যা তিন থেকে চার গুণ বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

দর্শনার্থীর সংখ্যা বাড়লে রাজস্ব আয়ের পাশাপাশি বনের অধিবাসীদের আয় ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং সিংড়া শালবন ফিরে পাবে তার অতীত ইতিহাস।

আরডিআরএস এর প্রকল্প ব্যবস্থাপক প্রদীপ কুমার সরকার বলেন, জীব-বৈচিত্র্য সংরক্ষণ বলি অথবা বন রক্ষাই বলি এর জন্য বনের চারপাশে বসবাসকারী জনগোষ্ঠীর সক্রিয় ভূমিকার বিকল্প নাই। পাশাপাশি প্রয়োজন বনবিভাগের বন্ধুসূলভ আচরণ।

সিংড়া শাল বনের হারানো জীববৈচিত্র্য ফিরিয়ে আনার জন্য বন থেকে শালের ডালপাতা সংগ্রহকারী ও সকল জনসাধারণের মধ্যে গণসচেতনতা বাড়ানোসহ বন নির্ভরশীলতা কমানোর লক্ষে বিকল্প আয়ের অংশ হিসাবে আরডিআরএস বাংলাদেশ ৮ লক্ষ টাকার ঘূর্ণয়ামান তহবিল অনুদান হিসাবে দিয়েছে।

ঢাকা, সোমবার, এপ্রিল ১৭, ২০১৭ (বিডিলাইভ২৪) // এস আর এই লেখাটি ১৩৯৮ বার পড়া হয়েছে


মোবাইল থেকে খবর পড়তে অ্যাপস ডাউনলোড করুন